রহস্যময় ফেরদৌস যেন ‘আলাদীনের চেরাগ’


সপ্তাহের ব্যবধানে ৮ কোটি টাকার আবাসিক হোটেল, দেড় কোটি টাকায় টাইলসের, ২টি নোহা গাড়ি ক্রয় আরো কত কি কেনা রহস্যময় লোকের সন্ধান মিলেছে কক্সবাজারে। ভক্সি গাড়িতে চলাফেরা, সুন্দর রমণির সাথে উঠবসসহ অস্বভাবিক চালচলনে সন্দেহ হওয়ায় আশপাশের লোকজন ও হতভম্ব এমন আর্থিক লেনদেনের উদগিরনে। রাতারাতি আলাদীনের চেরাগ পাওয়া ব্যক্তির নাম মৌলানা মোহাম¥দ ফেরদৌস। নিজেকে কক্সবাজার শহরের স্থানিয় বাসিন্দা পরিচয় দিলেও মূূূূূূূূলত তার বাড়ি হ্নীলায়।
তার সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের কারনে ইতিমধ্যে স্থানীয় মানুষের কাছে যথেষ্ট সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। গত বছর সেপ্টেম্বরে সপ্তাহের ব্যবধানে কলাতলির সী প্যালেসের বিপরীতে ৪ কোটি টাকায় ৩ তলাবিশ্ষ্টি আবাসিক হোটেল হিলপার্ক ক্রয় করে। এর ২ দিন পর সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের বিপরীতে স্মরণ আবাসিক এলাকায় হক গার্ডেন আবাসিক হোটেল সাড়ে ৩ কোটি টাকায় ক্রয় করার পর সাধারণ মানুষের সন্দেহ আরো ঘনিভূত হয়। একই মাসে কক্সবাজারে থাকার জন্য কলাতলির সৈকতপাড়ায় অস্থায়ীভাবে ১৫ লাখ টাকায় বাড়িসহ খাস জায়গা ক্রয় করেন। তার অবৈধ টাকার উৎস জানার পর এক রাজনৈতিক দলের একনেতাকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে মুখ বন্ধ করে অবৈধ লেনদেন ধামাচাপা পড়ে। ৪ মাস পর উক্ত মৌলভী ফেরদৌস বাস টার্মিনাল এলাকায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে টাইলসের অত্যাধুনিক দোকান খুললে টাকার উৎস বিষয়ে বাস টার্মিনাল ও কলাতলির কতিপয় স্থানিয় প্রভাবশালী নেতার নজরে আসে। তাদের ও মোটা টাকার বিনিময়ে মুখবন্ধ করে সুচতুর মৌলভী ফেরদৌস।
এদিকে উক্ত রহস্যময় মৌলভী ফেরদৌস সম্পর্কে জানাযায়, টেকনাফের হ্নীলার পূর্ব পানখালীর আবদুল খালেকের এ পুত্র জীবিকার তাগিদে ৮ বছর আগে আরব আমিরাত চলে যায়। গত বছর মিয়ানমারে রাখাইনে রোহিঙ্গা নির্যাতনের সময় তাদের সাহায্যের জন্য ত্রানের অর্থ যোগাড়ের নাম করে বিপুল পরিমান অর্থ সংগ্রহ করে ফান্ড গঠনের নামে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে সে দেশে চলে আসে। হ্নীলায় কিছু দিন অবস্থানের পর প্রথম বিয়ে গোপন করে টেকনাফের বাহারছড়ার সুন্দরী মহিলাকে বিয়ে করে কক্সবাজার শহরে চলে আসে। বিয়ের খবর প্রথম স্ত্রী জানতে পেরে তাকে চাপ প্রয়োগ করলে স্থানিয় শালিসের মাধ্যমে মোটা টাকার বিনিময়ে দ্বিতীয় স্ত্রীকে ত্যাগ করে। আরব আমিরাত থেকে টাকা পাঠিয়ে রোহিঙ্গা সলিডারেটি অর্গনাইশেন ( আরএসও)কে শক্তিশালী করতে ও কাজ করেছে বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। হঠাৎ বিত্ত বৈভবের মালিক বনে যাওয়া রহস্য মানব মৌলভী ফেরদৌসের আয়ের উৎস জানার জন্য মুঠোফোনে তার সাথে যোগাযোগ করা হলে- সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর তেলে বেগুনে চটে যান এবং বলেন আমার অর্থের উৎস বিষয়ে সরকার জানে আপনাদের জানার দরকার নেই। আর আমার ব্যাপারে দুবাই কনসুলেটরে জানতে পারবেন আমি ম্যানেজমেন্ট কনসালটেন্সি খুলে টাকা কামাইছি। তিনি ইয়াবা ব্যবসায়ি নয় দাবি করে বলেন- আমার কোন ইয়াবা ব্যবসা নেই, টেকনাফ থানায় ফোন করলে জানতে পারবেন। আমার ব্যাপারে জানার অধিকার কোন সাংবাদিকের নেই উল্লেখ করে বলেন, দুদক ছাড়া কেই আমার ব্যাপারে জানার অধিকার নেই। তিনি সাংবাদিকদের কোন তথ্য দেওয়ার প্রয়োজন নেই বলে জানান।
রাতারাতি কোটি কোটি টাকা লেনদেনকারি ফেরদৌসের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আছে কিনা জানতে চাইলে কক্সবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরিদ উদ্দিন খন্দকার বলেন- হঠাৎ এত টাকা লেনদেনের বিষয়টি সত্যিই রহস্যজনক। শীগ্রই তার বিষয়ে আমরা তদন্ত করব। অবৈধ অর্থের সন্ধান পেলে ছাড় দেওয়া হবেনা। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।
রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে যাওয়া রহস্যজনক মৌলভী ফেরদৌসের বিষয়ে কোন জঙ্গি কানেকশন আছে কিনা, তার বিপুল অর্থের উৎস কি, আরএসও কে অর্থায়ন করে কিনা যাচাই করা জরুরি। এই ফেরদৌস রোহিঙ্গাদের নিয়ে দেশে যে কোন সময় অনাকাংখিত ঘটনা ঘটানোর আশংকা ও রয়েছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের গোয়েন্দা সংস্থাসহ উর্ধতন প্রশাসনের নজরদারি জরুরি।

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।