মমতা-নির্বাচন কমিশন বিরোধ তুঙ্গে

mamata2-dtn

ভারতের জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সাথে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধ তুঙ্গে উঠেছে। পশ্চিমবঙ্গের পাঁচ জেলার পুলিশ সুপার ওউত্তর ২৪ পরগনার জেলা প্রশাসকসহ আট কর্মকর্তার বদলির নির্দেশ দিয়েছেন। এতে মারাত্মক ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা।

নির্বাচন কমিশনের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে তিনি বলেছেন, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের বদলি সংক্রান্ত জাতীয় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ তিনি মানবেন না।

এদিকে নির্বাচন কমিশনও কড়া অবস্থান নিয়েছে। কমিশন বলেছে, মঙ্গলবার ১১টার মধ্যে তাদের নির্দেশিকায় সই না করলে চরম ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

এতে দুইপক্ষ পাল্টাপাল্টি এ অব্স্থানের ফলে পশ্চিমবঙ্গের সংশ্লিষ্ট পাঁচ জেলার ভোট পিছিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রের বরাত দিয়ে জি নিউজ জানায়, এ ঘটনায় লোকসভার ওই আসনগুলোতে ভোট বাতিল হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

এর আগে সোমবার নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গের পাঁচ এসপি, একজন ডিএম ও দু`জন এডিএম-এর বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়। আর এতেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন মুখ্যমন্ত্রী।

নির্বাচন কমিশনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মমতা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, তিনি মোটেও নির্বাচন কমিশনারের এ নির্দেশ মানবেন না।

ডিএম, এডিএম এবং পুলিশ সুপারদের বদলির সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করতে গিয়ে নির্বাচন কমিশনকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বদলির ঘটনা নিয়ে মমতা নির্বাচন কমিশন এবং বিরোধী দলগুলোর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনেছেন। সরাসরি আক্রমণ করেছেন উপ-মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বিনোদজুত সিকেও।

হুগলির পাণ্ডুয়ার সভায় সরাসরি চক্রান্তের অভিযোগ তুললেন নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে।

তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়নি নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন,“নির্বাচন কমিশনসুষ্ঠু ও দুর্নীতি মুক্ত নির্বাচন চায়। যদি এই কর্মকর্তাদের বদলি করা না হয়তাহলে ওই লোকসভা কেন্দ্রগুলোতে নির্বাচন বাতিল হতে পারে।”

নির্বাচন কমিশন বলেছে, এই আট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্টতার অভিযোগ আসার পরই তাদের বদলির নির্দেশ দেয় কমিশন।

উল্লেখ্য, ১৭ এপ্রিল থেকে পশ্চিমবঙ্গে পাঁচ দফার ভোট শুরু হবে।

দেশটির নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী রাজ্যের ভোটগুলো হবে ৫ দফায়।

১৭ এপ্রিল (প্রথম দফা)- কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি।

২৪ এপ্রিল (দ্বিতীয় দফা)- রায়গঞ্জ, বালুরঘাট, মালদা উত্তর, মালদা দক্ষিণ, জঙ্গিপুর, মুর্শিদাবাদ।

৩০ এপ্রিল (তৃতীয় দফা)-হাওড়া, হুগলি, আরামবাগ, বর্ধমান পূর্ব, দুর্গাপুর, বোলপুর, বীরভূম, শ্রীরামপুর, উলুবেড়িয়া।

৭ মে (চতুর্থ দফা) -ঝাড়গ্রাম,মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বিষ্ণুপুর,আসানসোল।

১২ মে (পঞ্চম দফা)- দক্ষিণ কলকাতা, উত্তর কলকাতা,যাদবপুর, দমদম, বহরমপুর, রানাঘাট, বনগাঁ, বারাকপুর, জয়নগর, বসিরহাট, বারাসাত, মথুরাপুর, ডায়মন্ডহারবার, তমলুক, কাঁথি, ঘাটাল।

১৬ মে ভোট গণনা হবে। এবং ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।