৩০ শতাংশ পুলিশ মাদকের সাথে জড়িত : সাবেক আইজিপি

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান জিরো টলারেন্স জানিয়ে ও পুলিশ বাহিনীকে সতর্ক করে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, নিরপরাধ কাউকে মিথ্যা মামলা বা মাদক দিয়ে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে অপরাধী বানানোর চেষ্টা করলে জড়িত পুলিশ সদস্যদেরও কোনো ছাড় দেয়া হবে না। আর মাদকের সাথে কোনো পুলিশ সদস্যের জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গতকাল শনিবার সবুজবাগ থানার নতুন বহুতল ভবন নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। ডিএমপি কমিশনার বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কোনো ধরনের সহিংসতা করার চেষ্টা করা হলে তা কঠোর হাতে দমন করা হবে। ২০১৮ সালকে ঘিরে যদি কেউ কোনো রকম ২০১৩, ১৪, ১৫, ১৬-এর মতো অরাজকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা করে তাদের ছাড় দেবে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

আছাদুজ্জামান বলেন, পুলিশের তৎপরতায় বর্তমানে রাজধানীতে ছিনতাই, চাঁদাবাজির মতো অপরাধ কমে গেছে। অজ্ঞান পার্টির তৎপরতাও নেই। কেউ চাঁদাবাজি করলে, সে যেই হোক তাকে কঠোরভাবে দমন করা হবে। ডিএমপি কমিশনার আরও বলেন, ঢাকা মহানগরীর নাগরিকদের তথ্য ডিএমপি’র সদস্যরা ডাটাবেজে সংরক্ষণ করছে। আমরা নিজেদের চেষ্টায় ১৯ লাখ পরিবারের ৮০ লাখ সদস্যের তথ্য সিআইএমএস ডাটাবেজে সংরক্ষণ করেছি। জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ দমনে এই ডাটাবেজ অনেক কাজে আসছে। এর ফলে আমাদের অপরাধ ডিটেকশনের ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ডিএমপি’র মতিঝিল বিভাগের সবুজবাগ থানার পাশে ৫০ শতক নিজস্ব জায়গায় ৮ তলা বিশিষ্ট আধুনিক সকল সুবিধা সম্বলিত থানা কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে। এর ফলে সবুজবাগ থানা এলাকায় পুলিশি সেবার মান অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে বলেও জানান ডিএমপি কমিশনার।

৩০ শতাংশ পুলিশ মাদকের সাথে জড়িত : সাবেক আইজিপি

বিভিন্ন থানা ও ফাঁড়ির ৩০ শতাংশ পুলিশ মাদকের সাথে জড়িত, ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি মাদকের সাথে জড়িত পুলিশ, Rab, বিজিবিসহ আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের কাউকে ছাড় না দেয়ার সুপারিশ করেছেন সাবেক আইজিপি নুরুল আনোয়ার। আর অপরাধ বিশ্লেষক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন বলছেন, মাদক নির্মূলের নামে হত্যাকান্ডের পক্ষে সাফাই গাওয়া খুবই দুঃখজনক।

মাদক নির্মূলে দেশের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালায় আইন-শৃংখলা বাহিনী। বিভিন্ন মাদক চিহ্নিত এলাকায় পুলিশ-Rab এর অভিযান নিয়ে জনমনে তৈরী হয়েছে প্রশ্ন। এছাড়াও বন্দুকযুদ্ধে শতাধিক নিহত হওয়ার ঘটনাগুলো বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে সাধারণ মানুষের কাছে।সবশেষ টেকনাফে কাউন্সিলর একরাম নিহতের ঘটনায় মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে চলছে আলোচনা সমালোচনা।

বর্তমানে মাদকের মধ্য ইয়াবা ব্যবহারকারি সব’চে বেশি। আর এই ইয়াবার চালান মিয়ানমার থেকে নাফ নদী ও অরক্ষিত সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করছে বাংলাদেশে। অথচ সেই সীমান্ত অরক্ষিত রেখে সারাদেশে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো যেনো অনেকটা শিকড় রেখে গাছের পাতা কেটে ফেলার সামিল, এমনটাই মনে করেন সাবেক আইজিপি নুরুল আনোয়ার।

অভিযোগ রয়েছে, মাদকের সাথে আইন-শৃংখলা বাহিনীর অনেক সদস্যও জড়িত। সাম্প্রতিক সময়ে এমন কিছু প্রমানও পাওয়া গেছে ।মাদকসেবী বা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সক্রিয় থাকলেও আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বলে মনে করেন অনেক

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।