প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার জামায়াত বিএনপির নেতারা পেয়েছেন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঈদ উপহার নিলাম, কিন্তু ভোট দেব বিএনপিকে এমনটি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পাওয়া এক নারী হোয়াইক্যং ইউনিয়ন উনছিপ্রাং এলাকার হাজী আলীর স্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঈদ উপহার গুলো এখন জামায়াত-বিএনপির ঘরে ঘরে । এনিয়ে স্থানীয় নেতাদের মাঝে ক্ষোভ প্রকাশ করছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও জেলার আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতা-কর্মী জানায়, টেকনাফ সদর, পৌরসভা, হ্নীলা, সাবরাং হোয়াইক্যং ও সেন্টমার্টিনদ্বীপ ইউনিয়নের চার ভাগের ৩ ভাগ প্রমানমন্ত্রীর উপহার জামায়াত বিএনপির নেতারা পেয়েছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মিয়ানমারে সৃষ্ট সহিংসতায় লাখ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে অবস্থান নিয়েছে কক্সবাজার জেলার উখিয়া টেকনাফের ১২টির বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে। এদের কারণে স্থানীয় অধিবাসীরা নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব চিন্তা করে কক্সবাজার জেলার লোকজনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঈদ উপহার পাঠিয়েছেন।
অভিযোগ উঠেছে, টেকনাফ উপজেলার অধিকাংশ জনপ্রতিনিধিরা তাদের বিএনপির ঘরোয়া আতœীয়-স্বজনকে দেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, হোয়াইক্যং ইউনিয়নের বিএনপি ও যুবদল নেতা যথাক্রমে আলী হোছন, ফরিদুল আলম, রুহুল আমিন, এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি মো. এহসান উল্লাহ এবং জামায়াত বিএনপির কর্মী মৃত কাদের বসুর ছেলে খুইল্ল্যা মিয়া, মৃত মিয়া হোছনের ছেলে মো. আব্দু শুক্কুর, মৃত ইউসুফ আলীর ছেলে আবুল হাশেম, জহির আহমদের ছেলে লালু, কক্সবাজারের মহেশখালী এলাকার হাফেজ কলিম উল্লাহসহ একাধিক বিএনপি জামায়াতের নেতাকর্মীদের হাতে এসব উপহার তুলে দেয়া হয়।
উপহারের মধ্যে ছিল নগদ টাকা, চাল, দুধ, তেল, চিনি, লাচ্ছা সেমাই, রুহ আফজা, শাড়ী ও লুঙ্গি।

এসব উপহার বিতরণে টেকনাফে এসেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবিক কারণে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছেন। অবশ্যই তাদেরকে মিয়ানমারে ফেরত যেতে হবে। তবে রোহিঙ্গাদের ঢলে স্থানীয়দের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সেটিও পুষিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে সরকার। তারই সূত্রে স্থানীয়দের জন্য ঈদ উপহার পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল বশর জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী সবার হলেও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীকে বাদ দিয়ে জামায়াত বিএনপির নেতাকর্মীকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার তুলে দেয়া সত্যি দুঃখজনক।’

সাবেক সাংসদ ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জামায়াতের নেতা। তিনি ও তার অনুসারীরা মিলে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রধানমন্ত্রী উপহার থেকে বঞ্চিত করে, জামায়াত বিএনপির নেতাকর্মীকে দেয়া হয়েছে’।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।