বাংকার থেকে বিজিপির গুলি, সীমান্ত এলাকায় আতঙ্ক

বান্দরবান [] বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির দোছড়ি সীমান্তে মায়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা এবার নিরাপত্তা বাংকার থেকে জিরো লাইনের দিকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়েছে। সোমবার রাতে লেম্বুছড়ি সীমান্তের কাছে ৫০ নং পিলার এলাকায় মায়ানমারের বিজিপি এই গুলি ছুড়ে। এর ঘটনার পর বিজিবি সতর্কাবস্থায় রয়েছে। গুলির আওয়াজে সীমান্তের বসবাসকারীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিলেও কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা জানান, সীমান্তের জিরো লাইনের কাছে নিরাপত্তা ব্যাংকার থেকে বিজিপির সদস্যরা রাতে জিরো লাইন বরাবর লক্ষ্য করে হঠাৎ গুলি ছুড়ে। এর আগে জিরো লাইন থেকে মায়ানমারের অভ্যন্তরে নিরাপত্তা রক্ষীরা মহড়া চালালেও এবার বাংকার থেকে গুলি বর্ষণ করা হয়েছে। এখনো পর্যন্ত গুলি বর্ষণের কোনো কারণ জানা যায়নি।

দোছড়ির স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. রশিদ জানান, পানছড়ি সীমান্তে মায়ানমারের বিজিপির গুলিতে এক বিজিবির জওয়ান নিহত হওয়ার ঘটনার পর থেকে বিজিপির সদস্যরা প্রায় সময়ই সীমান্তে মহড়া দেয়ার সময় গুলি ছুড়ে। তবে সোমবার রাতে জিরো লাইনের নিরাপত্তা বাংকার থেকে গুলি ছোড়া হয়। সীমান্তে উত্তেজনার পর থেকে মায়ানমার তাদের সীমান্ত চৌকির কাছে বাংকার খনন করে নিরাপত্তা বাড়িয়েছে।

লেম্বুছড়ির বাজারের ব্যবসায়ী মো. আবসার জানান, বিজিপির সদস্যরা সীমান্তে পাহারা দেয়ার সময় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে গুলি ছুড়ছে। তবে রাতের বেলাই গুলি বর্ষণের ঘটনা বেশি ঘটে।

এতে করে সীমান্তের কাছে বসবাসকারীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বিজিবির সদস্যরাও সীমান্তের উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে জিরো লাইানের কাছে ব্যাংকার খনন করে সেখানে পাহারা দিচ্ছে।

পাইনছড়ির ঘটনার পর লেম্বুছড়ি, পাইনছড়ি, আশারতলি, চাকঢালাসহ সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ বিওপির কাছে বিজিবি নিরাপত্তা বাড়াতে এসব ব্যাংকার খনন করেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

বিজিবির নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল ওয়ালিউর রহমান জানান, মায়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী প্রায় সময়ই সীমান্ত এলাকায় পাহারা দেয়ার সময় গুলি ছুড়ে থাকে।

তবে এটি সীমান্ত থেকে এক থেকে দেড় কিলোমিটার ভেতরে। সোমবার রাতে তারা বাংকার থেকে গুলি ছুড়েছে কিনা তা সঠিক করে বলা যাচ্ছে না। বিজিবি বিষয়গুলো সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সীমান্তে আপাতত কোনো উত্তেজনা নেই বলে অধিনায় জানান।

প্রসঙ্গত, গত মে মাসে নাইক্ষ্যংছড়ির পাইনছড়ি সীমান্তের ৫২ নং পিলার এলাকায় মায়ানমারের বিজিপির গুলিতে বিজিবির এক নায়েক সুবেদার নিহত হন। চার দিন পর মায়ানমার ওই বিজিবি সদস্যের লাশ ফেরত দেয়। এ ঘটনার পর থেকে সীমান্তে উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তা বাড়িয়েছে।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।