রোহিঙ্গাদের ডাকছে ভাসানচর


মিয়ানমারে সেনা অভিযানে রাখাইন রাজ্যে ওরা মরেছে হাজারে হাজারে। ভাগ্য বিড়ম্বিত হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে লাখে লাখে। ফিরিয়ে নেয়ার কথা বলে মিয়ানমার নানা ছলচাতুরিতে লিপ্ত। ফলে থমকে গেছে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া।

কক্সবাজারে রোহিঙ্গারা এখন আশ্রিত। বাস্তুহারা হয়ে তারা জীবনকে এগিয়ে নিচ্ছে ত্রাণসহ সব ধরনের সুবিধা। নিজ দেশে কখনো নির্বিঘ্নে এবং নাগরিকত্বের অধিকার নিয়ে ফিরে যাবে এখন তা অনিশ্চিত। এর মধ্যে নোয়াখালীর হাতিয়া দ্বীপের ভাসানচরে ওদের জন্য নির্মিত হয়েছে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত বাসস্থল।

সরকারি বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয়ে এর মধ্যে ভাসানচরে গড়ে উঠেছে অনিন্দ্য সুন্দর হাউস। যেখানে ওরা বসবাস করতে পারবে ফিরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত।

সদিচ্ছা থাকলে যে কোনো কঠিন কাজ সম্পন্ন করা যায়। এর একটি অসাধারণ উদাহরণ সাগর বক্ষে নোয়াখালী হাতিয়ার ভাসানচর। যে চরে এর আগে কোনো জনবসতি ছিল না। সে চরটি বিজ্ঞানসম্মত ভাবে ঝড় জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষায় করা হয়েছে বসবাস উপযোগী। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের আশ্রায়ণ প্রকল্প-৩’র আওতায় ২হাজার ৩শ কোটি টাকার বরাদ্দ নিয়ে এরইমধ্যে ১৭শ’ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে লালটিনে আচ্ছাদিত পাকা দেয়ালের ঘর।

যেখানে রয়েছে জীবন ধারণের সব উপাদান। এ চরেই রোহিঙ্গাদের বসবাস উপযোগী করে তুলতে এবং তাদের নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনায় সরকার এককভাবে নৌ বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব দেয়। প্রায় ত্রিশ বছর আগে জেগে ওঠা এ চরটি শুধু গোচারণ ভূমি ছিল। সেখানে এখন মানুষের জীবন ধারণের সব উপকরণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। যা রীতিমতো বিস্ময়কর। ১৩ হাজার একর বিশিষ্ট এ চরের মাত্র ১৭০২ একর এলাকায় বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে এর অভ্যন্তরে নির্মিত হয়েছে জাতিসংঘ প্রদত্ত নিয়মনীতির চেয়েও বেশি উপকরণ সমৃদ্ধ বসতবাড়ি।

১৫ নভেম্বর মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের দিনে রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরে যাবে না বলে আওয়াজ তুলে। থমকে যায় পুরো প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়া কখন শুরু হবে তা এখনো অনিশ্চিত। আর মিয়ানমার আদৌ ভবিষ্যতে প্রত্যাবাসন শুরু করলে তা দিনে দেড় শ’ থেকে সর্বোচ্চ ৩শ’ হবে। সরকার আগেভাগে আঁচ করতে পেরে আশ্রায়ণ প্রকল্পের অধীনে ভাসানচরকে বসবাস উপযোগী করার পরিকল্পনা গ্রহণ করে। অত্যন্ত দ্রুততম সময়ে এটি এখন প্রস্তুত। সংখ্যায় যাই হোক প্রথম পর্যায়ে ১ লাখ রোহিঙ্গাকে সেখানে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া রয়েছে।

উন্নয়ন পরিকল্পনায় জড়িতদের বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, ভবিষ্যতে আরো ২ লাখ মানুষকে সেখানে স্থানান্তরের অবকাঠামোগত সুবিধা সৃষ্টি করার সুযোগ রয়েছে। পুরো দ্বীপটি যেখানে ১৩ হাজার একরের, সেখানে বিপুল পরিমাণ জমি এখনো ব্যবহারের সুযোগ আছে।

সূত্র জানিয়েছে, সোলার সিস্টেমে নব নির্মিত বাড়িঘর বিদ্যুতায়িত হয়েছে। চাষ হচ্ছে গবাদি পশু। প্রতিটি ঘরে রয়েছে বাথরুম ও টয়লেট ফ্যাসিলিটিজ।

এখন শুধু রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরিত করার পালা। প্রতিষ্ঠিত স্থাপনাসমূহের কারুকাজ এবং সোলার সিস্টেমে রাতের বেলায় বিদ্যুতের আলো ঝলমলে পরিবেশ এ দেশের সহায়-সম্বলহীন যে কোনো মানুষকে আকৃষ্ট যে করবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ফলে অস্থায়ীভাবে রোহিঙ্গাদের সেখানে পুনর্বাসন করা হলে উখিয়া টেকনাফের স্থায়ী বাসিন্দাদের কাঁধে ভর করে থাকা বিপর্যয় পরিস্থিতি কিছুটা অবসান ঘটবে।

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।