রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যাঃ ইলিয়াছের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন এ মামলায় গ্রেপ্তার আসামি মোহাম্মদ ইলিয়াছ । ঘটনার পর এই ইলিয়াছ ‘কিলিং মিশন’ সফল হওয়ার কথা মুঠোফোনে তার হুকুমদাতাকে জানিয়েছিলেন। এ ঘটনার নেপথ্যে কারা ছিল, কিভাবে পরিকল্পনা হয়েছে, কিভাবে হত্যাকান্ড সংগঠিত হয়েছে তা সবিস্তারে আদালতের কাছে বর্ণণা করেছেন ইলিয়াছ। আদালত সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

মোহাম্মদ ইলিয়াছ গতকাল শনিবার বিকালে কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হেলাল উদ্দিনের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

উখিয়ার কুতুপালং ৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি-ব্লকের হেড মাঝি মোহাম্মদ ইলিয়াছ। তিনি শিক্ষিত এবং সাধারণ রোহিঙ্গাদের কাছে মাস্টার ইলিয়াছ নামে পরিচিত। তার পিতার নাম রজক আলী।

তদন্ত কার্যক্রমের সাথে যুক্ত জেলা পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, মুহিবুল্লাহ হত্যা মামলায় গ্রেফতার অপর ৪ জনও হত্যাকান্ড সম্পর্কে পুলিশকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। তবে তারা কেউ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি।

গত রোববার (০৩ অক্টোবর) দুপুরে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে-৫ এ অভিযান চালিয়ে রোহিঙ্গা নাগরিক মোহাম্মদ ইলিয়াস (৩৫) কে গ্রেপ্তার করে এপিবিএন।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে নিজ সংগঠনের কার্যালয়ে অবস্থানকালে অজ্ঞাত দূর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ মুহিবুল্লাহ ওরফে মাস্টার মুহিবুল্লাহ। এ ঘটনায় পরদিন নিহত মুহিবুল্লাহ’র ছোট ভাই মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে প্রত্যেককে ৩দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। গ্রেপ্তার আসামিদের তিন দিনের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শনিবার আদালতে আনা হয়।

মোহাম্মদ ইলিয়াছ ছাড়া এ মামলায় গ্রেপ্তার অপর ৪ আসামী হলো, মোহাম্মদ সেলিম, জিয়াউর রহমান, আব্দুস সালাম ও শওকত উল্লাহ।

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ