মালায়শিয়ায় অবৈধ শ্রমিকদের এক ঘন্টা শ্রমের দাম পাঁচ রিংগিত তাও মিলে চল্লিশ দিন পর!

2016-08-30 02.52.10
আব্দুল্লাহ সানি,
সম্প্রতি মালায়শিয়ায় অবস্থিত অগনিত অবৈধ শ্রমিক রয়েছে,যার মধ্যে রয়েছে বেশিরভাগ বাংলাদেশি ও বার্মার,যদিও বার্মার শ্রমিকরা কারাভুগ করার পরে শরনার্থি কার্ডের ব্যবস্থা রয়েছে,কিন্তু বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য তাও নেই,আবার অনেক বাংলাদেশি শ্রমিক যখন জেলে পড়ে তখন অপারগ হয়ে বার্মার পরিচয় দিয়ে থাকে,এতে মালায়শিয়ার ইমেগ্রেশনের চোখ ফাঁকি দিতে পারলেও অনেকে পারেনা,কারন ওখানে বার্মার এক ধরনের লোক রয়েছে যাদের কাজ হচ্ছে কোনটা বাংলাদেশি আর কোনটা মায়ানমারের তা চিহ্নিত করা,যখন কোনো বাংলাদেশি মায়ানমারের বলে দাবী করে তখন তাকে জেরা করলে ধরা পড়ে যায়,পরিশেষে অনেক দিন জেল কাটার পর তাকে স্বদেশে ফিরিয়ে দেয়া হয়,আর যারা ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে তারা যেসব কাজ করে কোনো রকম চলে তা হলো,বিশেষ করে নির্মাণাধীন কাজ,রাস্তাঘাট পরিষ্করণ, লেবারি কাজ,ও বিভিন্ন ফেক্টোরির কাজ,গাছ কাটার কাজ,এবং দিপ্রহরি ও নৈশপ্রহরি কাজে এদের ব্যবহার করা হয়,বিশেষ করে চাইনা ও ইন্ডিয়ান কোম্পানি লোকেরা এদের ব্যবহার করে থাকে,প্রথমে অবৈধ শ্রমিকদের জন্য সারি বদ্বভাবে বানানো হয় থাকা খাওয়ার স্থান,পরে চতুর দিকে বেস্টনি দিয়ে ঘিরে রাখা হয় যাতে করে কোনো প্রশাসনের চোখে নজর না পড়ে,
একেকটা বস্তিতে কম করে হলেও এক হাজার শ্রমিক থাকে,যেখানে রয়েছে কিছু বাংলা কিছু মায়ানমার কিছু পাকিস্তানি,ইন্দোনেশীয় ভিয়েতনামের অবৈধ প্রবাসী শ্রমিক,যাদের ঘামের ফোটায় কামিয়ে নিচ্ছে চাইনা মালায় ও ইন্ডিয়ান তামিলরা লক্ষ লক্ষ মালায়শিয়ার রিংগিত,ওখানে রয়েছে আবার দক্ষ অদক্ষ শ্রমিক,যে কাজের সব কিছু বুঝে জানে তাকে দেয়া হয় ক্যপ্টিনের দায়িত্ব, যাকে মালায় ভাষায় বলা হয় (কাপেলা)তাকে এককালিন মাসিক কাজের ম্যপ বুঝিয়ে দেওয়া হয়,কাজ যখন তার আন্ডারে চলে যায় সে বাকিদের কাছ থেকে কমিশন নিতে থাকে,যেমন একটি কাজে লোক দরকার বিশজন সে নিল ত্রিশজন,বস সব শ্রমিককে সমান টাকা দিলেও সে বাকি দশ শ্রমিকদের দেয়না,প্রতিজন থেকে দৈনিক দশ থেকে বিশ রিংগিত করে কমিশন খেয়ে থাকে,বিশেষ করে নির্মাণাধীন কাজে এটা হয়ে থাকে,
অনেক কাপেলা আছে যারা শ্রমিকের টাকা না দিয়ে খেয়ে ফেলে দেবে দেবে বলে পার করে দেয় মাসের পর মাস,কিছুদিন পর হাত পাতলে একশ টাকা ধরা দিয়ে বলে এটা নিয়ে চল বস এখনো বেতন দেয়নাই,কাওরে বুঝানোর সযোগ নাই ওখানে,অনেক শ্রমিক এক হয়ে কাপেলার নামে নালিশ করে কিন্তু বস বলে আমি তাকে দিয়েছি,কারন ওখানে শ্রমিকের অভাব নাই কিন্তু কাপেলার অভাব তাই,শ্রমিকদের জন্য রয়েছে একটা ক্যান্টিন যেখানে থাকবে নাস্থা জাতিয় আইটেম পান সিগারেট মোবাইলের কার্ড কাজের পোষাক সব ব্যবহারে জিনিষ পত্র,বাইরে বা টাউনে যাওয়ার সযোগ নাই কারো কারন সাবাই অবৈধ,
কখন না কখন পুলিশের সামনে পড়ে বলা যাইনা তাই সবাই ওখান থেকে নিত্বপ্রয়োযনিয় জিনিস নিতে হয় এক টাকা দামের জিনিস নিতে হবে দুই টাকা দামে,না নিয়ে কোনো উপাই নেই,বাকী করলে আরো দাম দিতে হবে,
এর পর হচ্ছে থাকার ব্যবস্থা,দৈনিক একটা শ্রমিক কাজ করে প্রায় দশ থেকে চৌদ্দ ঘন্টা,অতপর খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা রান্নাবান্না করা গোসল করা কাপড় ধোয়া বাড়িতে একটু কথা বলা,তার পর ঘুমানোর ব্যবস্থা যেটা খুব দামি,ঐ আরামের ঘুম যদি হয় গবীর জংগলে বা কোনো উছু পাহাড়ে তখন আর কি ঘুম হবে তাদের,ওখানে রয়েছে গবীর লম্বা সারি সারি পাম্প অয়েল গাছ,যেখানে ঢোকলে গা ছিম ছিম করবে আপনার,সেখানেই খোব একাটা ভিতরে গিয়ে একটা পাটি একটা বালিশ,নিছ থেকে যেন পানি না উঠে তার জন্য একটা প্লেন্সার অর্থাৎ কাজের সময় ব্যবহার করা হয় যাকে আমরা স্টেইন বলি,এসব করে দুইতিনজন মিলে মিলে থাকে,অনেক সময় সিক্রোটি বাশি দিলে ওখান থেকেও উঠে দৌড় মারতে হয় তাদের,এভাবে কেটে যায় রাত, ভোর শুরু হওয়ার আগে থেকে বের হওয়া শুরু জংগলথেকে,কারন গোসল করার পানি প্রতিদিন থাকেনা তাই,যার আগে যে ধুইতে পারে,তার পর সকাল খাবার খেয়ে দৌড় মারতে হবে (সেফটি ক্লাস)অর্থাৎ কিভাবে কাজ করবে মাথায় হেলমেট আছেকিনা বা কাজের সময় জুতা পরছেকিনা এসব দেখবে একজন চাইনা বা কোম্পানির যে কোনো একজন,তারপর যার যার কাজের গনতব্য স্থলে চলে যাবে,
এ হলো মালায়শিয়ার অবৈধ শ্রমিকদের প্রবাসি জিবন,

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।