নানীকে হাসপাতালে দেখতে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরল হ্নীলার নাতি

ছৈয়দ আলম::
নানী আনোয়ারা ফুসফুসের সমস্যায় ১০ দিন ধরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের ৫ম তলার ৫০৫ নং কেবিনে চিকিৎসাধীন আছেন। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর মেয়ে ও নাতিদের দেখতে অনেক আবদার করেছিলেন নানী। সেই আবদারও সেরেছেন তিনি। নানীর ইচ্ছা পূরন হওয়ার পর মা, দুই মামা, খালা ও অপর এক দাদীসহ সিএনজি যোগে সদর হাসপাতাল থেকে হ্নীলা যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন সবাই। রাস্তার মাঝখানে হঠাৎ একটি ছাগল চলে আসলে সিএনজির ড্রাইভার নিয়ন্ত্রণ হারালে গাড়িটি উল্টে যায়। তখনই কমবেশি সবাই আহত হয় তবে তাদের মধ্যে আদরের নাতি মো: তাহসিন গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা মুহুর্তেই তাদের উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাহসিনের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। পৌছার পর রাত ১ টার দিকে মারা যায় তাহসিন। এরআগে অসুস্থ আনোয়ারা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সময় আপন ভাই মোহাম্মদ ইসলামও মৃত্যুবরণ করেন।
২২ অক্টোবর বিকাল সাড়ে ৪ টায় মেরিন ড্রাইভ সড়কের হিমছড়ি এলাকায় এ হ্নদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।
নিহত তাহসিন (৬) বছর উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের নাটমোরা গ্রামের মোহাম্মদ জামাল এর বড় ছেলে। তাহসিন এর বাবা বাহারছড়ার শামলাপুরে ব্যবসা করার কারনে সেখানে পরিবার নিয়ে থাকেনন। তাহসিন একটি নুরানী মাদ্রাসায় পড়েন। এদিকে এ মৃত্যুর ঘটনায় এলাকাবাসীর মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে অসুস্থ নানি আনোয়ারা বেগম কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ৯ দিন ধরে চিকিৎসাধীন আছেন। তাকে দেখতে সিএনজিযোগে হ্নীলা থেকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আসেন তারা। এরপর বিকালে নানিকে দেখে তাহসিনসহ সবাই সিএনজি নিয়ে হিমছড়ি এলাকায় পৌঁছাতেই হঠাৎ রাস্তা পারাপার করতে আসা একটি ছাগল সিএনজির নিচে চলে আসে। এসময় সিএনজি ড্রাইভার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে গাড়িটি উল্টে যায়। সেখানে সিএনজির মাঝখানের লোহা তাহসিনের মাথায় লাগলে মুহুর্তে তার মাথার মগজ বের হয়ে যায়। অন্যন্য আহতরা হলো, নিহত তাহসিনের মামা ফুটবলার রায়হান,
রাসেল, লাইলা, ময়ূরা ও নাছরিন। তবে দুর্ঘটনা কবলিত সিএনজিটি দুমড়ে মুচড়ে গেলেও চালক দেলোয়ার অক্ষত রয়েছে।
এ ঘটনা দেখে স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাহসিনসহ সিএনজির ভেতরে থাকা সবাইকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মো: তাহসিনের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। বাকিদের জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়।
শনিবার ভোরে তাহসিনের লাশ হ্নীলাস্থ নাটমোরা নিয়ে যায়। দুপুরের নামাজের পর জানাযা শেষে দাফন সম্পন্ন করা হয়।

হ্নীলা ইউপির চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী শোক প্রকাশ করে বলেন, এরকম দুর্ঘটনা আসলে অনেক দু:খজনক।

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ