বোরখা পরা বাংলাদেশিরা বিএসএফের টার্গেট

141298400hhh3_8111_1
বোরকা পরা বাংলাদেশি মহিলাদের ভারতে যাওয়া এখন কঠিন। গেলেই হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে। কলকাতার আজকাল পত্রিকা জানিয়েছে, বোরকা পরা বাংলাদেশি মহিলা পর্যটকদের বিএসএফের বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মহিলা জওয়ানরা তল্লাশির শিকার হচ্ছেন।

বিএসএফের একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, বর্ধমানে বোমা বিস্ফোরণের পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েরর নির্দেশ মোতাবেক কড়াকড়ি শুরু হয়েছে মালদার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে। বাংলাদেশ থেকে আগত পর্যটকদের ওপরেও বিশেষ নজরদারি শুরু করেছে বিএসএফ এবং রাজ্য কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা বিভাগের কর্তারা।
বিএসএফের মালদা রেঞ্জের ডিআইজি রাজ সিং রাঠোর জানিয়েছেন, সীমান্তে জওয়ানদের কড়া নজরদারি রয়েছে, এর বেশি কিছু বলতে পারবেন না।

বিএসএফ এবং পুলিশের একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, পর্যটকরা ভারতে কত দিনের জন্য আসছেন, কোথায় যাচ্ছেন, এ পাড়ে পর্যটকদের আত্মীয়-পরিজনদের সম্পর্কে বিশদ তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সীমান্ত এলাকাগুলোতে বিএসএফের মহিলা এবং পুরুষ জওয়ানরা ব্যাপক নজরদারি শুরু করেছেন, মহিলা পর্যটকদের ক্ষেত্রে বিশেষ নজর রাখা শুরু করা হয়েছে।

পত্রিকাটি আরো জানায়, বিএসএফের পাশাপাশি কাস্টমস অফিসাররাও পর্যটকদের যাবতীয় কাগজপত্র খতিয়ে দেখছেন। মহদিপুর সীমান্তে পর্যটকদের পাসপোর্ট, ভিসা-সহ যাবতীয় কাগজ খতিয়ে দেখার জন্য আলাদা করে একটি অফিস রুম চালু করা হয়েছে। বাংলাদেশি পর্যটকদের পাসপোর্টের বৈধতা সম্পর্কে বিশদ তথ্য খোঁজখবর রাখছেন বিএসএফ এবং গোয়েন্দা বিভাগের অফিসাররা।

বিএসএফ সূত্রে জানা গেছে, মালদা জেলায় বিএসএফের ১২৫, ১১৪, ৩১ এবং ২০বি এই চারটি ব্যাটালিয়ন রয়েছে। প্রতিটি ব্যাটালিয়নেই ১২ থেকে ১৪ জন বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মহিলা জওয়ান রয়েছেন। আরো দুটি ব্যাটালিয়ন মালদা রেঞ্জের অন্তর্র্র্বতী হলেও তা মুর্শিদাবাদ এবং দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার সীমান্ত তদারকিতে রয়েছে। ১২৫ নাম্বার ব্যাটালিয়নের দায়িত্বে রয়েছে মহদিপুর সীমান্তের কাঞ্চনটাড় এলাকা থেকে বৈষনবনগর সবদলপুর এলাকা পর্যন্ত, ১১৪ নাম্বার ব্যাটালিয়নের অধীন রয়েছে ইংরেজবাজার থানার কেষ্টপুর এলাকা হবিবপুর সীমান্ত পর্যন্ত। ৩১ নাম্বার ব্যাটালিয়নের দায়িত্বে রয়েছে হবিবপুর থানা এলাকা থেকে বামনগোলা থানার শেষ সীমান্ত পর্যন্ত এবং ২০বি ব্যাটালিয়নের দায়িত্বে রয়েছে বৈষনবনগর থানার সবদলপুর এলাকা থেকে মুর্শিদাবাদের খা-ুয়া এলাকা পর্যন্ত। জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় গঙ্গা, মহানন্দা, ভাগীরথী, পুনর্ভবা এবং টাঙন নদীর ৩৪ কিলোমিটার নদীপথ রয়েছে। সেখানেও স্পিডবোট নিয়ে বিএসএফের টহলদারি জোরদার করা হয়েছ। রাতে সীমান্ত প্রহরায় সার্চলাইট এবং প্রশিক্ষিত কুকুর নিয়ে টহলদারি শুরু করেছে বিএসএফ।

বাংলাদেশ থেকে আগত পর্যটক ভবেশ পাল, রিনি বিবি বলেন, তারাও খবরের কাগজে পড়েছেন বর্ধমানে বোমা বিস্ফোরণ এবং জঙ্গি যোগসাজশের কথা। এরপর থেকে মহদিপুর সীমান্তে কড়া নজরদারি শুরু হয়েছে, এটা খুব ভালো। ঈদ উপলক্ষে ভারতে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসেছেন। তাদের যাবতীয় জিনিস এবং শরীরও মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন সীমান্ত বাহিনীর পুরুষ ও মহিলা জওয়ানরা। যদিও এর আগেও ভারতে এসেছেন। কিন্তু এতটা কড়াকড়ি দেখেননি।

মালদা এ’পোর্টারস অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক সমীর ঘোষ বলেন, বর্ধমানে বোমা বিস্ফোরনের পর জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় বিশেষ নজরদারি শুরু করেছে বিএসএফ। তবে এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সীমান্ত মহদিপুরে বিশেষ কোনো প্রভাব পড়েনি। তারাও এ ব্যাপারে সতর্ক রয়েছেন। বিএসএফের সঙ্গে সব রকমভাবে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন এ’পোর্টারস অ্যাসোসিয়েশন। এদিকে মালদায় অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ে আগাগোড়াই প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছিল জেলা বিজেপি। দলের সাধারণ সম্পাদক অজয় গাঙ্গুলি বলেন, ইউপিএ সরকারের আমলে জেলায় ব্যাপকহারে অবৈধ অনুপ্রবেশ হয়েছে। বিজেপি সরকার কেন্দ্রে আসার পর সীমান্তবর্তী এলাকায় কড়া নজরদারি শুরু হয়েছে। মালদা জেলায় এখনো বহু অবৈধ অনুপ্রবেশকারী রয়েছে, যাদের কোনো বৈধ পরিচয়পত্র নেই। বাংলাদেশে চাকরি করে এমন কিছু মানুষও মালদায় এসে ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করেছে। এ ব্যাপারে পুলিশ ও প্রশাসনকে জানানো হয়েছিল। রাজ্য পুলিশ ও প্রশাসনের উদাসীনতার কারণেই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ঘাঁটি হয়ে উঠেছে মালদা জেলা। অবিলম্বে এ ব্যাপারে জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া দরকার।

পুলিশ সুপার প্রসূন ব্যানার্জি জানান, তিনি মালদায় আসার পর এ ব্যাপারে কোনো অভিযোগ পাননি। তবে বিএসএফের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই সীমান্তবর্তী এলাকায় পুলিশ নজরদারি চালাচ্ছে। এদিকে বিএসএফের ১২৫ নাম্বার ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত সাব-ইনস্পেক্টর চোখা রাম জানিয়েছেন, বর্ধমানে বোমা বিস্ফোরনের পর দিল্লি থেকে সীমান্তে কড়া নজরদারির নির্দেশ এসেছে। সীমান্তে চার চাকার গাড়ি, সাইকেল, মোটরবাইকে এবং হেঁটে জওয়ানরা নজরদারি চালাচ্ছেন। মহিলা পর্যটকদের তল্লাশির জন্য মহিলা জওয়ানরা নিযুক্ত রয়েছেন। যেসব জায়গায় এখনো থ্রি-ফেজের তারকাঁটার বেড়া দেয়ার কাজ সম্পূর্ণ হয়নি, সেখানে সার্চলাইট ব্যবহার করা হচ্ছে।

।।দিনকাল অনলাইন/এএকে।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।