পিআইও’র অনুপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার বিতরণ

পিআইও’র অনুপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার বিতরণ
টেকনাফ ইউএনও’র অসন্তোষ প্রকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক []গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে আর্থিক সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন দপ্তর। এ প্রতিষ্ঠানটি নিয়ন্ত্রন করছেন, ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রনালয়। এ জনগুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে সরকার প্রতিবছর প্রচুর পরিমাণ খাদ্যশস্য এবং গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে অর্থ বরাদ্ধ দিয়ে থাকেন। এই টেকনাফ অফিসটিতে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ে দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা। কিছুদিন থাকার পর তড়িঘড়ি করে বদলী হয়ে যায়। বর্তমানে টেকনাফ অফিসে অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পবিত্র চন্দ্র মন্ডল কখনো অফিস করেন না। সে প্রায় সময় থাকেন অনুপস্থিত। শুধু সে নয়, তার পাশাপাশি উপ-সহকারী প্রকৌশলী জি.কে.এম জুলকার নাঈম একদিনও অফিস করেন না। তারা শুধুমাত্র আলিশান গাড়ি নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় চলাফেরা, দায়িত্ব অবহেলা, অফিস না করা বাইরে ঘুরাফেরা করেন। হয়তো তাদের কাজ এটাই। জনবল শূণ্যের কারণে এ দপ্তরে আসা সেবা গ্রহীতারা তেমন কোন সেবা পাচ্ছেনা। গত আট অর্থ বছরে এদপ্তরে যে কর্মকর্তাগণ দপ্তরে যোগদান, আগমণ ও প্রস্থান পূর্ব তড়িঘড়ি করে বদলী হয়েছেন, তার মধ্যে ২০০৯ সালে মোঃ আহসান উল্লাহ, আগমন ২৭-০৯-২০০৯ প্রস্থান ১২-০৮-২০১২, মোঃ শফিউল আলম ২০১২ সালে, আগমন ১২-০৮-২০১২ প্রস্থান ৬-১১-২০১২, জহিরুল ইসলাম আগমন ৬-১১-২০১২ প্রস্থান ২২-০৯-২০১৫, মোঃ জোবায়ের হাসান ১২-০৯-২০১৫ প্রস্থান ৩১-০৩-২০১৬, মোঃ শফিউল আলম ৩১-০৩-২০১৬ প্রস্থান ১৩-১১-২০১৬ ও মোঃ আহসান উল্লাহ আগমন ১৩-১১-২০১৬ প্রস্থান উল্লেখ নেই। বর্তমানে অতিরিক্ত দায়িত্ব থাকা পবিত্র চন্দ্র মন্ডল ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী জি .কে.এম জুলকার নাঈমকে কেউ দেখেননি এবং চেনেন না। তারা নামে টেকনাফ অফিসে, কিন্তু বাস্তবে নেই।
অনুসন্ধান করে জানা যায়, এ জনগুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে শৃংখলা পরিপন্থিমূলক কাজ ও স্বচ্ছ জবাবদীহিতার পরিবেশ একেবারে ভূলোণ্ঠিত। কাগজে কলমে প্রকল্প দপ্তরটি বাস্তবে অন্যরকম। ২০০৯-২০১৬ গেল আট অর্থবছরে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারে মহৌৎসব হয়েছিল। যাহা অভ্যন্তরীণ অডিট আপত্তিতে কোটি কোটি টাকা আর্থিক কেলেংকারী হয়েছিল। যাহা অডিট আপত্তিতে এ প্রতিষ্ঠান ধরা পড়ে। এ অনিয়ম ও দুর্নীতি থেকে রেহায় পেতে কর্মকর্তা ও অফিস সহকারীরা তড়িঘড়ি করে অন্যত্র বদলীতে মশগুল হয়ে পড়ে। টেকনাফ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন দপ্তরে কর্মকর্তাদের যোগদানের আগমন ও প্রস্তান দেখে মনে হয় গুরে ফিরে গত ৮ আর্থিক বছরে এই কর্মকর্তাগণ ছিলেন উন্নয়নের চালিকাশক্তি ও সর্বেসর্বা। এ দপ্তরে অনিয়ম ও দুর্নীতির মধ্যে উল্লেখ যোগ্য কর্মসৃজন (ইজিপিপি) প্রকল্প গ্রামীণ অবকাঠামো বিভিন্ন উন্নয়ন, ব্রীজ নির্মাণ খাতে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল হাসান জানান, গত ১২ জুন দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল চৌধুরী মায়া নেতৃত্বে টেকনাফ উপজেলায় ৬ হাজার পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়েছিল। এ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা পবিত্র চন্দ্র মন্ডল ও এই অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী জি.কে.এম জুলকার নাঈমসহ কেউ উপস্থিত ছিলেন না এবং তাদের কাছ থেকে কোন ধরণের সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। এব্যাপারে জেলা প্রশাসক ববরার আইনগত ব্যবস্থা নিতে পত্র প্রেরণ করেছেন বলে জানান তিনি।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।