রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শেল্টার তৈরিতে ইঞ্জিনিয়ার শাহজাহানের নানা অনিয়ম

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শেল্টার তৈরিতে ইঞ্জিনিয়ার শাহজাহানের নানা অনিয়ম
বিশেষ প্রতিনিধি

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের থাকার জন্য শেল্টার (হাউস) তৈরিতে ইঞ্জিনিয়ার শাহজাহানের নানা অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর থাকার জন্য সরকারের তত্ত্বাবধানে শেল্টার নির্মাণ করে দেওয়া হয়। এই রোহিঙ্গা ক্যাম্পের শেল্টার নির্মাণ করতে স্থানীয় ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে শেল্টার নির্মাণ করা হয়। নিয়োগকৃত ঠিকাদার নিয়মমাফিক শেল্টার নির্মাণ করছে কিনা তা তদারকি করার দায়িত্ব পালন করা ইঞ্জিনিয়ার শাহাজাহানের কাজ ।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ইনচার্জ (সিআইসি) এর অধিনে নিয়োজিত ইঞ্জিনিয়ারদের তত্ত্বাবধানে শেল্টার নির্মাণ করা হয়। শেল্টার নির্মাণ করতে স্থানীয় এবং রোহিঙ্গাদের মধ্য থেকে ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়ার কথা থাকলেও ইঞ্জিনিয়ার শাহজাহান তার তলপিবাহক কিছু রোহিঙ্গাদের মাধ্যমে সব কাজ নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখে শেল্টার নির্মাণ করার কাজ গুলো করে থাকে। শেল্টার নির্মাণে নিয়োজিত লেবার দের ঠিকাদার সাজাতেও পারদর্শী ইঞ্জিনিয়ার শাহজাহান। এক কথায় বলতে গেলে ইঞ্জিনিয়ার শাহজাহান কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অভ্যন্তরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন ক্যাম্পে বসবাস কারী রোহিঙ্গারা। এই সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা হল মোহাম্মদ নূর। এদের সহযোগী হিসাবে কাজ করে হেড মাঝি জাফর সাব মাঝি রফিক। এরাই মূলত ইঞ্জিনিয়ার শাহজাহানের লেবার কাম ঠিকাদার।

ইঞ্জিনিয়ার শাহজাহানের গড়ে তুলা সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই শাহজাহানের অধীনে থাকা কাজ গুলো পাইয়ে দেয় ইঞ্জিনিয়ার শাহজাহান। শেল্টার নির্মাণে লভ্যাংশ ভাগ করে মোহাম্মদ নূর ও ইঞ্জিনিয়ার শাহজাহান। বর্তমানে কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১০ ফুট বাই ১৫ ফুটের যে শেল্টার নির্মাণ করা হচ্ছে তাও একই কায়দায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নির্মাণ করে যাচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এই শেল্টার নির্মাণে খাতায় কলমে যে ঠিকাদারের নাম লিখা হচ্ছে মূলত তারা ঠিকাদার নয় এরা সকলেই লেবারের কাজ করা শাহজাহান-মোহাম্মদ নূর সিন্ডিকেটেরই লোক।

এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে যে সমস্ত রোহিঙ্গারা কথা বলে তাদেরকে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী এবং ক্যাম্পে নিয়োজিত আইন শৃংখলা বাহিনী দিয়ে হুমকি ধমকি থেকে শুরু করে নানা ভাবে হয়রানি করে বলেও জানিয়েছে ভুক্তভোগী রোহিঙ্গারা।

এই অভিযোগের বিরুদ্ধে ইঞ্জিনিয়ার শাহজাহানের কাছে জানতে চাইলে তিনি মোবাইলে অভিযোগের বিষয়ে বলতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আসা অভিযোগের বিষয়ে জানতে হলে তার অফিসে(সিআইসি অফিসে) গিয়ে জানতে হবে। মোবাইলে সে কোন বিষয়ে কথা বলতে নারাজ।

কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাসকারী রোহিঙ্গারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আমাদের প্রতিনিধিদের জানিয়েছেন রোহিঙ্গা মোঃনূর এর আগে বিভিন্ন অপরাধ মূলক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তৎকালীন সিআইসি তাকে হেড মাঝির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। বর্তমানে ইঞ্জিনিয়ার শাহজাহানের আস্থাভাজন হওয়ায় মোঃ নূর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাসকারী অপরাধী চক্রের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে নিরব চাঁদাবাজি করারও গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দায়িত্ব পালনকারীদের অনৈতিক সহযোগিতা পেয়ে রোহিঙ্গা অপরাধীরা আরো বেপরোয়া হয়ে পড়ে। এদের অপতৎপরতা রোধ করতে হলে আরো কঠোর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো দরকার বলে জানান।

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ