ভাসানচর কী হবে আমাদের ঠিকানা!


এক সময়ের জনমানবশূন্য ঠেঙ্গারচর বর্তমানে যেটি ভাসানচর নামে পরিচিত। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এখন এই চরটি বেশ আলোচিত ও পরিচিত লাভ করতে যাচ্ছে রোহিঙ্গা পুনর্বাসন কেন্দ্র হিসেবে। বিভিন্ন তথ্যসূত্র মতে,আগে এই চরে কোন জনবসতি ছিলনা তবে সমুদ্রে মাছ ধরতে আসা জেলেরা অস্হায়ী বিশ্রামের জন্য চরটিতে অবস্হান করত। তাছাড়া সাধারণ মানুষ এ চরটি সম্পর্কে কিছুই জানত না। অবশেষে মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত হয়ে বাংলাদেশে আগত লক্ষাধিক রোহিঙ্গা শরণার্থীর ঠিকানা হতে যাচ্ছে সেই ভাসানচরেই। অবকাঠামো নির্মাণ কাজ এখন প্রায় সমাপ্তির দিকে। চার সদস্য বিশিষ্ট প্রতিটি পরিবারকে দেওয়া হবে একটি করে কক্ষ। আর প্রতিটি কক্ষে থাকছে দোতলা বিশিষ্ট ২টি বেড। ইতোমধ্যে অভ্যন্তরীণ সড়ক, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহসহ প্রকল্পের প্রায় কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সমাপ্তির পথে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজও। সরকারের লক্ষ্য একটাই, যত দ্রুত সম্ভব রোহিঙ্গাদের কক্সবাজার থেকে সেখানে স্থানান্তর করে নিয়ে আসা। বর্তমান সরকার কক্সবাজার জেলা তথা বিশেষ করে উখিয়া-টেকনাফের সাধারণ মানুষের বিবিধ অসুবিধার কথা মাথায় রেখে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের এই ভাসানচরে দ্রুত স্থানান্তর করতে বিশাল প্রকল্পটি হাতে নিয়েছে। কিন্তু দুঃখ ও আশ্চর্যের বিষয় এই,রোহিঙ্গারা নাকি ভাসানচরেও যাবেনা ও মিয়ানমারেও যাবেনা! তাহলে কী উখিয়া-টেকনাফবাসী এই চরে যাবে?এমনিতে আশ্রিত রোহিঙ্গারা যেভাবে দিন দিন বেপরোয়া হচ্ছে তাতে সাধারন মানুষ কিন্ত আতংকিত ও শংকিত। তার উপর জাতিসংঘ ও বিশ্ব মানবতাবাদীদের রোহিঙ্গা দরদ ও কিছু আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা কর্তৃক রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশে অনুপ্রাণিত করা কী কোন উদ্দেশ্য হাসিলের অংশ?বিশ্ব মানবতাবাদী ও শান্তিরদূতরা বাংলাদেশ সফরে এসে শুধু রোহিঙ্গাদের জন্য মানবতার কথা বলে আর শান্তির বাণী শোনায়। রোহিঙ্গাদের কারণে কক্সবাজার জেলায় বিশেষ করে উখিয়া -টেকনাফের সাধারণ জনগণ কী নিদারুণ কষ্টে দিনযাপন করে যাচ্ছে তা নিয়ে মানবতাবাদী ও শান্তিদূতদের কোন ধরনের মাথাব্যথা নেই। যদিও এক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার খুবই সতর্ক এবং দেশের জনগণের স্বার্থকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন।বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর কাছে উখিয়া-টেকনাফবাসীর একটাই অনুরোধ,আশ্রিত রোহিঙ্গাদের দ্রুত ভাসানচরে স্থানান্তরের পাশাপাশি তাদের মিয়ানমারে ফেরত নিতে আন্তর্জাতিকভাবে মিয়ানমারকে চাপ সৃষ্টি করা। অন্যথায় এই অঞ্চল নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীরা তাদের স্বার্থ উদ্ধারের সুযোগ নিতে তৎপর থাকবে।
লেখক-মাষ্টার সাইফুল ইসলাম।

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।