টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমি দখলের অভিযোগ

টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন হাদুরছড়ায় ফৌজদারী কার্যবিধি আইনের ১৪৪ধারা ভঙ্গ করে জোরপূর্বক জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যংপাড়ার মোহাম্মদ কাছিমের ছেলে মফিজুর রহমান, পুরান পল্লান পাড়ার মোহাম্মদ ছৈয়দের স্ত্রী হাছিনা বেগম, সাবরাং মুন্ডারডেইলের ফকির আহমদের ছেলে জয়নাব আক্তার, নতুন পল্লানপাড়ার জালাল উদ্দীনের ছেলে রিয়াজ উদ্দিন, মৃত আলী আহমদের ছেলে মোহাম্মদ ছৈয়দ ১ম পক্ষ হয়ে সাবরাং মুন্ডারডেইল এলাকার মৃত কালা মিয়ার ছেলে নুরুল ইসলাম, হোছন আহমদ, মৌলভীপাড়ার অলি আহমদের গণু মিয়া, হাদুরছড়ার মৃত আবুল কাসিমের চেলে ফরিদা খাতুন ও মৃত মনু মিয়ার মেয়ে আম্বিয়া খাতুনকে বিবাদী করে জোরপূর্বক জমি দখলের অভিযোগ এনে এম.আর মামলা নং- ১৬৮/২০১৮ ইং দায়ের করেন। যার স্মারক নং- ৩৪৮/১৮-তারিখ ১৮/০২/১৮ইং। উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে বিঞ্জ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে টেকনাফ সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে বিরোধীয় জায়গার বিষয়ে সরেজমিন তদন্তপূর্বক মতামতসহ প্রতিবেদন প্রেরণ ও টেকনাফ মডেল মডেল থানার ওসি কে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং বিরোধীয় জমিতে আগামী ১০ জুন ২০১৮ ইং তারিখ পর্যন্ত স্থিতিাবস্থা বজায় রাখতে বলা হয়।
আদালতের নিষেধাজ্ঞাকৃত জমিতে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এসআই মো: মাহির উদ্দীন খাঁনকে দায়িত্ব দেন। এসআই মো: মাহির উদ্দীন খাঁন বলেন, ২য় পক্ষ গং হতে লিখিত নেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আদালতে হাজির বলা হয়েছে।
আদালতের আবেদন সূত্রে জানা গেছে, বিবাদীরা সন্ত্রাসী, ভূমিদস্যু , জবরদখলকারী, অপরের হক ভক্ষণকারী এবং লাঠিয়াল প্রকৃতির প্রভাবশালী। তাই তারা দেশের প্রচলিত আইন কানুন কিছুই মানে না। ধনবল ও জনবলে বলীয়ান হয়ে ধরাকে সরা জ্ঞান করে এবং তারা করিতে পারে না এমন কোন কাজ নেই। বিরোধীয় জমি জরিনা খাতুন প্রকাশ জমিলা খাতুন এর স্থিতিবান রায়তী স্বত্বীয় দখলীয় ছিল। তৎমতে টেকনাফ থানা সাবরাং মৌজার বিএস ৩৮৭,৩৯৩,৩৯৪ নং খতিয়ানে চূড়ান্ত প্রচার আছে এবং জরিনা খাতুন প্রকাশ জমিলা খাতুন তার কিছমত প্রাপ্ত জমিতে ভোগ দখল থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে ২ পুত্র খুইল্ল্যা মিয়া ও দুদু মিয়া প্রাপ্ত হন। খুইল্ল্যা মিয়া মরণে তৎস্বত্ব ১ স্ত্রী, ৩ পুত্র, ৫ কন্যা সৈয়দ হোছাইন, ফজলুল করিম, নুরুল বশর, লায়লা বেগম, রশিদা খাতুন, শামশুন্নাহার, নজুমুর নাহার, আকতার বেগম, নুর জাহান বেগম প্রাপ্ত হন। উক্ত ওয়ারিশগণ ভোগ দখল থাকাবস্থায় টাকার বিশেষ প্রয়োজন হলে গত ১৬/০৮/২০১৭ইং তারিখে ২০১১নং দলিলমূলে ৫৬ শতক জমি মফিজুর রহমান, হাছিনা আক্তার, জয়নব আক্তারকে বিক্রি করেন এবং তাদের নামে নামজারী বিএস ৫১৭৫ নং খতিয়ান সৃজিত হয়। এছাড়া কালা বানু তাহার কিছমত প্রাপ্ত জমিতে ভোগ দখলে থাকাবস্থায় মুত্যু হলে মুহাম্মদ রশিদ, সৈয়দুল ইসলাম, আমান উল্লাহ, নুরুল ইসলাম, রহিমা খাতুন, মাহমুদা বেগম প্রাপ্ত হয়ে তজুননিছা তাহার কিছমত প্রাপ্ত জমিতে পুত্র নুরুল ইসলাম গং প্রাপ্ত হন। তাদের টাকার বিশেষ প্রয়োজনে হওয়ায় ১৯/৭/২০১৭ইং তারিখে ১৭২৩ নং দলিলমূলে ১৪ শতক জমি রিয়াজ উদ্দিন, মোহাম্মদ ছৈয়দ বিক্রি করেন এবং তাদের নামে ৫২০৫ নং খতিয়ান সৃজিত হয়।
এরপর থেকে মেরিন ড্রাইভ সড়কে জমির মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় গায়ের জোরে ১৫/০২/২০১৮ইং তারিখে সকাল ১০টার দিকে জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা চালায়। এব্যাপারে আদালতে জমি দখলের নিষেধাজ্ঞাসহ ভুক্তভোগী প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।