তিন দিন ধরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন টেকনাফ সেন্টমার্টিন


সংকেত নিম্নচাপ না থাকলেও বাতাসের গতিবেগ ৫ নং সংকেতকে ও ছাড়িয়ে গেছে।দ্বীপের চতুর্দিকে জোয়ারের পানি হানা দিচ্ছে, সদ্য চাষ করা এক পশলা ধান লবন পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছে।অনেকের মিস্টি পানির টিউবওয়েল লবন পানির পুকুর হয়ে যাচ্ছে।এ সময় দ্বীপের এই দৃশ্যগুলি কোন দায়িত্ববান মানুষগুলি দেখতে পায়না।দেখতে পেলেও এযাবত কোন দেশপ্রেমিক দায়ীত্ববান মহল থেকে শুনা যায়নি দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন কে রক্ষার জন্য কিছু একটা করা দরকার বা করতে হবে।কেন আমাদের মাতৃভুমি সাগরকন্যা সেন্টমার্টিন এত বৈষম্্যেরর শিকার।বর্ষা মৌসুম বা সাইক্লোন মৌসুম আসলে দ্বীপের মানুষগুলোর প্রতিটা মূহুর্তই যেন একেকটি বছরে পরিনত হয়।চাষীরা ধান চাষ করলে অধিকাংশ ধানক্ষেতে লবন পানি ডুকে নষ্ট হয়ে যায়,অন্যদিকে জেলেরা খারাপ আবহাওয়া দেখে কিংবা মাসে দুই-তিনটা লঘুচাপ বা নিম্নচাপের খবর শুনে একমাত্র সম্বলটি রক্ষার জন্য দিনরাত সাগরের ঢেউর সাথে যুদ্ধে লিপ্ত থাকতে হয়, যেখানে কিছু দানাপানির যোগাড় করার কথা সেখানে আত্বরক্ষা করতেই সময় চলে যায়।প্রতিটা ঘূর্নিঝড়ে দ্বীপের অধিকাংশ জেলে পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে নি:শ্ব হয়ে যায় অনেকে বড় আকারে ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয় অতীব দু:খের বিষয় সে কঠিন দুর্দিনে এগিয়ে আসেনা কোন সরকারি সহযোগীতা কিংবা কোন এনজিওর সাহায্য হউক তা লোন বা ধারকর্য দিয়ে।বছর ঘুরে হিসাব কষতে গিয়ে চাষীরা বলে নিম্নচাপের জোয়ারের পানিতে আমার পাঁচ বিঘা ধানক্ষেত একদম মাঠেই মারা গেল তাতে ক্ষতি হল প্রায় চল্লিশ পঁয়তাল্লিশ হাজার টাকা, অন্যদিকে জেলে ভাইরা প্রতিনিয়ত সাগরের সাথে যুদ্দ করে ফিশিং করে জান বাজি রেখে যৎসামান্য ইনকাম করলেও হঠাৎ কালবৈশাখী বা ঘূর্নিঝড় ভেঙে দিল আমার একমাত্র আয়ের সম্বলটি কিভাবে চলবো প্রতিবছর এইরকম ক্ষতির মুখোমুখি দাড়িয়ে।দ্বীপের মানুষগুলির ভাগ্য পরিবর্তন হচ্ছেনা আজ দেড়শ দুইশ বছর ধরে।হবেই বা কিভাবে বছরে মাত্র তিন মাস সামান্য আয় রোজগার করে নয় মাস বসে বসে খেতে হয় করার তেমন কোন ক্জ থাকেনা,করবেই বা কি? পর্যটন মৌসুমে দ্বীপে যে পরিমান আয় ইনকাম হয় তার পঁচানব্বই ভাগ আয় করেন দ্বীপের বাহিরের ব্যবসায়ীরা, কারন দ্বীপের মানুষের সীমিত ইনকাম দিয়ে বানানো যায়না একটা হোটেল কিংবা রিসোর্ট, সবচেয়ে করুন বিষয় হচ্ছে দ্বীপের মানুষগুলিকে কোন ব্যাংক লোনও দেয়না কারন আমরা সেন্টমার্টিন দ্বীপের অবহেলিত অনুনন্নত অযোগ্য অপরিচিত জনগোস্টি। দ্বীপের মানুষগুলির করুন ইতিহাস লিখতে শেষ করা যাবেনা। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেন্টমার্টিন কে বাচানের জন্য একটি টেকসই মজবুত রেরিবাধের বাস্তবায়ন খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে।অন্যদিকে দ্বীপবাসীর জীবনমান উন্নয়নে সরকারি বেসরকারিভাবে ব্যবসায়ীক সহযোগীতা পাওয়ার মাধ্যম সৃস্টি করতে হবে।আর কতবছর আমরা নিম্নমান জীবনযাত্রায় হাবুডুবু খাব।দ্বীপবাসীর এত কস্টের কথা প্রতি শীত মৌসুমে দ্বীপে ভ্রমনে আসা মাননীয় এমপি মন্ত্রী সচিব মহোদয়ের দৃস্টি আকর্ষন করলেও এযাবত দ্বীপবাসীর কোন খোঁজখবর আসেনি কি অভাগা জনগোষ্ঠী আমরা।ভবিশ্যৎ সময়গুলিও কি অতীতের মতই যাবে নাকি কোন পরিবর্তন আসবে সে অপেক্ষায়।তবে সকল দ্বীপবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়তে হবে দ্বীপের সকল সমস্যার সমাধানের জন্য দলমত নির্বিশেষে অন্যতায় ফাঁড়া কপাল ফাঁড়াই থাকবে।

সেন্টমার্টিনদ্বীপের হাবিব মেম্বারের ফেইসবুক থেকে সংগৃহিত।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।