মিয়ানমার থেকে গবাদি পশু আসছে

মু. আশেক উল্লাহ ফারুকী () দেশে পর্যাপ্ত পরিমান গবাধীপশু মজুদ, ১৮ জেলা বন্যা কবলিত এবং ভারত থেকে পশু আমদানী না করলেও দেশীয় পশু দিয়ে কোরবানির চাহিদা মেটাতে পারবে বলে একাদিক সূত্র এ তথ্য জানায় । তথ্য মতে কোরবানিকে সামনে রেখে দেশের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলীয় বাংলাদেশে মিয়ানমার সীমান্ত বানিজ্য টেকনাফ স্থল বন্দরস্থ শাহপরীর দ্বীপ ক্যাবল করিডোর দিয়ে মিয়ানমার থেকে বৈরী আবওয়া উপেক্ষা করে প্রটিদিন ঝাঁকে ঝাঁকে গবাধী পশু ঢুকছে। এসব পশুর মধ্যে কিছু শহরে এবং বন্যা কবলিত জেলায় বাজার জাত করা হলেও বাকি পশু টেকনাফে মজুদ করে রেখেছে ব্যবসায়ীরা । পশুর বাজারে পশুর কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে অসাধু ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত মূল্য হাতিয়ে নেয়ার চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে। দেশে ১৮ টি জেলা এখন বন্যা কবলিত এবং ঐসব জেলা এবং উপজেলায় অনেকেই কোরবানি করার সামর্থ নেই । সুতরাং ওখানে কোরবানির পশুর চাহিদা না থাকায় বাকি জেলা এবং উপজেলার লোকেরা দেশীয় পশু এবং মিয়ানমার থেকে আমদানিকৃত পশু দিয়ে কোরবানির চাহিদা টাতে সক্ষম হবে । এমন আশাবাদ অনেকের । সরকারি তথ্য অনুযায়ী শুধু খামারে ১ লাখ ৮০ হাজার পশু মওজুদ রয়েছে । খামার ছাড়াও দেশে বাড়িতে কোরবানি উপলক্ষে পশু মোটা তাজা করন ও লালন পালন করে পশু মওজুদ করে রেখেছে। সুতরাং ভারত থেকে বৈধ ও অবৈধ উপায়ে পশু আমদানির কোন প্রয়োজন নেই বলে অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীরা জানায় । শাহপরীর দ্বীপ ক্যাবল করিডোর দিয়ে যে সব ব্যবসায়ীরা মিয়ানমার থেকে পশু আমদানি করেন তাদের মধ্যে শীর্ষ পশু ব্যবসায়ী শরিফ বলি ও আবু ছৈয়দ। এ দইজন ব্যবসায়ী পশু আমদানির খ্যাত। এছাড়া ক্ষুদে ব্যবসায়ীরা পশুর বাজার দখলে নিতে ইতোমধ্যে পশু মওজুদ করে রেখেছে । এর মধ্যে গোদার বিল, মহেশখালী পাড়া, ডেইল পাড়া, সাবরাং নয়াপাড়া, জিনা পাড়া, দৌগল্যার বিল, কাটাবনিয়া, হারিয়া খালী, শাহপরীর দ্বীপের বাজার পাড়া, দক্ষিন পাড়া, পশ্চিম পাড়া, কোনা পাড়া, উত্তর পাড়া । শাহপরীর দ্বীপ সড়ক ভাংগন ও জলাবদ্ধতার কারণে দীর্ঘ ৮ বছর যাবৎ দেশের মূল ভুখন্ড থেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় শাহপরীর দ্বীপ ক্যাবল করিডোর দিয়ে আমদানি হয়ে আসা গবাধী পশু বাজারজাত করণে বাধার সুম্মুখীন হয়ে ব্যবসায়ীরা নানা বিড়ম্বানার শিকার হচ্ছে। বিকল্প হিসেবে নদনদীর প্রতিরক্ষা বেড়ীবাধ দিয়ে পশু বাজার জাত করতে গিয়ে বেড়িবাধের ক্ষতিযাধীত হচ্ছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কতৃপক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে । আপরদিক করিডোর দিয়ে আসা সিংহভাগ গবাধী পশু হুন্ডির মাধ্যমে আমদানি হয়। স্থল বন্দর টেকনাফ শুল্ক ষ্ঠেশনে শুল্ককর দিয়ে এসব গবাধী পশু বৈধ হয়ে যায়। টেকনাফ ২ বর্ডার গার্ডর্ (বিজিবি) অধীনায়ক লেঃ কর্ণেল মোঃ ফায়সেল হাসান খান এ প্রসংগে স্থানীয় সাংবাদিকমর্ীরা মাদক সংক্রন্ত সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন পশু ব্যবসায়ীরা গবাধী পশু মিয়ানমার থেকে কিভাবে আমদানি করেন, তা আমার জানার বিষয় নয়। আমি একটুকুু জানি ব্যবসায়ীরা শুল্ককর দিয়ে পশু আমদানি করে থাকে । অভিযোগ উঠেছে, সীমান্তের ইয়াবা ব্যবসায়ীরা মাদকের অর্জিত কালোটাকা এবং দুর্নীতি দমন বিভাগ থেকে বাচতে ওরা গবাধী পশু ব্যবসায় নেমেছে ।

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।