টেকনাফ স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট স্থগিত ঘোষনা

২3ddddddddd
নিজস্ব প্রতিবেদক {}টেকনাফ স্থল বন্দরে অনিদিষ্টকালের ধর্মঘটের  ডাক দিলেও ৫ দিন ধরে পণ্য খালাস বন্ধ থাকার পর অবেশেষে ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট স্থগিত ঘোষনা করেছে।  ২৬  এপ্রিল শনিবার রাতে টেকনাফ সিএন্ডএফ এসোসিয়েশন কার্যালয়ে ব্যবসায়ীদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেন। সিএন্ডএফ এসোসিয়েশনের সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি দিদার হোসেন সাধারণ সম্পাদক এহতেমুল হক বাহাদুর জানান -গত বৃহ¯পতিবার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ব্যবসায়ী সংগঠনের বৈঠক অনুষ্টিত হলেও কোন ধরনের সুরহা হয়নি। এতে আমাদের ব্যবসার কথা চিন্তা করে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মোজাহিদ উদ্দীনের আটক ব্যবসায়ীদের সামধানের আশ্বাস দিয়ে ধর্মঘট স্থগিত করেছে। উক্ত সমস্যা সমাধান না হলে পরবর্তী কঠোর কর্মসূচী ঘোষনা করা হবে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা।
আর বিষয়টিকে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের রক্ষার মিশন বলে মন্তব্য করেন অনেক সাধারণ ব্যবসায়ী। গত সোমবার রাতে টেকনাফস্থ বিজিবির ৪২ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা টেকনাফ স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জিয়াবুল ও মোহাম্মদ আয়াজ নামে দুই ভাইকে ইয়াবা সহ আটক করে মামলা দায়ের করে। এ ঘটনায় ব্যবসায়ী, ট্রাক মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের উদ্যোগে ওইদিন রাতে সংবাদ সম্মেলন করে তাদের মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত বন্দরের সকল প্রকারের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণার কমসূর্চী দেন। এরপর গত মঙ্গলবার থেকে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত টেকনাফ স্থল বন্দরে সকল ধরনের পণ্য খালাস বন্ধ রয়েছে। টেকনাফ স্থলবন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্টের ব্যবস্থাপক অপারেশন আবু নুর খালিদ জানান, স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মঙ্গলবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের ঘোষনা দিয়ে সকল ধরনের পণ্য খালাস শুক্রবার পর্যন্ত বন্ধ রেখেছে। উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তার কার্যালয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেও কোন ধরনের সুরাহা হয়নি। আর এর কারণে প্রতিদিন গড়ে ১কোটি ৬৪ লাখ রাজস্ব আদায় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। টেকনাফস্থ বিজিবি ৪২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল আবুজার আল জাহিদ জানিয়েছেন- ইয়াবা বিরোধী অভিযানের অংশহিসেবে অভিযুক্ত ২ ব্যবসায়ীকে আটক করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এখন এটা আইন-আদালতের ব্যাপার। টেকনাফ থানা পুলিশের ওসি রনজিত কুমার বড়–য়া  জানিয়েছেন, আটক ওই ২ ব্যবসায়ীকে আদালতে প্রেরণ করলে আদালতে জেল হাজতে প্রেরণ করে। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যাদেরকে মাদক মামলায় অভিযুক্ত করে আদালতে পাঠানো হয়েছে তাদেরকে স্থলবন্দর ও বন্দরের মালামালের সঙ্গে আটক করা হয়নি। এরপরও কিছু নামধারী ব্যবসায়ী তাদের স্বার্থ হাসিলের উদ্যেশ্যে যখন তখন ধর্মঘট দিয়ে বন্দর অচল করে রাখে। এতে তাদের কিছু আসে যায় না ক্ষতি কেবল প্রকৃত ব্যবসায়ী ও সরকারের। প্রসঙ্গত, টেকনাফে ইয়াবা বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে সোমবার ইয়াবাসহ ৫ জনকে আটক করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি-৪২) সদস্যরা। এদের মধ্যে মো. আয়াছ ও জিয়াবুল সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ ও সদস্য। তাদেরকে আটকের প্রতিবাদে ৩ টি সংগঠন মঙ্গলবার থেকে এ ধর্মঘট পালন করছে।  এদিকে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে স্থল বন্দরের অচলবস্থা নিরসনের উদ্যোগে টেকনাফ উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা কার্যালয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও বাংলাদেশ-মিয়ানমার দ্বিপাক্ষিয় জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ অব বর্ডার ট্রেডের সভাপতি মো. আবুল বাশার, উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সহকারি কমিশনার (ভূমি) সেলিনা কাজী, স্থলবন্দরে ব্যবস্থাপক অপারেশন আবু নুর খালিদ, সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ এর উপস্থিতিতে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।