নাগরিক সুবিধা থেকে অবহেলিত ও বঞ্চিত প্রবাল দ্বীপবাসী

আর করিম, সেন্টমার্টিন থেকে ফিরে..

দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের আয়তন গত ২০ বছরের তুলনায় অনেক কমে গেছে। দ্বীপের চতুর্দিকেই ভাঙ্গন ধরেছে। উত্তর ও পশ্চিম অংশের অবস্থা খুবই ভয়াবহ।ইতিমধ্যেই সেখান থেকে কয়েকশত বসতবাড়ি সাগরে বিলীন হয়ে গেছে।এ অবস্থা চলতে থাকলে বাংলাদেশের মানচিত্র থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপের অস্থিত্ব হারিয়ে যাবে বলে জানালেন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নুর আহাম্মদ ।

মঙ্গলবার (০২ জানুয়ারি) সেন্টমার্টিন দ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়ে টেকনাফ সাংবাদিক ইউনিটির সাথে ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে সাংবাদিক ইউনিটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম সাইফীর উপস্থাপনায় ‘দ্বীপবাসীর সমস্যা ও প্রত্যাশা’ বিষয়ক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় সেন্টমার্টিন দ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, “ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে দ্বীপবাসীর পক্ষ থেকে সর্বপ্রথম এবং একমাত্র দাবি হচ্ছে আগে দ্বীপকে বাঁচান। দ্বীপের অস্তিত্ব না থাকলে উন্নয়ন কোথায় করব। এভাবে অব্যাহত থাকলে হয়ত অদূর ভবিষ্যতে বিশ্বময় সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়া দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপটি বাংলাদেশের মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে। সেন্টমার্টিনদ্বীপে সাড়ে ৮ হাজার বাসিন্দা, ৬ হাজার ৩০৩ জন ভোটার এবং ১ হাজার ৩৫৪টি পরিবার রয়েছে। কিন্ত দ্বীপবাসীর স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার নেই”।

তিনি আরও বলেন, “ বঙ্গপসাগরের মাঝখানে ছোট একটি দ্বীপ। সাগরের সাথে যুদ্ধ করে ঠিকে আছে এই দ্বীপের মানুষ। সরকারীভাবে সবদিক দিয়ে অবহেলিত এবং সুবিধা বঞ্চিত এখানকার মানুষ। নিত্য প্রয়োজনীয় জরুরী পণ্য তো বটেই, টেকনাফ থেকে পানি আনতেও সরকারের অনুমতির শিকার হতে হয়। দেশের পণ্য দেশের একটি অংশে আনতে প্রশাসনের অনুমতি লাগে, এমন নিয়ম দুনিয়ার আর কোথাও আছে কিনা সন্দেহ। মাথা গোঁজার ঠাঁই, লেট্রিন, বসবাসের ঘর মেরামত করতে আসে বাঁধা। আর বহিরাগত ব্যবসায়ীরা বড় বড় হোটেল-মোটেল, কটেজ, বহুতল ভবন করে যাচ্ছে। যত আইন, কড়াকড়ি, হয়রানী আর যত নীতিমালা সবই যেন দ্বীপের বাসিন্দাদের জন্য। আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসাবে শান্তিতে জন্মভুমিতে বসবাস করতে চাই। প্রধানমন্ত্রী সমীপে আমরা এই অসহ্য অবস্থা থেকে উত্তরণ চাই। “

হাসপাতাল থাকলেও রয়েছে চিকিৎসক সংকট।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদ মেম্বার হাবিব খান বলেন, দ্বীপের মানুষ মৌলিক অধিকার থেকে চরমভাবে বঞ্চিত। দ্বীপের পরিকল্পিত উন্নয়ন চাই। সেন্টমার্টিনে ১০ শয্যার বিশাল ভবনের হাসপাতাল থাকলেও রয়েছে চিকিৎসক সংকট। মৌলিক অধিকারের অন্যতম চিকিৎসা সুবিধার জন্য হাসপাতালটি সঠিকভাবে চালু করার জোর দাবি করছি। এই দ্বীপের একমাত্র জেটিটিও জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপুর্ণ হয়ে পড়েছে। ইউনিয়ন পরিষদে আয়ের কোন উৎস নেই। দ্বীপের একমাত্র সরকারী প্রাইমারী স্কুলে চার শতাধিক শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র একজন শিক্ষক আছেন। আর শিক্ষক আসলেও জাতির কারিগর শিক্ষক তদবির করে বদলী হয়ে যান। এটা এখানকার ছাত্র – ছাত্রীদের জন্য খুবই দুঃখজনক ঘটনা বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, “ শুধুমাত্র মৌসুম এলেই তিন মাস দেশ -বিদেশের মানুষ সেন্টমার্টিনদ্বীপের কথা মনে রাখেন। এরপর সকলেই ভুলে যান”।

সেন্টমার্টিনদ্বীপ বিএন ইসলামিক উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ বাবু উজ্জল ভৌমিক বলেন, ‘’দ্বীপের মানুষ গরীব। একজন জেএসসি পরিক্ষার্থীকে টেকনাফে গিয়ে হোটেলে অবস্থান করে পরীক্ষা দিতে প্রচুর টাকা খরচ হয়। দ্বীপে জেএসসি পরিক্ষা কেন্দ্র চালু করার জন্য এলাকার এমপির সুপারিশসহ যথাযথ কতৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করা হয়েছে। কিন্ত কোন ফল হয়নি। মাঝখানে বাধাগ্রস্থ হওয়ার কারণে দ্বীপে শিক্ষার উন্নয়ন হচ্ছে না। স্কুল ভবন অত্যন্ত ঝুঁকিপুর্ণ অবস্থায় রয়েছে। পর্যাপ্ত আসবাবপত্র নেই’’।

ইউনিয়ন পরিষদ মেম্বার আবদুর রব বলেন, দ্বীপে বঙ্গবন্ধু সড়কটি অতি গুরুত্বপুর্ণ। কিন্ত এখন সেটি সামান্য অংশ কাজ করে বরাদ্দের অভাবে বন্ধ রয়েছে। সড়কটি দ্বীপের সর্ব দক্ষিণ পর্যন্ত নির্মাণ করা হলে দেশী-বিদেশী পর্যটক, শিক্ষার্থী, ভিআইপি স্বল্প সময়ে ছেড়াদিয়াসহ দ্বীপের সর্বত্র ঘুরে দেখার সুযোগ পাবে বলে জানান তিনি।

পুলিশ ফাঁড়ির আইসি সাইফুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ কোস্টগার্ড বাহিনীর প্রতিনিধি মোঃ ইয়াকুব সেন্টমার্টিন দ্বীপের সার্বিক আইনশৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখেন।

এসময় আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন টেকনাফ সাংবাদিক ইউনিটির প্রধান উপদেষ্টা হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম।

আলোচনা সভায় টেকনাফ সাংবাদিক ইউনিটির উপদেষ্টা জেড করিম জিয়া, গিয়াস উদ্দিন, সহ-সভাপতি ছৈয়দুল আমিন চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক হেলাল উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম মাহমুদ, অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম, দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক সাইফুদ্দিন মোহাম্মদ মামুন, সদস্য এটিএন ফায়সাল, এম আমান উল্লাহ আমান, আবুল আলী, নুর হাকিম আনোয়ার, নুরতাজুল মোস্তফা শাহিনশাহ, মোঃ রাশেদুল করিম, জাহাঙ্গীর আলম, হারুন সিকদার, শাহ মিসবাহুল হক চৌধুরী বাবলা, আবদুল কাইয়ুম, নুর মোহাম্মদ, জয়নাল আবেদীন, রহিম উল্লাহ ও কেফায়ত উল্লাহ খান উপস্থিত ছিলেন।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।