মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিপূরণের চেক নিতে নানা ভোগান্তি

Moheshkhalirrr-Pic-14-7-14
মাতারবাড়িতে অধিগ্রহনকৃত জমির ক্ষতিপুরণের টাকা হাতিয়ে নিতে ভুয়াঁ দলিল সৃজন করে বিভিন্ন লোকজনের টাকা হাতিয়ে নিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি প্রতারক চক্র। সম্প্রতি দাখিলকৃত দুইটি দলিলের সত্যতা যাচাই করতে মুলনথি তলব করলে এই জালিয়াতির প্রমান পায় জেলা ভুমি হুকুম দখল অফিস। এ ছাড়াও ভুঁয়া অভিযোগের কারণে চেক আটকে যাওয়ায় ভীতির সঞ্চার হয়েছে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য অধিগ্রহনকৃত জমির মালিকদের মাঝে। ভূয়া অভিযোগ করে চেক আটকিয়ে টাকার ভাগ দাবি করছেন অনেকেই।
ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে মহেশখালীর মাতারবাড়িতে নির্মিতব্য কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য অধিগ্রহনকৃত জমির মালিকদের ক্ষতিপুরণ বাবদ চেক বিতরণ শুরু হলেও এখন থমকে দাড়িয়েছে বিতরণ কার্যক্রম। ভূয়া দলিল ও ভূয়া অভিযোগই এর প্রধান কারণ বলে জানালেন ভুক্তভোগীরা। আবার অনেকেই পূর্ব শত্রুতার জের ধরে একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে টাকা উত্তোলন বাধাগ্রস্ত করছেন। যার ফলে অনেকেই টাকা তুলতে কক্সবাজার এসে হতাশ হয়ে পড়েছেন।
মাতারবাড়ির মাষ্টার মোহাম্মদ উল্লাহ জানিয়েছেন, সম্প্রতি ভ’য়া দলিল দাখিল করে নানা জটিলতা সৃষ্টি করে চলেছে একটি চক্র। যার ফলে চরম ভোগান্তি শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ লোকজনকে।
ভূমি হুমুম দখল অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা যায় সম্প্রতি ছোট মহেশখালীর সিপাহী পাড়ার মোহাম্মদ জহির এর নামে দুই একর জমির কবলার দলিল দাখিল করা হয়। এতে ক্ষতিপুরণ বাবদ দাবী করা হয় প্রায় ১ কোটি টাকা। তিনি জমি কবলা নিয়েছেন মাতারবাড়ির ইমান শরীফ থেকে। যার কবলা নং-১৮২৩। এতে রেজিস্ট্রির তারিখ দেখানো হয় ১৯৮৩ সালের ৪ মে। এতে সন্দেহ হলে মুলনথি তলব করে ভূমি হুকুম দখল অফিস। পরে যাচাই বাচাই করে ওই দলিলের কোন প্রমান মূলনথিতে পাওয়া যায়নি। খোজ নিয়ে জানা যায় মাতারবাড়িতে উক্ত ঠিকানায় ওই নামের লোক থাকলেও তিনি ১৯৮০ সালের আগেই মৃত্যু বরণ করেছেন।
কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের গোদার পাড়া গ্রামের মকবূল আহমদের পুত্র আবদুর রহমান দাখিল করেছেন আরেকটি দলিল। তিনি ১৯৮৪ সালের ২ আগষ্ট কবলা নিয়েছেন কুতুবদিয়া বড়ঘোট ইউনিয়নের ছাবেরা খাতুন স্বামী বজল মিয়া, ছিদ্দিক আহমদ ও সদ্দার আহমদ থেকে সাড়ে ৩ একর জমি। যার কবলা নং- ১২২০। এতে ক্ষতিপুরণ হিসাবে দাবী করা হয়েছে প্রায় আড়াই কোটি টাকা। পরে নথি তলব করলে এই দলিলেরও কোন অস্থিত্ব পাওয়া যায়নি।
মাতারবাড়ির মাষ্টার রুহুল আমিন জানান, সরকারের এই মেগা প্রকল্পের জন্য মাতারবাড়ির মানুষ অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছে। তাদের শত বছরের আবাদি জমি দেশের উন্নয়নের স্বার্থে সরকারের হাতে তুলে দিচ্ছেন। প্রায় ১৪১৪ একর জমি অধিগ্রহন করা হলেও এতে জমির মালিকরা পূর্ণ সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন, যা অনন্য দৃষ্ঠান্ত। মাতারবাড়ির মানুষের ত্যাগ দেশের অন্যরাও দেশের উন্নয়নের স্বার্থে অনুসরণ করবে। এতকিছুর পরও মানুষ শান্তিতে নিজের জমির টাকা উত্তোলন করতে না পারা হতাশাজনক। সম্প্রতি জেলা রাজস্ব কর্মকর্তার কার্যালয়ে অভিযোগের স্তুপ পড়েছে। যার অধিকাংশই ভুয়া। একই সাথে জমা পড়েছে বিপুল ভুয়া দলিল। একটি চক্র এখন ভুয়া দলিল সৃজনে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। জমির প্রকৃত মালিকদের হয়রানি করতেই এভাবে অভিযোগ পড়ছে। অভিযোগ দেওয়ার সাথে সাথে নিষ্পত্তি হলে হয়রানি অনেক কমে যেত। তা না হওয়ায় চেক বিতরণের শুরু থেকেই অভিযোগের কারণে অনেক জমির মালিককে কক্সবাজারে থেকে রাজস্ব কর্মকর্তার কার্যালয়ে দৌড়ঝোপ করতে হচ্ছে।
রাজঘাটের জাহাঙ্গীর বাদশা জানান, আমরা স্বেচ্ছায় জমি ছেড়ে দিয়েছি, তাই সুন্দর ভাবেই ক্ষতিপুরণের টাকা উত্তোলন করতে চাই। ভূয়া অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় এমনটি হচ্ছে। ওই প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিলে মানুষের হয়রানি আরো কমে আসত।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(রাজস্ব) মোঃ জাফর আলম জানান, মানুষের হয়রানি কমাতে যথাসাধ্য চেষ্টা করা হচ্ছে। যারা ভূয়া অভিযোগ ও ভূয়া দলিল দাখিল করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দৈনিক কক্সবাজার

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।