দুই কিশোরী কন্যাকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ ওসি প্রদীপ – স্বাক্ষী বেবী

 

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় পঞ্চম দফায় সাক্ষ্য গ্রহণের প্রথমদিনে রোববার (১০ অক্টোবর) আসামির আইনজীবীর জেরার সময় আদালতে কান্নায় ভেঙে পড়েন সাক্ষী বেবী বেগম। এ সময় আদালত তাকে পানি পান করে স্বাভাবিক হওয়ার কথা বললে ওসি প্রদীপের মতো মানুষের সামনে পানি পান করতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।

টেকনাফ থানায় কর্মরত থাকাকালীন ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে দুই মেয়েকে ধর্ষণের বর্ণনা দেন এই সাক্ষী। তিনি আদালতকে জানান, ওসি প্রদীপ তাকে, স্বামী এবং দুই মেয়েকে আসামি করে ইয়াবার মিথ্যা মামলা দেন। একই সঙ্গে দুই মেয়েকে ধর্ষণ করেন। এখন মেয়েদের বিয়েও হচ্ছে না।

রোববার (১০ অক্টোবর) সকাল সোয়া ১০টায় জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইলের আদালতে বেবী বেগমকে আসামি পক্ষের আইনজীবীদের জেরা দিয়ে পঞ্চম দফার বিচারকাজ শুরু হয়।

এর আগে চতুর্থ দফার সাক্ষ্য শুনানির শেষ দিনে বেবী বেগম আদালতকে বলেন, ওসি প্রদীপ ও তার বাহিনী ২০২০ সালে আমার কিশোরি কন্যাকে তুলে নিয়ে দীর্ঘদিন থানায় দ্বিতীয় তলায় আটকে রেখে ধর্ষণ করে। এরপর মেয়ে বাড়ি ফিরে এসে কয়েকবার আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়।

সেসময় প্রশাসন ওসি প্রদীপের পক্ষে থাকায় কোন মামলা করার সাহস পাননি দাবি করে বেবী বেগম বলেন, পরে মেজর সিনহা হত্যা মামলার পর তিনি সাহস পেয়ে ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে আদালতে ধর্ষণ মামলা করেছেন।

বেবী বেগমের জেরা শেষে রোববার সেনা সদস্য লে. আরেফিন, কর্পোরাল নুর আহমদ, সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার সৈয়দ মঈন ও রুহুল আমিন এবং লেন্স কর্পোরাল আবু জাফরের সাক্ষ্যগ্রহণ করে আদালত।

সেনা সদস্যরা সকলেই মেজর সিনহা হত্যার রাতে সেনা সদস্যদের সাথে ওসি প্রদীপের দুর্ব্যবহার ও মেজর সিনহা হত্যাকে পরিকল্পিতভাবে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টার বিষয়টি আদালতে তুলে ধরেন।

এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন মেজর সিনহা হত্যা মামলা বিচারকাজে যুক্ত একাধিক আইনজীবী।

কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌশূলী ফরিদুল আলম বলেন, মামলায় সাক্ষ্যদানের জন্য ৮৩ জন সাক্ষীর মধ্যে এ পর্যন্ত ৫৯ জনকে আদালত নোটিশ দিয়েছেন। গত ২৩ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত ২৫ জনের জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে।

এদিকে রোববার পঞ্চম দফায় প্রথম দিনে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ৯ জন সাক্ষি আদালতে উপস্থিত থাকলেও ৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করতে পেরেছেন আদালত।

এর আগে রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে মামলার ১৫ আসামিকে প্রিজন ভ্যানে করে কড়া পুলিশ পাহারায় আদালতে আনা হয়।

তারা হলেন- বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, পরিদর্শক লিয়াকত আলী, কনস্টেল রুবেল শর্মা, এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুল করিম, কামাল হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, এএসআই লিটন মিয়া ও কনস্টেবল সাগর দেব নাথ। আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) সদস্য এসআই মো. শাহজাহান, কনস্টেবল মো. রাজিব ও মো. আব্দুল্লাহ এবং টেকনাফের বাহারছড়ার মারিষবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও পুলিশের করা মামলার সাক্ষী নুরুল আমিন, মো. নিজাম উদ্দিন ও আয়াজ উদ্দিন।

৩১ জুলাই রাতে টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে মেজর সিনহা নিহত হন। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে তিনটি (টেকনাফে দুটি, রামুতে একটি) মামলা করে। ঘটনার পর গত ৫ আগস্ট কক্সবাজার আদালতে প্রদীপ কুমার দাশ, লিয়াকত আলীসহ ৯ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন মেজর সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস।

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ