টেকনাফ পৌর শহরে ঘরে ঘরে রমরমা কোচিং বাণিজ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
টেকনাফ পৌর শহরে বেঙের ছাতার ন্যায় ঘরে ঘরে গজে উঠেছে রমরমা কোচিং বাণিজ্য। প্রতি মাসে অসহায় শিক্ষার্থীর কাছ থেকে কোচিং পড়ার নামে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। অনগ্রসর এবং জরে পড়া শিক্ষার্থীদের প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষায় পাশ করার নামে কোচিং (বাণিজ্য) প্রতিষ্ঠান গড়ার মূল উদ্দেশ্য। টেকনাফ পৌর শহরের কলেজ মাধ্যমিক শিক্ষার প্রতি মনোনিবেশ ব্যাতিরেখে কোচিং বাণিজ্যের প্রতি বেশী উৎসাহিত করছে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের একশ্রেণী অর্থলোভী শিক্ষকেরা। পৌর শহরের যে সব পাড়ায় বেঙের ছাতার ন্যায় গজে উঠা কোচিং বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে উপজেলা প্রশাসন সংলগ্ম পুরাতন পল্লান পাড়া, ইসলামাবাদ, অলিয়াবাদ, কলেজ পাড়া, শীলবনিয়া পাড়া, কোলালপাড়া, কে কে পাড়া ও বাজার পাড়া। ভোর সকাল ও বিকালে এসব পাড়ার ঘরে ও নিজ প্রতিষ্ঠানে কোচিং বাণিজ্য থাকে সরগরম। গরীব পরিবারের অসহায় ও মধ্যবর্তী পরিবারের ছেলে ও মেয়ে শিক্ষার্তীরা থাকে কোচিং বাণিজ্যের প্রতি বেশীরভাগ থাকে আকৃষ্ট। টেকনাফ উপজেলার অন্যান্য উপজেলার চেয়ে শিক্ষার হার একেবারে অবহেলিত। কোচিং প্রতিষ্ঠানে পড়া শিক্ষার্থীরা ক্লাশের প্রতি বেশী মনোযোগ দিচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন কোচিং প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীর কাছ থেকে জানা যায়, কোচিং এটি নামে মাত্র। স্যারেরা স্ব স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বার্ষিক পরীক্ষায় বেশী নাম্বার দিয়ে পাশ করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে কোচিং বনাম কোচিং বাণিজ্যকে শিক্ষার্থীরা বেশী গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রশাসনের নাকের ডগার উপর এসব দৃশ্য হরহামেশা চললেও এটির ব্যাপারে রয়েছে রহস্যজনক নীরব। শিক্ষা মন্ত্রনালয়, শিক্ষার প্রতি আকৃষ্ট এবং মনোনিবেশ করতে প্রতিষ্ঠান সমূহে সৃজনশীল শিক্ষা ব্যবস্থাসহ সেকাযের চালু করেছে। কোচিং বাণিজ্য রোধে শিক্ষা মন্ত্রনালয় প্রশাসনসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রদানের কাছে প্রজ্ঞাপন জারী করার পরও কোচিং বাণিজ্যের উপর এর প্রভাব পড়েনী। শিক্ষামন্ত্রনালয়ের জারীকৃত প্রজ্ঞাপনটি স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের লাল ফিতার মধ্যে আবদ্ধ রয়েছে। প্রতিষ্ঠান প্রধানগণ এর প্রতি গুরুত্ব না দেয়ায়, ক্রমান্নয়ে বেড়েই চলেছে, কোচিং বাণিজ্য কার্যক্রম। অনুসন্ধানে জানা যায়, টেকনাফ পৌর শহরে উল্লেখিত পাড়া সমূহের ঘরে ভাড়া বাসা এবং প্রতিষ্ঠানে বেশীরভাগ মাধ্যমিক স্থরের ছেলে ও মেয়ে শিক্ষার্থীরা ভোর সকালে দলবেঁধে কোচিং প্রতিষ্ঠানে যেতে দেখা যায়। কোচিং বাণিজ্যের প্রতি আকৃষ্ঠ হওয়া শিক্ষার্থীরা বাড়ী থেকে কিছু না খেয়ে তড়িঘড়ি করে চলে আসে কথিত কোচিং ক্লাশে। ফলে শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠানে এসে ক্লাশের পড়ার প্রতি তেমন মনোযোগ দেয়না এবং অনেকেই নানা পীড়াদায়ক রোগে ভোগে। এছাড়া গরীব পরিবারের শিক্ষার্থীরা শিক্ষার ব্যায়ের বোঝা বহন করতে না পেরে অনেকেই ৮ম শ্রেণী থেকে ঝরে পড়ে গিয়ে বিয়ের পিড়িতে বসতে বাধ্য হয়। কাঁক ডাকা ভোরে কোচিং প্রতিষ্ঠানমূখী শিক্ষাথর্ী ছাত্রীরা ইভটিজিং পাগল ও কুকুরের খপ্পরে পড়ে থাকে বলে প্রায় অভিভাবক অভিযোগ করেন। কোচিং এ আসা প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মাসে গড়ে ৫শত টাকা করে হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে কোচিং বাণিজ্যর শিক্ষকেরা। এছাড়াও টেকনাফের হোয়াইক্যং, বাহারছড়া, শামলাপুর, হ্নীলা, টেকনাফ সদর, সাবরাং, নয়াপাড়া, শাহপরীরদ্বীপ ও সেন্টামার্টিনদ্বীপ সকল মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আসপাশে ও প্রতিষ্ঠানে অনুরূপভাবে কোচিং বাণিজ্য চলছে। দূর্নীতি দমন ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, বিষয়টি তারা অবগত হয়ে ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান।

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।