মহেশখালীতে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় আইয়ুব আলীও জালাল বাহিনী মরিয়া

DSCI0305 copy 5
এ.এম হোবাইব সজীব
অক্ষত অস্ত্র উদ্ধারের দাবী এলাকাবাসীর, ৬ বছরে নিহত ৮,আহত শতাধিক,দাঙ্গা-হাঙ্গামা ৫০ বার
মহেশখালীর হোয়ানক ইউনিয়নে ফের মাথাচড়া দিয়ে উঠেছে সন্ত্রাসীরা। চিংড়ি মৌসুমকে সামনে রেখে এলাকার আধিপত্য বিস্তারের নাম ভাঙ্গিয়ে থানার তালিকাভূক্ত সন্ত্রাসীরা জড়ো হচ্ছে বলে জানা গেছে। ফলে সাধারণ মানুষের মাঝে নিরব আতংক বিরাজ করছে। জানবাজি রেখে হোয়ানক দখল করতে মাঠে নামতে পারে আইয়ুব আলী বাহিনীর তাড়া খেয়ে এলাকা থেকে বিতাড়িত স্থানীয় জালাল বাহিনীর অনুগত সদস্যরা। দু” বাহিনীর প্রধানদের মধ্যে জালাল র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়ে কক্সবাজার জেলা কারাগারে রয়েছে অপর জন দেলোয়ার পুলিশের এনকাউন্টারে মারা যাওয়ায় তাদের অনুগত ক্যাডাররা এখন এলাকার কর্তৃত্ব বজায় রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
হোয়ানক ইউনিয়নের কালাগাজী পাড়ার বিস্তীর্ণ জনপদের লোকজন উক্ত দু”বাহিনীর প্রতাপে এখানে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে দিন কাটাচ্ছে। দু” বাহিনীর আক্রমণ পাল্টা- আক্রমনের ঘটনা ঘটছে বিভিন্ন সময়। দু”বাহিনীর লোকজনকে বলতে শোনা গেছে এবার লড়াই হবে তাদের বাচাঁ মরার লড়াই অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। তাই যে কোন মূল্যের বিনিময়ে হোয়ানক বিস্তির্ণ জনপদ তাদের সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিণত করতে দু” বাহিনীর সন্ত্রাসীরা জানবাজি রেখে লড়বে। জানা গেছে, গত ৬ বছরের বেশী সময়ে হোয়ানক জালাল ও দেলোয়ার বাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত আইয়ুব আলী বাহিনীর মধ্যে ৫০টির মতো বড় ধরনের দাঙ্গা-হাঙ্গামার ঘটনা ঘটেছে। খুন হয়েছে ৭ জনের অধিক লোক তারা হলেন, গত ২০১২ সালে ১৮ জানুয়রী একটি হত্যা মামলার তদন্তকাজ পরিচালনা করতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হয় পুলিশ কর্মকর্তা পরশ কুমার ত্রিপুরা, কালা কাতুন,জান্নাতুল মাওয়া, মুজিব উল্লাহ, আশেক উল্লাহ, রহমত উল্লাহসহ নাম না জানা আরো ও অনেক মায়ের সন্তান।
এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, লবণের মাঠ ও চিংড়ি ঘের দখল, পাহাড় দখল করে পানের বরজ তৈরী ধানের জমি দখলÑবেদখকে কেন্দ্র করে ইউনিয়নটির কালাগাজীর কাঠাঁল তলী পাড়ার সন্ত্রাসী কর্মকান্ড হয়ে থাকে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। একটি হত্যা কান্ড সংঘঠিত হলেও প্রতিপক্ষের লোকজনের হাতে আরেকটি হত্যা কান্ড সংগঠিত হওয়া ইউনিয়নটি যেন মৃত্যু পূরিতে পরিণত হয়েছে। গত ৬ বছরের শুধু মাত্র দখল-বেদখলকে কেন্দ্র করে ৭/৮ জনের অধিক মানুষকে খুন করা হয়েছে। এসব হত্যা কান্ডের বিচার প্রক্রিয়া বিঘœাত করা সহ আরেকটি হত্যা কান্ড সংঘঠিত করার কারণ হচ্ছে রাজনৈতিক নেতাদের প্রত্যেক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে ইন্দন রয়েছে।

সরেজমিনে পরির্দশন কালে দেখা যায়, কালাগাজি পাড়ার বিগত ২/৩ বছর পূর্বে যেখানে শতাধিক পরিবার পাহাড়ে পান বরজ ও কৃষি কাজ করে সংসার চালাত সেখানে দুসুর মরুভুমি হয়ে আছে কয়েকটি বাড়ির পুরানো দেওয়াল মাত্র। সম্প্রতি আইয়ুব আলী বাহিনীর সদস্যরা বাড়ী ঘরে ফিরলে পুড়িয়ে দেওয়ায় ঘরবাড়ি ঝুঁপড়ি ঘরে স্টাইলে তৈরি করে কোন মতে বসবাস করছে বলে জানা গেছে। একটি হত্যা মামলার তদন্ত করতে এসে মহেশখালী থানা পুলিশের উপ-পরির্দশক পরেশ কুমার কারবারী নিহতের ঘটনাকে পুঁজি করে জালাল বাহিনীর কাড্যারা তথ্য কালিন ইউপি মেম্বার জোনাব আলীর বসত বাড়ি সহ প্রায় অর্ধ শতাধিক বসত বাড়িতে অগ্নি সংযোগ করে পুড়িয়ে দেয়। ওই সময় জোনাব আলীর বাড়িসহ নিরীহ মানুষের সমস্ত মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায় ওই বাহিনীর সদস্যরা।
গৃহহারা মানুষ গুলি দিনের পর দিন অনাহারে মানবেতর জীবন যাপন করে দীর্ঘ ২/৩ বছর পর সম্প্রতি জালাল বাহিনীর সদস্যদের দাওয়া করে এলাকা থেকে বিতাড়িত করে জোনাব আলী আত্মীয়স্বজন বাড়ীতে ফিরলেও কারা আন্তরীণ জালাল বাহিনীর দায়িপ্রাপ্ত সেকেন্ডইন কমান্ড শামসু আলমের নেতৃত্বে শতাধিক সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যরা জড়ো হয়ে ফের এলাকায় ফিরতে মিশন নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অত্যাধুনিক অস্ত্রসহ গোলাবারুদ সংগ্রহ করতেছে বলেও খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া সন্ত্রাসীদের হামলায় বিভিন্ন সময় আহত হয় পুলিশ,আনসার ও যৌথ বাহিনীর সদস্যরা।
পুলিশের কাছ থেকে দাগী আসামী ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে উক্ত এলাকায়। দু গ্রুপের মধ্যে জালাল বাহিনীর সদস্যরা পলাতক থাকলে আইয়ুব আলী বাহিনীর সদস্যরা হোয়ানক কালাগাজীর কাঠাঁলতলী এলাকার পার্শ্ববর্তী এলাকায় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে ডাকাতি, ছিনতাই, অস্ত্র ব্যবসা,চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধ কর্ম চালিয়ে যাচ্ছে দীর্ঘদীন ধরে। আবার যে কোন মুর্হুতে জালাল বাহিনীর সদস্যরা এলাকার কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় গুপ্ত হামলা চালিয়ে আইয়ুব আলী বাহিনীর উপর ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে বলে এমন কথার উদয় হচ্ছে সচেতন মহলের কাছে। বিভিন্ন সময় পুলিশ যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়ে এ পর্যন্ত দুই’শত মতো সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেছে বলে জানা গেছে। সন্ত্রাস বিরোধী অভিযান ও সন্ত্রাস উভয়ই চলছে সমান তালে। এলাকার প্রভাবশালী রাজনীতিক ও সুবিাধাভোগী দালার চক্র এলাকায় আইয়ুব আলী বাহিনীর সন্ত্রাসী গ্রুপকে ইন্ধন যুগাচ্ছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছে।
জানা গেছে, উপজেলার হোয়ানক দেশের আধুনিক হালকা ও ভারী আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে বলে বিভিন্ন গোয়ান্দা সংস্থা ও র‌্যাব নিশ্চিত হয়েছে। তাছাড়া পুলিশ-সন্ত্রাসী বন্দুক যুদ্ধের সময় প্রকাশ্যে ব্যবহার হয়েছে আধুনিক ভারি অস্ত্র। এসব অস্ত্র উদ্ধারের প্রয়োজন মনে করছেন এলাকাবাসী। তবে স্থানীয় একাধিক সূত্রে দাবী পুলিশ, সাধারণ জনগণ আন্তরিক হয়ে হোয়ানক কালাগাজীর কাঠাঁলতলী পাড়া গ্রামের এ দুই গোষ্ঠির মধ্যে আপোষের ব্যবস্থা করে তাহলে এ পরিস্থিতি সামাল দেয়া সম্ভাব হবে। কিন্তু আপোষ হচ্ছে না! তবে এ সন্ত্রাসের ব্যাপকতার পেছনে স্থানীয় রাজনৈতিক দলের সুবিধাবাদি গডফাদারদের অবস্থান কে দায়ী করেছেন অনেকেই।
অস্ত্র ও অস্ত্রের উৎস ঃ আইয়ুব আলী বাহিনীর হাতে অস্ত্র ও গোলাবারুদ থাকলেও জালাল বাহিনীর হাতে রয়েছে ভয়ংকর সব অস্ত্র। এসব অস্ত্রের মধ্যে জি-ফোর, রকেট লাঞ্চার সহ অত্যাধুনিক সব অস্ত্র রয়েছে এ বাহিনীর হাতে। ভারী অস্ত্র ছাড়াও দেশীয় অস্ত্রের ব্যবহার এত বেশী হয় যে, অস্ত্রের চাহিদার কথা ভেবে সেখানে অস্ত্রের কারখানা করা হয়েছে। বর্তমানে এসব অস্ত্রের কারখানায়, কাটা বন্দুক, ত্রি-কোয়ার্টার, লম্বা বন্দুুকসহ নানা ধরনের দেশীয় অস্ত্র প্রস্তুুত করা হয়ে থাকে। পাশ্ববর্তী বড় মহেশখালী ইউনিয়ন ছাড়া ও ইউনিয়নটির পানিরছড়া,কালাগাজী পাড়া নামক এলাকাসহ কেরুনতলী পাহাড়ে এসব অস্ত্র তৈরি করে থাকে।
মহেশখালী থানার ওসি সাইকুল আহমেদ জানান, সন্ত্রাসীরা চিংড়ি মৌসুমকে সামনে রেখে কোন স্থানে মাথা চড়া দিয়ে উঠতে না পারে সে জন্য পুলিশের চলতি অভিযান জোরদার রয়েছে।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।