বর্ষার পর ১ লাখ রোহিঙ্গা যাবে ভাসানচরে


বর্ষার পর এক লাখ রোহিঙ্গাকে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার ভাসানচরে স্থানান্তর করা হবে।

এ কথা জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণসচিব মোহাম্মদ শাহ কামাল। আজ শনিবার দুপুরে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুর্যোগকালীন করণীয় বিষয়ে এক মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। ওই মহড়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নাগরিকদেরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সেখানেই কথাগুলো বলেন দুর্যোগসচিব।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণসচিব মোহাম্মদ শাহ কামাল বলেন, দুর্যোগের সময় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তাই ৩০টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুর্যোগ কমিটি গঠন করার জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেন। পাশাপাশি চলতি মাসের মধ্যে জেলা, উপজেলা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্কাউট ও বিভিন্ন সংস্থার লোকজনের সমন্বয়ে একটি মনিটরিং সেল গঠন করার জন্যও বলা হয়েছে। পাহাড়ে বসবাসরত ঝুঁকিপূর্ণ স্থানের রোহিঙ্গাদের তালিকা তৈরির জন্যও বলা হয়েছে।
সচিব বলেন, এখন বর্ষা শুরু হওয়ায় রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর করা যাবে না। তবে ওই ভাসানচরে ১৬ হাজার একর জমির মধ্যে ১৫ হাজার একরে বাংলাদেশ নৌবাহিনী রোহিঙ্গাদের জন্য বসত তৈরির কাজ করছে। বর্ষার পর এক লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ভাসানচরে নেওয়া হবে।
২০১৭ সালের ১৪ নভেম্বরে এক্সিকিউটিভ কমিটি অব দ্য ন্যাশনাল ইকোনমিক কাউন্সিল (একনেক) ২ হাজার ৩১২ কোটির বেশি টাকার এক প্রকল্প অনুমোদন করে। ওই প্রকল্পের আওতায় ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের জন্য সাময়িক আশ্রয় কেন্দ্র তৈরি করা হচ্ছে। একনেকের অনুমোদিত ওই প্রকল্পের নাম-আশ্রয়ণ-৩। এর আওতায় এক লাখ রোহিঙ্গার জন্য বসত তৈরি করার কাজ চলছে। এর পাশাপাশি ভাসানচরের অবকাঠামোও উন্নত করা হচ্ছে।
গত বছরের আগস্ট থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতন ও অত্যাচারে দেশটির রাখাইন রাজ্য থেকে জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন ১১ লাখ ১৭ হাজার বেশি রোহিঙ্গা।

দমকল বাহিনীর উদ্যোগে এই মহড়া অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণসচিব মোহাম্মদ শাহ কামাল এবং সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‌্যাবসহ নিরাপত্তা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ওই মহড়ায় উপস্থিত ছিলেন উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নিকারুজ্জামান। তিনি এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রথম আলো

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।