পেশায় শিক্ষক, করতেন ইয়াবা বিক্রি, মৃত্যু নাফ নদীতে

Naf_94868trettt8818

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
চট্টগ্রাম: গাজীপুরের আশুলিয়া গুমাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আমজাদ হোসেন (৪২)। চট্টগ্রামে এসে গত ২৬ মার্চ তিনি নিখোঁজ হন। অপহরণ দাবি করে তাকে ফিরে পেতে সাময়িক সময়ের জন্য উত্তাল হয়ে উঠে আশুলিয়া। শেষ পর্যন্ত নগর পুলিশ উন্মোচন করেছে সিনেমার কাহিনীকেও হার মানানো আমজাদ হোসেনের অর্ন্তধান রহস্য।

নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (বন্দর) মোস্তাক আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, আমজাদ হোসেন শিক্ষকতার আড়ালে ইয়াবার ব্যবসা করত। দু’লক্ষ টাকা নিয়ে টেকনাফে ইয়াবা কিনতে গিয়ে তিনি একটি পেশাদার অপরাধী চক্রের কবলে পড়েন। তারা আমজাদকে নাফ নদীর পাড়ে নিয়ে গিয়ে টাকাগুলো কেড়ে নিয়ে ধাক্কা দিয়ে নদীতে ফেলে হত্যা করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আমজাদ হোসেন নিখোঁজের বিষয়ে তার স্ত্রী বাদি হয়ে গত ২৭ মার্চ রাতে গাজীপুরের আশুলিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি দায়ের করেন। জিডিতে উল্লেখ করা হয়, ব্যক্তিগত প্রয়োজনে আমজাদ চট্টগ্রাম গিয়েছিলেন। ২৬ মার্চ ফেরার পথে দুপুর দেড়টা থেকে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তিনি বাড়িতেও ফিরে আসেননি।

এদিকে তাকে অপহরণ করা হয়েছে দাবি করে স্কুলের ছাত্র-শিক্ষকরা মানববন্ধন, সমাবেশসহ বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচী শুরু করে। আশুলিয়া থানা পুলিশ তদন্ত করে দেখতে পায়, আমজাদ ঢাকার মতিঝিল এলাকা থেকে নিখোঁজ হয়েছে। মতিঝিল থানাকে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করা হলেও তারা বিষয়টিতে ‍গুরুত্ব দেননি।

চট্টগ্রামে এসে নিখোঁজ হওয়ায় বিষয়টি গড়ায় সিএমপি পর্যন্ত। মে মাসে আমজাদের খোঁজ নেয়ার দায়িত্ব পড়ে অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার (বন্দর) মোস্তাক আহমদের উপর। তিনি প্রযুক্তিগত সহায়তা ব্যবহার করে জানতে পারেন, ২৬ মার্চ আমজাদ কর্ণফুলী থানার খোয়াজনগর এলাকা থেকে বের হয়ে দুপুর দেড়টায় কক্সব‍াজার জেলার টেকনাফ উপজেলার সাবরাং পৌঁছেন। এরপর থেকে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

এ তথ্য পাবার পর আমজাদের স্ত্রী বাদি হয়ে কর্ণফুলী থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার (বন্দর) মোস্তাক আহমদের নেতৃত্বে তদন্তকারী কর্মকর্তা কর্ণফুলী থানার এস আই মোস্তাক ঘটনার রহস্য উদঘাটনে মাঠে নামেন।

প্রাথমিকভাবে তারা আমজাদ ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত- এ ধারণা নিয়েই তদন্ত শুরু করেন। আমজাদের ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনা করে তারা অস্বাভাবিক লেনদেন দেখতে পান। এর মধ্যে আবার আমজাদের পরিবারের কাছে কয়েক দফা ফোন করে দু’লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি কর‍া হয়।

রহস্য আরও ঘনীভূত হলে পুলিশ টেকনাফের ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সোর্স হিসেবে ব্যবহার শুরু করেন। এক পর্যায়ে ইউসুফ নামে সাবরাংয়ের এক ইয়াবা বিক্রেতা আমজাদকে চেনার কথা জানায়। সুনির্দিষ্ট ক্লু পাবার পর পুলিশ মঙ্গলবার গিয়ে সাবরাং থেকে ইউসুফকে আটক করে কর্ণফুলী থানায় নিয়ে আসে।

অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (বন্দর) মোস্তাক আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, ইউসুফের সঙ্গে আমরা সুন্দর ব্যবহার শুরু করি। তাকে ভালমত ইফতার করাই। ইফতার করার সময় সে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে এবং সব স্বীকার করে। ইউসুফ জানায়, তারা চারজন মিলে নাফ নদীতে ফেলে আমজাদকে খুন করেছে। তার কাছে থাকা দু’লক্ষ টাকা তারা কেড়ে নেয়।

বুধবার ইউসুফকে কর্ণফুলী থানার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিমের আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে ইউসুফ ঘটনার দায় স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

মোস্তাক আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, শিক্ষকতার মত মহান পেশায় থেকে আমজাদ হোসেন অনৈতিকভাবে ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত করুণভাবেই তার মৃত্যু হল। তার লাশ খুঁজে পাওয়া যায়নি। আর কোনদিন পাওয়া যাবে কিনা তারও ঠিক নেই। বিষয়টি আসলে খুবই দু:খজনক।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।