টেকনাফ সেন্টমার্টিন ভাঙ্গা জেটি সংস্কার করা হবে কবে?

টেকনাফ নিউজ ৭১ ডেস্ক []15036348_200098380440744_4141737914866957925_n২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় সিডরের আঘাতে কক্সবাজারের টেকনাফের সেন্ট মার্টিনের জেটির তিনটি গার্ডার ও রেলিং ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরই মধ্যে পেরিয়ে গেছে নয় বছর। কিন্তু এখনো গার্ডার ও রেলিং সংস্কার করা হয়নি। এতে সেন্ট মার্টিনে বেড়াতে আসা পর্যটকদের ঝুঁকি নিয়ে জাহাজে ওঠানামা করতে হয়।
সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নূর আহমদ বলেন, সিডরের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত জেটি দিয়ে জাহাজে ওঠানামার সময় পর্যটকেরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন নৌপথে পাঁচটি জাহাজ চলাচল করে। পর্যটন মৌসুমে এসব জাহাজে করে দৈনিক সাড়ে চার হাজারের বেশি পর্যটক দ্বীপে বেড়াতে আসেন।
স্থানীয় লোকজন বলেন, সিডরের আঘাতে জেটির তিনটি গার্ডার, পার্কিং পয়েন্ট ও রেলিং ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর স্থানীয় লোকজন ও জাহাজ কর্তৃপক্ষ জেটির পাশে গাছ পুঁতে জাহাজে ওঠানামার ব্যবস্থা করে। ক্ষতিগ্রস্ত জেটির পার্কিং পয়েন্ট মেরামত করা হলেও রেলিং ও তিনটি গার্ডার সংস্কার করা হয়নি। এ ছাড়া সাড়ে তিন শ মিটার দীর্ঘ জেটির বিভিন্ন স্থানে রেলিং ভেঙে যাওয়ায় পর্যটকদের সাগরে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।
কুমিল্লা থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক মিজানুর রহমান, কামাল সাঈদ ও ফাতেমা রহমান বলেন, সেন্ট মার্টিনের জেটি পর্যটকদের জন্য মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। জাহাজ থেকে ওঠানামা করার সময় পর্যটকদের আতঙ্কে থাকতে হয়। পর্যটকদের সুবিধার্থে এখনই ক্ষতিগ্রস্ত জেটি সংস্কারের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
পর্যটকবাহী জাহাজ কেয়ারি সিন্দাবাদের টেকনাফের ব্যবস্থাপক শাহ আলম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকে প্রতিবছর ৫০-৭০ হাজার টাকা ব্যয় করে গাছ পুঁতে জাহাজ ভেড়ানো হয়। তিনি বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত জেটির গার্ডার ও রেলিং মেরামত করা দরকার।
সেন্ট মার্টিন ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমদ খান বলেন, জেলা পরিষদ এ জেটি ইজারা দিয়ে প্রতিবছর ২০-২৫ লাখ টাকা আয় করছে। অথচ জেটিটি মেরামতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না।
এলজিইডির সূত্র জানায়, এলজিইডির তত্ত্বাবধানে প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০২-০৩ অর্থবছরে এই জেটি নির্মাণ করা হয়। এলজিইডির টেকনাফ উপজেলা প্রকৌশলী আবসার উদ্দিন বলেন, বর্তমানে জেটির রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের দায়দায়িত্ব জেলা পরিষদের।
কক্সবাজার জেলা পরিষদের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘জেটিটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় আরেকটি জেটি নির্মাণের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব করা হয়েছে। শুনেছি, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নতুন করে জেটি নির্মাণের পরিকল্পনা চলছে।’
ছবি: সূত্র : প্রথম আলো

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।