লেখকরা ‘দু-মুখো’ : তসলিমা নাসরিন

14450rrr67668নারীবাদী ও ধর্মীয় সমালোচনামূলক রচনার কারণে আন্তর্জাতিক ভাবে পরিচিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। তার লেখনিতে লিঙ্গসমতা, মুক্তচিন্তা, ধর্মনিরপেক্ষতা, মানবতাবাদ ও মানবাধিকারের কথা বলা হয়েছে। এবার লেখক হত্যা ও হিন্দু জঙ্গিবাদের সাম্প্রতিক উত্থানে অনেক ভারতীয় লেখক রাষ্ট্রীয় পুরস্কার ফিরিয়ে দিলেও তাদের সমালোচনা করতে পিছপা হননি তসলিমা নাসরিন।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বাংলাদেশি এই লেখক টাইমস অফ ইন্ডিয়াকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারতীয় লেখকদের ‘দু-মুখো’ বলেছেন।
তিনি বলেছেন, ধর্মীয় জঙ্গিবাদ নিয়ে ভারতীয় লেখকদের অবস্থান ‘দু-মুখো’ এ লেখকরা হিন্দু জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী অবস্থান নিলেও মুসলমান জঙ্গিদের নির্মম অপরাধগুলোকে ‘সমর্থন’ জানায়।
‘যখন মুসলমান জঙ্গিরা আমার বিরুদ্ধে ৫টি ফতোয়া জারি করে, যখন আমাকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে ছুড়ে ফেলা হয়, যখন দিল্লিতে গৃহবন্দি থাকি, যখন আমার মেগা-সিরিয়াল নিষিদ্ধ করা হয়, তখন এদের অনেকেই চুপ ছিলেন। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ও শঙ্খ ঘোষের মতো বিখ্যাত লেখকরা আবেদন করে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে দিয়ে আমার বই নিষিদ্ধও ‌করিয়েছিলেন।’ ওই সাক্ষাৎকার বলেছেন তসলিমা নাসরিন।
প্রসঙ্গত, দাদরি হত্যাকাণ্ড ও হিন্দু জঙ্গিবাদী দলগুলোর উগ্র তৎপরতার প্রতিবাদে ভারতে সাহিত্য একাডেমিসহ রাজ্য সরকারের দেয়া নানা পুরস্কার ফিরিয়ে দিচ্ছেন অনেক লেখক। দুই দশক আগে বাংলাদেশ ছাড়তে বাধ্য হওয়ার পর ভারতে ঠিকানা নেন তসলিমা। ক্রমাগত জঙ্গি হুমকির মুখে তিনি এ বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান।
ভারতকে এখনও পাকিস্তান ও বাংলাদেশের চেয়ে অধিক ‘সংবেদনশীল রাষ্ট্র’ মনে করেন এই লেখিকা। ভারতে নির্যাতিত মুসলিমদের পাশের দেশগুলোতে স্বেচ্ছা নির্বাসনেও যাওয়ার পরামর্শও দেন তিনি।14450rrr67668
তিনি বলেছেন, ‘মুসলমানরা যদি ভারতে নৃশংস নির্যাতনের শিকার হয়, তাহলে তারা পাশের মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে চলে যেতে পারে; যেভাবে বাংলাদেশ আর পাকিস্তান থেকে হিন্দুরা চলে যায়।’

মানবকণ্ঠ/

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।