‘দুই একটা সাংবাদিকের গলা কেটে ফেললে কিছুই হবে না’

image_200_12537hhhh
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শরিফুল ইসলাম
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম
‘দুই একটা সাংবাদিকের গলা কেটে ফেললে কিছুই হবে না। এটা আমার কেন্দ্র থেকে নির্দেশ দেওয়া আছে।’ এভাবেই গর্বের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের গোপন নির্দেশ প্রকাশ করলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শরিফুল ইসলাম। কেন্দ্র থেকেই নাকি সাংবাদিকদের গলার কাটার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার দুপুর সাড়ে ৩টায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের কার্যালয়ের পাশের কক্ষে দ্বিতীয় দফায় ১৫ জন সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করার সময় এ দাবি করেন শরিফুল।
উল্লেখ্য, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি শরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে সাংবাদিকদের ওপর দুই দফা হামলা চালিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের একাংশ। সোমবার প্রক্টর ও উপাচার্য কার্যালয়ের পাশের কক্ষে সংঘটিত ওই ঘটনায় বিভিন্ন পত্রিকার প্রায় ২৫ জন সাংবাদিককে দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে হামলাকারীরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে ছাত্রশিবির করার অভিযোগ এনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের রাসেল খান নামের এক ছাত্রকে প্রক্টর অশোক কুমার সাহার দপ্তরে ধরে নিয়ে আসে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। রাসেল শিবির করার অভিযোগ অস্বীকার করলেও তাঁকে প্রক্টরের সামনেই লাঠি দিয়ে বেদম মারধর করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শরিফুল ইসলাম। খবর পেয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় কর্মরত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকরা ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে যান। এ সময় শরিফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ও শিবির সাংবাদিকদের ওপর ভর করে চলছে। সাংবাদিকরা এর প্রতিবাদ করলে শরিফুল ইসলামের নির্দেশে তাঁর গ্রুপের ছাত্রলীগকর্মীরা ১৫ জন সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করে প্রক্টর কার্যালয় থেকে বের করে দেয়। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এই হামলার বিচার চাইতে উপাচার্য মিজানুর রহমানের দপ্তরে গেলে শরিফুল ইসলাম তাঁর ৩০-৪০ জন কর্মী নিয়ে আবারও সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালান। এ সময় তিনি বলতে থাকেন, ‘দুই একটা সাংবাদিকের গলা কেটে ফেললে কিছুই হবে না। এটা আমার কেন্দ্র থেকে নির্দেশ দেওয়া আছে।’ এর পরপরই কানন, রিয়েন, রাসেল, সাইমন, আসাদ, মামুন ও রনিসহ শরিফুলের কর্মী অর্ধশতাধিক কর্মী ভিসির সভাকক্ষে উপস্থিত সাংবাদিকদের মারধর শুরু করে। এসময় সহকারী প্রক্টর নাসির উদ্দিন সাংবাদিকদের হামলা থেকে রক্ষার চেষ্টা করলে তাকেও লাঞ্ছিত করে ছাত্রলীগ কর্মীরা। এ সময় প্রায় ২০ জন সাংবাদিক কমবেশি আহত হন।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।