দ্বিতীয় পর্ব :প্রয়োজন এক ইসলামী ঐক্যের

779771015561759_n-140x100

মুহাম্মদ শাহ জাহান দুবাই থেকে-
বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম জনপদ বাংলাদেশ। এ দেশের নব্বই শতাংশ জনসমষ্টিই মুসলমান। রাসুল (সাঃ) এর সময় ৬১৮ খ্রিষ্টাব্দে সাহাবী আবু ওয়াক্কাস (রাঃ) এর নেতৃত্বে কায়েস ইবনু হারিসা ছায়রদী, তামীম আনসারী, উরওয়াহ ইবনে আছাছা, আবু কায়েস ইবনে হারিছা (রাঃ) সহ একটি দল এখানে ইসলাম প্রচার করতে আসেন। ভারতের তামীলনাড-র উপকূলীয় অঞ্চল মালাবারের তখনকার রাজা চেরমল রপরূমল রাসূল (সাঃ) এর যুগেই ইসলাম গ্রহণ করেন। ফলে এই এলাকা ইসলামের কেন্দ্রে পরিণত হয়। এখান থেকেই মুবাল্লিগগণ ইসলামের মহান বাণী নিয়ে বাংলাদেশে আসেন। সুরমা নদী পাড়ি দিয়ে আসেন শাহ জালাল ইয়েমেনী। তিনি আগমনের পরে তখনকার হিন্দু রাজা গৌরগবিন্দের স্বৈরাশাসনের অবসান ঘটে। পূর্ব বাংলা পরিণত হয় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্টের জনপদ। তখনকার সময়ে যেমন ইসলামিক ব্যক্তিত্ব নির্যাতিত ও শোষণের শিকার হয়েছিল ঠিক তেমনি আজও ব্যতিক্রম নয়। তার যোগ্য উত্তরসূরীদের যুগে যুগে ভিন্ন চেহারাই দেখা মিলে। এখনও শত শত শহীদের নজরানা পেশ করে ঠিকে থাকতে হয়েছে সঠিক পথের মুসলমানদের। পার্থক্য হল সে সময়ে শাসক ছিল হিন্দু আর এখন শাসক হল নামে মুসলমান। এ শাসকগণ একটি নির্দিষ্ট শ্রেণী বা গোষ্টীর জন্য আর অন্যদের জন্য শোষক বটে। তার একটি জলন্ত উদাহরণ না দিলে নয়। সাম্প্রতিক সময়ে রাম-বামদের একটি অংশ রাজধানীর যানজটপূর্ণ এলাকা শাহবাগের গুরুত্বপূর্ণ রোড বন্টকের মাধ্যমে শাসক দলের চত্রছায়ায় তৈরী করে মঞ্চ। তিন স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টিত এ মঞ্চে বিরানী-পোলাওসহ রকমারী খাবারের সমারোহ আর রাষ্ট্রের সব ধরণের সুবিধাদি শোভা পায়। যা এখন চাদাবাজি, অর্থ কেলেংকারী ও নানা অনিয়মে জর্জরিত। আর এখান থেকে ব্লগাররা ইসলাম ও আল্লাহর রাসূল (সাঃ) কে নিয়ে কটুক্তি ও আপত্তিকর লেখা প্রকাশ করলে তার প্রতিবাদে ওলামাদের প্রতিনিদিত্বকারী সংগঠন হেফাজতে ইসলামের ডাকে ও সকল তোহিদী জনতার সমন্বয়ে অবরোধ কর্মসূচীর ঘোষণা দেওয়া হয় শাপলা চত্বরে। দিন টি ৫ই মে ২০১৩ দিবাগত রাত। শাপলা চত্বরে অবস্থান করছে দেশের বিভিন্ন স্থান আগত লক্ষ লক্ষ তোহিদী জনতা। সরকারের নজিরবিহীন প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে তারা এসেছে অনেক কষ্ট আর বাধার প্রাচীর পেরিয়ে। ক্লান্ত, শ্রান্ত, ক্ষুধার্ত ও পিপাসার্ত এইসব খোদাভীরু আর নবী প্রেমিক জনতার কেউবা নামায পড়েছেন, কেউবা যিকির-আযকার নিয়তে ব্যস্ত, আবার কেউবা ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত শরীর নিয়ে বিশ্রাম নিচ্ছেন। হঠাৎ টিভির লাইভ অনুষ্টান বন্ধ করে দেওয়া হল, বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হল। শুরু হলো যুদ্ধের দামামা। রাতের নিস্তব্ধতা খান খান হয়ে গেল গুলির মুহুর্মূহ শব্দে। এ দিনের করুণ ও রক্তাক্ত ইতিহাস সবারই জানা। শুধু মনে পড়ে কয়েক রক্ত পিপাসুদের উক্তি-যখন পুলিশ আসল হেফাজতীরা সুবহানাল্লাহ সুবহানাল্লাহ বলে পালিয়ে গেল, তাদেরকে (অবরোধ কারীদের) অক্ষত অবস্থায় পুশব্যাক করা হয়েছে, শাপলা চত্বরে হত্যা কান্ডের ঘটনা ঘটেছে এমন প্রমান কেউ দিতে পারলে রাজনীতি ছেড়ে দেব, হেফাজতিরা গায়ে রঙ মেখে শুয়েছিল, পুলিশ আসার পরে পালিয়ে যায়। কিন্তু অত্যান্ত দুঃখের বিষয় হলেও সত্য যে, শাপলা চত্বরের রক্তের দাগ এখনও শুকায়নি, মানবাধিকার কর্মী আদিলুর রহমানের কারামুক্তিত্তোর মামলার এখনো নিষ্পত্তি হয়নি, বাতিলের আতংক ও সাহসী সৈনিক মাহমুদুর রহমান এখনও জালিমের বন্দি কারাগারে, তাহলে কিভাবে অল্প সময়ের ব্যবধানে ভূলে গেলো জালিমের মসনদ কাঁপানো সাহসী টিভি দিগন্ত, ইসলামিক টিভি ও দৈনিক আমার দেশের কথা। আমি পর্বে উল্লেখ করেছিলাম-জাতি হিসেবে আমাদের ভূলে যাওয়ার প্রবনতা অনেক বেশি। ঠিক তাই কী ঘটতে যাচ্ছে ? মনে রাখতে হবে হক আর বাতিল কখনও এক হয়নি হবেও না। যতক্ষন না জালিম তার অপকর্মের ভূল শুধরিয়ে হক কে মেনে না নেবে। আর তা না করে অসৎ উদ্দ্যেশ্যে মাঝ পথে সমঝোতার ছেষ্টা করলে তাহলে বুঝতে হবে বড়শি দিয়ে মাছ ধরার কথা। বড়শি দিয়ে মাছ শিকারের সময় বড়শিতে যে খাদ্য দেওয়া হয় তা কিন্তু শিকারি মাছের প্রতি দরদ বা প্রীতি স্বরূপ দেয় না। এ খাবার মাছের জন্য মৃত্যুর বারতা। তেমনি বাতিলের প্রলোভন বড়শির মাধ্যমে মাছ কে খাবার দেওয়ার মত। আজ আমরা নেতা নেতৃদের মুখে প্রতিনিয়ত পরিবর্তন আর দিন বদলের কথা শুনে থাকি। সত্যি তা পরিবর্তন হচ্ছে কিন্তু তাদের মত করে। যেমন ঃ আজ আর সকাল হলেই মসজিদ গুলো মক্তবে পরিণত হয় না। বাড়িতে বাড়িতে গৃহবধূ-গৃহকর্তা সাত সকালে কোর আন তেলাওয়াত করেনা। দল বেধে অবুঝ শিশুরা আর আমপারা তালীম নেওয়ার জন্য মক্তবে যায় না, যেভাবে ছুটে চলে কেজি স্কুল গুলোতে। আরবি হরফ কিংবা বর্ণমালা আজ আর মুসলিম পরিবার গুলোতে মর্যাদার সাথে পড়ানো হয়না। স্কুল, কলেজ ও ইউনিভার্সিটিতে ইসলাম শিক্ষা আজ আর আবশ্যিক নাই। আজ কোর আন তালীম প্রোগ্রাম কে বলা হয় জংগী প্রশিক্ষণ। আজ বিপ্লবী, বিদ্রোহী, জংগীবাদী, ফতোয়াবাদী ও মৌলবাদী এ গুলো সবই ইসলামী আন্দোলনের নেতা কর্মীদের ছদ্মনাম। আজ পবিত্র মাহে রমজানকে স্বাগত জানিয়ে র‌্যালিতে রাষ্ট্রের অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গুলোতে আজ শিশুরা যায় না ইসলাম শিখতে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ঈমাম প্রশিক্ষণ সেমিনারে আজ পরিবেশন করা হয় বিদেশি সুন্দরী তরুণ-তরুণীর বেলে ড্যান্স (নাউযু বিল্লাহ)। দেশের পার্ক আর কর্নিস গুলোতে আজ শরীর চর্চার উদ্দ্যেশ্যে কোন ভদ্র লোক হাটতে পারেনা কারণ সেখানে জোড়ায়-জোড়ায় তরুণ-তরুণীরা দলাদলি করে বসে আছে প্যারালাইসিস রোগীর মত। এত সব আলামত সংকুচিত ইসলাম আর সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের স্বীকার নয় কী ? তাই যদি হয়ে থাকে আজকে দেশে যে সব ইসলাম ও ঈমান-
আকীদা রক্ষার আন্দোলনে নিয়োজিত ইসলামী সংগঠন গুলোর ঐক্য সময়ের অপরিহার্য দাবী। আসন্ন পবিত্র মাহে রমজানুল মোবারক থেকে শিক্ষা নিয়ে সেই ইসলামী ঐতিহ্য পিরিয়ে আনতে আসুন সেই ঐক্যের ভিত্তি মজবুতি গড়ে তুলি। চলবে……।
লেখক ঃ দুবাই প্রবাসী।
#############

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।