মিয়ানমার থেকে গবাদিপশু আসছে

২০ দি বন্ধ থাকার পর কোরবানির ঈদ তথা ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে মিয়ানমার থেকে সাগরপথে কাঠের ট্রলারে করে গবাদিপশু আসা শুরু হয়েছে। গত দুই দিনে ১৬টি ট্রলারে করে মোট ২ হাজার ১২৯টি গবাদিপশু এসেছে। টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীরদ্বীপ ক্যাডল করিডোরটি শুল্ক স্টেশনের আওতাধীন একটি পয়েন্ট। মিয়ানমার থেকে চোরাই পথে গবাদিপশু আসা রোধ করতে ২০০৩ সালের ২৫ মে শাহপরীরদ্বীপে বিজিবির চৌকি সংলগ্ন এলাকায় এই ক্যাডল করিডোরটি চালু করা হয়। আমদানি করা গবাদিপশু প্রথমে বিজিবির তত্ত্বাবধানে রাখা হয়। পরে সোনালী ব্যাংকে চালানের মাধ্যমে রাজস্ব জমা এবং স্থলবন্দরের শুল্ক স্টেশনের অনুমতি নিয়ে গবাদিপশুগুলোর জন্য করিডোর থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। পাশাপাশি টেকনাফ উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তারও ছাড়পত্র প্রয়োজন হয়। শাহপরীরদ্বীপ ক্যাডল করিডোরসহ গবাদিপশুর আড়তের বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা বলছেন, চলতি জুলাই মাসে বৈরী আবহাওয়া ও মিয়ানমারের চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে প্রায় ২০ দিন পশু আমদানি বন্ধ ছিল। এতে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির শিকার হন পশু ব্যবসায়ীরা। বৈরী আবহাওয়া কিছুটা কেটে যাওয়ার পর ফের গবাদি পশু আমদানি শুরু হওয়ায় স্বস্তি মিলেছে। বর্তমানে দামও সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। আগামীতে দাম উঠানামা করতে পারে। এভাবে আমদানী অব্যাহত থাকলে আসন্ন কুরবানীর ঈদে পশুর সংকট হবেনা। টেকনাফ শুল্ক স্টেশন সুত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার ৩০ জুলাই সকালে করিডোরে ৯টি ট্রলারে ১ হাজার ২৪৪টি গবাদিপশু এসেছে। এতে রাজস্ব আদায় হয় ৬ লক্ষ ২২ হাজার টাকা। এছাড়া সোমবার ২৯ জুলাই এসেছে ৮৮৫টি গবাদি পশু। এ দুই দিনে মিয়ানমার থেকে মোট ২ হাজার ১২৯টি গবাদিপশু আসে। এর আগে চলতি জুলাই মাসে মিয়ানমার থেকে পশু আমদানি হয়েছে ৫ হাজার ৯৬৬টি। এর মধ্যে ৩ হাজার ৪৭০টি গরু এবং ২ হাজার ৪৯৬টি মহিষ। মিয়ানমার থেকে সীমান্ত বাণিজ্যের আওতায় ক্যাডল করিডোরের মাধ্যমে গবাদিপশু আমদানিকারক সমিতির সভাপতি টেকনাফ পৌর মেয়র প্যানেল-২ আবদুল্লাহ মনির বলেন, ‘বৈরী আবহাওয়ার মাঝেও মিয়ানমার থেকে পশু আসা শুরু হয়েছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে কোরবানির ঈদে রেকর্ড সংখ্যক পশু আমদানি হবে। আর আমদানি স্বাভাবিক থাকলে পশুর হাটের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রাজস্ব আয়ও বাড়বে। গবাদিপশু আমদানি এবং কেনা-বেচায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা পাচ্ছেন এবং কোথাও কোনও ধরনের সমস্যা হচ্ছেনা। তবে টেকনাফ থেকে শাহপরীরদ্বীপে যাতায়াতে সমস্যা আছে। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে করিডোর সংলগ্ন এলাকায় ব্যাংক এবং শুল্ক স্টেশনের অস্থায়ী বুথ স্থাপন করা গেলে গবাদিপশু আমদানীকারক ও ব্যবসায়ীদের জন্য সুবিধা হতো’। টেকনাফের শুল্ক কর্মকর্তা বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে পশু আমদানি করে এই করিডোর রাজস্ব আহরণে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে গত কয়েকদিন পশু আমদানি বন্ধ ছিল। সোমবার ২৯ জুলাই থেকে ফের পশু আসা শুরু হয়েছে। আমদানি অব্যাহত থাকলে রাজস্ব আয়ও বাড়বে। পশু আমদানি বাড়াতে ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। গবাদিপশু আমদানীকারক ও ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে করিডোর সংলগ্ন এলাকায় ব্যাংক এবং শুল্ক স্টেশনের অস্থায়ী বুথ স্থাপন করার বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে’। ##

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।