টেকনাফ পৌর শহরে কসাইদের গলাকাটা বাণিজ্যঃ দেখার কেউ নেই

মোঃ আশেক উল্লাহ ফারুকী
মিয়ানমার থেকে শাহপরীরদ্বীপ করিডোর দিয়ে ঝাঁকে ঝাঁকে গবাধীপশু আমদানি হলেও টেকনাফ পৌর শহরে গবাধীপশুর গোস্তের মূল্য নিয়ন্ত্রনহীন হয়ে পড়েছে। বৈধ ও অবৈধ কসাইরা সিন্ডিকেট সৃষ্টি করে প্রতি কেজি গোস্ত থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। লাইন্সেধারী কসাইরা শর্ত অমান্য করে ভোক্তাদের প্রতারনার ফাঁদে ফেলে এ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে বলে ভোক্তারা অভিযোগ করেন। টেকনাফ পৌর শহর গোস্তর বাজার পরিদর্শন করে জানা যায়। পৌর শহরের অলিতে গলিতে বেঙের ছাতার ন্যায় গজে উঠেছে, কসাইদের গোস্তের দোকান। প্রায় গোস্তের দোকানে বৈধ লাইসেন্স নেই। ওজনে কারচুপি, মিটার বিহীন গোস্ত বিক্রি, বাটখারা দিয়ে বেশীরভাগ প্রতিকেজিতে গোস্তে অতিরিক্ত হাঁড় ও সর্বি প্রদান, গোস্ত কর্তনের ব্যবহৃত উপকরনের উপর কুকুরের হানা এবং অস্বাস্থ্য পরিবেশের উপর গোস্ত বিক্রি ও জরেহ। প্রতিকেজি অতীতে গোস্ত বিক্রি হতো ৪ থেকে ৫শত টাকা। এখন লাপিয়ে লাপিয়ে বাড়ছে ৬ থেকে ৭ শত টাকা। প্রশাসনের বাজার মনিটরিং কার্যক্রম কাগজে থাকলে ও বাস্তবে কর্মক্ষেত্রে নেই। ফলে ভোক্তার গোস্ত ব্যবসায়ী প্রতারক চক্রের হাতে প্রতিনিয়তই প্রতারিত হচ্ছে। ভাম্যমান আদালত পরিচালনা নিতান্ত হয়ে পড়েছে। বিষয়টি ভোক্তাদের দাবী। ভোক্তা অধিকার আইন আছে, প্রয়োগ নেই। ওজনে কারচুপি এবং গোস্তের চেয়ে হাড্ডি ও সর্বি পরিমাণ বেশী দিয়ে কসাইরা এভাবে ভোক্তাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। অভিযোগ উঠেছে, পৌর এলাকায় পশু জবেহ করার স্বাস্থ্য সম্মত কসাই খানার ব্যবস্থা না থাকায় কসাইরা যত্রতত্র স্থানে পশু জবেহ করে আসছে। বিশেষ করে পশু স্বাস্থ্য পরীক্ষা নীরিক্ষা ছাড়াই পশু জবেহ করে কসাইরা গোস্ত বাজারজাত করছে। এ নিয়ে ভোক্তাদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া কসাইরা বাসি মাংস প্রিজিং করে বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে। ভোক্তারা এ ব্যাপারে প্রশাসনসহ পৌর কর্তৃপক্ষের নিকট জোরালো দাবী উঠেছে যে, প্রতারক কসাইদেরকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি প্রদান করা ইউক। সামনে রমজান গোস্ত বিক্রি নিয়ন্ত্রনে আনতে না পারলে, হয়তো এ নিয়ে ভোক্তা ও কসাইদের মধ্যে অপ্রতিকর ঘঠনা ঘটার আশাংখা রয়েছে।

 

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।