দেশে তৈরি যাত্রীবাহী জাহাজ ‘এমভি বাঙালী’ বরিশালে

864.
বিশেষ সংবাদদাতা (বরিশাল) : দীর্ঘ ৬২ বছর পর  দেশের অভ্যন্তরীণ রুটে রাষ্ট্রীয় জাহাজ চলাচল প্রতিষ্ঠান-বিআইডব্লিউটিসি’র জন্য দেশে  তৈরি প্রথম যাত্রীবাহী জাহাজ ‘এমভি বাঙালী’ বাণিজ্যিক যাত্রায় নৌ পরিবহন মন্ত্রীসহ সাড়ে ৩শ যাত্রী নিয়ে বরিশাল পৌঁছেছে।শুক্রবার সকাল ৭টা ৩৫মিনিটে বরিশাল নদী বন্দরের আধুনিক টার্মিনালের ১নম্বর পন্টুনে নোঙর ফেলে বাঙালী। প্রথম বাণিজ্যিক যাত্রায় বৃহস্পতিবার নির্ধারিত সময়ের প্রায় ১ঘন্টা ২০মিনিট পর রাত ৯ টা ৫০ মিনিটে ঢাকার সদর ঘাট ছাড়ে  জাহাজটি।নৌযানটির প্রথম এ বাণিজ্যিক যাত্রায়  ৩ শ যাত্রীর সঙ্গে নৌপরিবহন মন্ত্রীসহ  বিআইডব্লিউটিসি’র  চেয়ারম্যান ও অতিরিক্ত সচিব মজিরব রহমান, পরিচালক-কারিগরি প্রকৌশলী জ্ঞানরঞ্জন শীল সহ সংস্থাটির উচ্চ পর্যায়ে কর্মকর্তাবৃন্দ রয়েছেন।ঢাকা থেকে চাঁদপুর হয়ে বরিশাল আসতে শেষ বসন্তের রাতের চতুর্থ প্রহরের মাঝারী কুয়াশায় নৌযানটিকে গতি বন্ধ করতে হয় পথিমধ্যে।  এতে বরিশাল পৌঁছাতে বেশ বিলম্ব হয় জাহাজটির।তবে বরিশাল নদী বন্দরের নতুন টার্মিনালে এমভি বাঙালী যখন নোঙর ফেলে তখন সবার মধ্যেই ছিল এক ভিন্ন ধরনের আনন্দ। মূলত ১৯৫২সালে কোলকাতার ‘গার্ডেনরীচ ডকইয়ার্ড এন্ড শিপ বিল্ডার্স’এ নির্মিত ৪টি মেরিন ডিজেল ইঞ্জিন জাহাজ তৈরি করে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রধান নদী বন্দ-বরিশালে পৌছার ৬২বছর পরে গতকাল এমভি বাঙালী আবার এ নদী বন্দরে নোঙর ফেলল। ১৯৫২সালে নির্মিত ‘এমভি মেকলা, এমভি লালি, এমভি সেলা ও এমভি সান্দ্রা’ নৌযান ৪টি দীর্ঘদিন বরিশাল সহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে চলার পরে তার ৩টিই নিলামে বিক্রি করে দিয়েছে বিআইডব্লিউউটিসি। শুধুমাত্র ঐতিহ্যের ধারক হিসেবে ‘এমভি সেলা’ জাহাজটি পুনর্বাসন শেষে এখনো সংস্থাটির নৌবহরে টিকে আছে। ১৯৫২সালে বরিশালেই সন্তান আবদুল মান্নান কোলকাতায় নির্মিত প্রথম মেরিন ডিজেল ইঞ্জিনের ঐ ৪টি নৌযান নিয়ে বরিশালে পৌঁছেছিলেন। ইংল্যান্ডের ‘ক্রসলে’ ইঞ্জিন সমৃদ্ধ ঐসব নৌযানের মান ও গতি ছিল প্রশ্নাতীত। টানা ৬২বছর পরে জাপানের ইয়ানমার ইঞ্জিন সমৃদ্ধ এমভি বাঙালী’কে পেয়ে গতকাল বরিশালবাসী ছিলেন খুবই উৎফুল্ল। এজন্য গতকাল বরিশাল নদী বন্দরে অপেক্ষমাণ অনেক যাত্রী এবং নৌযানটি দেখতে আসা সাধারণ মানুষ প্রধানমন্ত্রী সহ নৌ পরিবহন মন্ত্রীকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন। নৌ পরিবহন মন্ত্রী মোঃ শাহজাহান খান গতকাল এমভি বাঙালী নিয়ে বরিশালে পৌছার পরে অত্যন্ত কর্মব্যস্ত সময় কাটান। তিনি বরিশাল নদী বন্দর ও বিআইডব্লিউটিসি’র নির্মাণাধীন নতুন বাণিজ্যিক ভবনের নির্মাণ কাজ পরিদর্শন ছাড়াও বিআইডব্লিউটিএ’র ডেক ও ইঞ্জিন কর্মী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং প্রস্তাবিত মেরিন একাডেমির স্থানও পরিদর্শন করেন। তবে গতকাল থেকে চালু হওয়া ঢাকা-বরিশাল রুটে বিআইডব্লিউটিসি’র ‘স্পেশাল সার্ভিস’টির বাণিজ্যিক পরিচালন  টেকসই ও যাত্রী বান্ধব করার লক্ষে সাধার যাত্রীরা বেশ কিছু প্রস্তাবও দিয়েছেন। প্রথমত নতুন এ সার্ভিসটি ঢাকা ও বরিশাল,উভয়প্রান্ত থেকেই নিয়মিতভাবে প্রতিদিন চলাচল নিশ্চিত করা ছাড়াও তা রাত ৯টায় গন্তব্যে যাত্রা করতে হবে। পাশাপাশি বরিশালে নদী বন্দরের আধুনিক টার্মিনাল থেকে নৌযানটির চলাচল নিশ্চিত করা ছাড়াও বেসরকারি নৌযানসমুহের সাথে ভাড়া সমন্বয় করারও কোন বিকল্প নেই বলে মনে করছেন যাত্রী সাধারণ। উল্লেখ্য, সরকারী এ নৌ-বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানটির সব নৌযানে যাত্রী ভাড়া বেসরকারি যেকোনো নৌযানের চেয়ে যথেষ্ট বেশী। পাশাপাশি সরকারী এ প্রতিষ্ঠানটির প্রথম শ্রেণীর যাত্রী ভাড়ার ওপর ১৫ভাগ ভ্যাট আরোপ করায় রাষ্ট্রীয় এ নৌযানে ভ্রমণে যাত্রীদের আগ্রহ  হ্রাস পাবার আশংকা করছেন ওয়াকিবহাল মহল। শুক্রবার রাতেই এসভি বাঙালী ফিরতি যাত্রী ঢাকায় রওয়ানা হবার কথা রয়েছে।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।