ধানের শীষ না পেলে স্বতন্ত্র দাঁড়াবে জামায়াত

নির্বাচন কমিশন নিবন্ধন বাতিল করলেও আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নেবে জামায়াতে ইসলামী। দলীয় পরিচয় ও প্রতীকে নির্বাচনী লড়াইয়ে শামিলের সুযোগ না মিললেও তারা মাঠ ছেড়ে দেবে না। জোটপ্রধান বিএনপি নির্বাচনে এলে এবং তাদের সঙ্গে সমঝোতা হলে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে আপত্তি নেই জামায়াতের। আর কোনো কারণে বিএনপি এ নির্বাচন বয়কট করলে কিংবা তাদের সঙ্গে সমঝোতা না হলে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে দলটি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জামায়াতের এক কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, জামায়াতে ইসলামী স্থানীয় সব নির্বাচনে অংশ নেবে। এটা দলগত সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, গত ২৮ এপ্রিল তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনের দিন ভোটের প্রথম প্রহরেই বিএনপি নির্বাচন বয়কট করে। কিন্তু জামায়াত শেষ পর্যন্ত মাঠে ছিল। তিনি বলেন, এবার যেহেতু পৌরসভায় দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হবে আর জামায়াত নিজস্ব প্রতীকে নির্বাচন করতে পারছে না সেজন্য ২০-দলীয় জোটের সঙ্গে সমঝোতা করে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করতে চান জামায়াতে ইসলামী। আর বিএনপি নির্বাচনে না এলে বা তাদের সঙ্গে প্রতীক নিয়ে সমঝোতা না হলে জামায়াত স্বতন্ত্রভাবেই প্রার্থী দেবে। জামায়াতের মনোনীত প্রার্থীরা এখন স্বতন্ত্র নির্বাচন করবেন।

জানা যায়, ২০১৩ সালের ১ আগস্ট হাইকোর্ট জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করেন। সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে দেওয়া হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে তখনই আপিল করে জামায়াত। দুই বছরেও আপিল নিষ্পত্তি হয়নি। জামায়াতের দায়িত্বশীলরা বলছেন, গত বছর নির্দলীয় উপজেলা নির্বাচনে চমক দেখিয়েছে জামায়াত। ৩৬ উপজেলায় চেয়ারম্যান ও ১১৮ উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে জয় পায় দলটি। চলতি বছর ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ২৭ ওয়ার্ডে কাউন্সিল প্রার্থী দিয়ে পাঁচজন বিজয়ী হন। তারা বলেন, আসন্ন পৌর নির্বাচনের জন্য অনেক আগে থেকেই মাঠ গোছানো শুরু করেন তারা। পৌর নির্বাচনকে সামনে রেখে গত উপজেলা নির্বাচনে দলীয় সাফল্যকে কাজে লাগিয়ে ও সেখানে নিজেদের নানা ত্রুটিপূর্ণ দিক পর‌্যালোচনা করে যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কেন্দ্র থেকে। সেক্ষেত্রে শুধু দলের বড় নেতাই নন, যিনি দলমত নির্বিশেষে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ও মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকেন বা থাকতে পারেন এমন প্রার্থীদেরই নির্বাচনী লড়াইয়ে অবতীর্ণ করার পরামর্শ কেন্দ্রীয় জামায়াতের। জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান সম্প্রতি জেলা ও মহানগর আমিরদের উদ্দেশে আসন্ন পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলের অংশগ্রহণ নিয়ে চিঠি লেখেন। ওই চিঠিতে তিনি দিকনির্দেশনামূলক ও করণীয়গুলো অনেক বিষয় স্থানীয় নেতাদের বাতলিয়ে দেন। উল্লেখযোগ্য দিক হলো জেলার সব পৌরসভা163177_1য় পৌর মেয়র ও কাউন্সিলর এবং ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান ও মেম্বার পদে প্রার্থী ঠিক করে এখন থেকেই তাদের মাঠে-ময়দানে তৎপর করে তোলা। যে সব পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা হবে, সে সব এলাকায় এখন থেকেই ‘নির্বাচনী গাইড’ (দিকনির্দেশনা) অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া। প্রত্যেক ভোট কেন্দ্রের পরিচালক ও প্রধান পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। ভোট ডাকাতি মোকাবিলা করার জন্য প্রত্যেক ভোট কেন্দ্রে সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা এবং জামায়াত-শিবিরের ছাত্র ও শ্রমিকসহ ৫০-৭০ জনের সাংগঠনিক কর্মী গড়ে তোলা। নির্বাচনের দিন দেড়শ থেকে দুইশ ভোটকর্মী কেন্দ্রে উপস্থিত রাখার চেষ্টা করা। জামায়াত দায়িত্বশীলরা বলেন, আগামী ডিসেম্বরের ২৪৫টি পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে সমঝোতা হলে অন্তত একশ পৌরসভায় মেয়র চাইবেন তারা। দলটির নিজস্ব জরিপে উঠে এসেছে রাজশাহী, রংপুর, খুলনা বিভাগে অন্তত একশ পৌরসভায় ভালো ফল করবে তারা। সেক্ষেত্রে তারা জামায়াতের পরিচিত মুখ নয় কিন্তু এলাকায় গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে এমনদের প্রার্থী দেবেন। ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক এক সভাপতি বলেন, নিবন্ধন নিয়ে চিন্তিত নয় জামায়াত। পৌর নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে সমঝোতা করে ধানের শীষ প্রতীকে জামায়াত নির্বাচন করলে লোকসানের চেয়ে লাভই বেশি। তিনি বলেন, ২০১১ সালের পৌর নির্বাচনে ২৬৭টি পৌরসভার ২০টিতে মেয়র পদে জামায়াতকে ছাড় দিয়েছিল বিএনপি। এর মধ্যে মাত্র ৯টিতে জয় পেয়েছিল জামায়াত। কারণ কেন্দ্রীয়ভাবে ছাড় দিলেও স্থানীয়ভাবে বিএনপি প্রার্থী দিয়েছে। জামায়াত প্রার্থীরা ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করলে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীরা বিদ্রোহী প্রার্থী হতে পারবেন না।
উৎসঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন
163177_1

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।