দাবদাহে পুড়ছে মাঠের ফসল, পানির জন্য ইসতিসকার নামাজ

meherpur pic 01

প্রচণ্ড দাবদাহে পুড়ে যাচ্ছে ক্ষেতের ফসল। গৃহপালিত হাঁস-মুরগিসহ অন্যান্য প্রাণীর অবস্থাও সংকটাপন্ন। পাড়া মহল্লায় চলছে পানির জন্য হাহাকার। তবু দেখা মিলছে না বৃষ্টির।

আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত মেহেরপুর পৌর ইমাম সমিতির আহ্বানে সরকারি কলেজ মাঠে ইসতিসকার নামাজ আদায় করা হয়েছে। নামাজে ইমামতি করেন ঘোষপাড়ার মসজিদের ইমাম হাজি জহিরুল ইসলাম। মেহেরপুর শহরের ব্যবসায়ীরা এ সময় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে নামাজে অংশগ্রহণ করে।

সরেজমিনে মেহেরপুরের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে মাঠ-ঘাট শুকিয়ে খা খা করছে। গোসলের পানিটুকুও নেই অধিকাংশ পুকুরে। পাট চাষীদের পাট পানির অভাবে বাড়তে পারছে না। জমিতেই পাট শুকিয়ে যাচ্ছে। জেলা শহরের বৃহৎ পোল্টি ফার্মের মালিক সিরাজুল ইসলাম জানান, দাবদাহের কারণে পোল্টি মুরগির ওজন বাড়ছে না। ফলে জেলার পোল্টি ফার্মের মালিকরা এবার পূঁজি হারানোর উপক্রম হয়েছে।”

মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) অলোক কুমার দাস জানান, দাবদাহের কারণে অসুস্থ হয়ে প্রতিদিন মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে গড়ে ২০ জন রোগী ভর্তি হচ্ছে। যাদের অধিকাংশ শিশু ও বৃদ্ধ।

মেহেরপুরের বিভিন্ন এলাকার মাছের ওপর নির্ভশীল লোকজন পরিবার পরিজন নিয়ে অনাহারে অর্ধাহারে জীবন যাপন করছেন। সজল রায় জানায় তারা সমাজে নিম্ন শ্রেণি হওয়ার কারণে সহজে কাজ জুটছে না তাদের। খাল বিলে পানি না থাকার কারণে এখন বাধ্য হয়ে তাদের পেশা বদল করতে হবে।

মেহেরপুর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল ওয়াদুদ জানিয়েছেন, দাবদাহের কারণে ভূগর্ভস্থ পানি বেশি করে ব্যবহার হওয়াতে পানির স্তর অনেক নীচে নেমে গেছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে ভূগর্ভস্থ পানিরও সংকট শুরু হবে।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।