সরকারীকরণ হওয়ায় টেকনাফ এজাহার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শুকরিয়া সভা

নুরুল হোসাইন, টেকনাফ[]
টেকনাফ এজাহার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সরকারীকরণ হওয়ায় ১ম শুকরিয়া সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৭ নভেম্বর শনিবার বেলা ১১ টায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক মিলনায়তনে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্যবৃন্দ ও শিক্ষক-শিক্ষিকাগণ আনন্দিত হয়ে শুকরিয়া সভা আয়োজন করেন।

বিদ্যালয় পর্ষদের সভাপতি ও পৌরসভার মেয়র হাজী মোঃ ইসলামের সভাপতিত্বে ও প্রধান শিক্ষিকা মিসেস শিউলী চৌধুরীর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন অত্র বিদ্যালয় পর্ষদের সদস্য ও সাবেক মেম্বার আব্দুল গফুর শরীফ, পৌর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মোঃ আলম বাহাদুর, সাবেক শিক্ষক মং উইন মিনথ, বিদ্যালয় পর্ষদের সদস্য আমির হোসেন, পৌরসভার কাউন্সিলর আবু হারেছ, টেকনাফ সাংবাদিক ইউনিটির সাধারন সম্পাদক নুরুল হোসাইন, শিক্ষক ও সিনিয়র সাংবাদিক আশেক উল্লাহ ফারুকী ও শিক্ষক আজিজুল হক।

শুকরিয়া সভায় বিদ্যালয়ের সভাপতি মেয়র হাজী মোঃ ইসলাম বলেন, অবশেষে দীর্ঘ ৩৪ বছরের পথ পরিক্রমায় সরকারীকরণ হয়েছে টেকনাফ এজাহার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। তিনি আরো বলেন ১৯৮৫ সালের ১ জানুয়ারী প্রতিষ্ঠিত তৎকালে উপজেলায় নারী শিক্ষার একমাত্র প্রতিষ্ঠান টেকনাফ এজাহার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়কে সরকারী করণ করা হয়েছে। বর্তমানে এ স্কুল সরকারীকরণ করে প্রঙ্গাপন জারি করা হয়েছে। বিভিন্নমুখী চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে হাঁটি হাঁটি পা পা করে আজকের এ অবস্থানে পৌঁছতে অনেক ঘাত-প্রতিঘাত অতিক্রম করে এ স্কুল সরকারীকরণ করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আমাদের লক্ষ্যে উদ্যোশ্য হচ্ছে টেকনাফ উপজেলার সকল প্রতিষ্ঠান কে এগিয়ে নিয়ে আসা ও সেবা প্রদান করা। টেকনাফ সদর ইউনিয়নের তৎকালীন চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এজাহার মিয়া কোম্পানী ১৯৮৫ সালের ১ জানুয়ারী টেকনাফ উপজেলা পরিষদ এলাকা সংলগ্ন নিজস্ব ২.১০ একর জমিতে স্কুলটি প্রতিষ্টিত করে দিয়ে এ পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেলেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মিসেস শিউলী চৌধুরী বলেন, টেকনাফ এজাহার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি ১ম স্বীকৃতি লাভ করেছিল ১৯৮৬ সালের ১ জানুয়ারী। ১ম এমপিওভুক্তির তারিখ ছিল ১ জুন ১৯৮৬ ইংরেজী। এমপিও কোড নং-০৩০৬০২১৩০২। ইআইআইএন নং-১০৬৪০১। শিক্ষা বোর্ড কতৃক প্রদত্ত কোড নং-৪৪৫১। উপবৃত্তির কোড নং-০১০০০৭১২। আইসিটি ল্যাব ১টি, মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুম ১টি, বিজ্ঞানাগার ১টি, গ্রন্থাগার ১টি, পুস্তকের সংখ্যা ৪৩৮০টি। বর্তমানে এ স্কুলে ৩টি ভবনে ১৪টি কক্ষ রয়েছে। প্রায় ৫০০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত।
তিনি আরো বলেন, অত্র বিদ্যালয়ে ১১ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং ৫ জন কর্মচারীসহ মোট ১৬ জন শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। এরা হলেন প্রধান শিক্ষিকা শিউলী চৌধুরী বিএবিএড (যোগদান ১৬.৯.১৯৮৯), সহকারী প্রধান শিক্ষক শব্বির আহমদ বিএসএসএস অনার্স এমএসএস (যোগদান ১.১০.২০১০), সহকারী শিক্ষিকা সমাজ বিজ্ঞান জাহেরা বেগম বিএবিএড (যোগদান ১.২.১৯৮৭), সহকারী শিক্ষক গণিত বাবু লক্ষী হরি দে বিএসসিবিএড (যোগদান ১.১.১৯৯০), সহকারী শিক্ষিকা বাংলা বেগম নুর জাহান আজাদ এমএবিএড (যোগদান ৪.২.১৯৮৫), সহকারী শিক্ষক ধর্ম মোঃ আশেকুল্লাহ ফারুকী কামিল (যোগদান ১০.২.১৯৮৭), সহকারী শিক্ষক বিজ্ঞান মোঃ আজিজুল হক বিএসসিবিএড (যোগদান ২.১২.১৯৮৯), সহকারী শিক্ষিকা ইংরেজী দিলনেছা বেগম বিএবিএড (যোগদান ১.৮.১৯৯২), সহকারী শিক্ষক কাব্যতীর্থ বাবু সিঁদুল কান্তি দে এমএবিএড (যোগদান ৩.৮.২০০২), সহকারী শিক্ষক আইসিটি মোঃ জয়নাল আবেদীন এমএবিএড (যোগদান ২০.৯.২০০৪), সহকারী শিক্ষিকা শরীর চর্চা শিখা রাণী পাল জেডিপিসিএনএড (যোগদান ৭.৮.১৯৮৮), সহকারী গ্রন্থগারিক ছৈয়দ হোসেন বিএ অনার্স এমএপিজিডিএলআইএস (যোগদান ১.১০.২০১৫) এছাড়াও বিপ্লব দাশ (যোগদান ২.৫.২০১৭),, লাল মিয়া নাইটগার্ড (যোগদান ১.১০.২০০২), ও বেবী শর্মা আয়া (যোগদান ১.১১.২০১৩) নামে ৩ জন কর্মচারী রয়েছেন।

১৯৮৯ সালের ১৬ জুলাই থেকে প্রধান শিক্ষিকার দায়িত্ব পালন করে আসছেন শিউলী চৌধুরী (০১৮১৭০৭১৬৪০)। তাঁর পৈত্রিক নিবাস কক্সবাজারের খুরুস্কুল। স্বামী প্রিয়তোষ দেব টেকনাফ কৃষি ব্যাংকের ম্যানেজার। তাঁর আগে আরও ৫ জন প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন। স্কুল প্রতিষ্টার পর প্রথম প্রধান শিক্ষক ছিলেন বিমল বড়ুয়া।

স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও টেকনাফ পৌরসভার মেয়র হাজী মোহাম্মদ ইসলাম প্রতিক্রিয়ায় মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহীদ, প্রধান ভুমিকা পালনকারী এমপি আলহাজ্ব আবদুর রহমান বদি সিআইপিকে স্কুল ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

উল্লেখ্য, প্রয়াত আলহাজ্ব এজাহার মিয়া কোম্পানীর প্রাতিষ্ঠানিক বিদ্যা ছিলনা। তা সত্বেও টেকনাফের শিক্ষার উন্নয়নে
অনুকরণীয় ভুমিকা রেখে গেছেন। তিনি এবং তাঁর ভাই ও তাঁদের সন্তান বর্তমান এমপি আলহাজ্ব আবদুর রহমান বদি সিআইপি ধর্ম-কর্মসহ শিক্ষার উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন রেখেছেন। তাঁর জীবদ্দশায় টেকনাফ সদর ইউনিয়নের লম্বরী গ্রামে প্রথমা স্ত্রীর নামে প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘লম্বরী মলকাবানু হাইস্কুল’। বর্তমানে এ স্কুলটিও সুনামের সাথে পরিচালিত হচ্ছে। সভার শেষে মুনাজাত পরিচালনা করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোঃ আশেকুল্লাহ ফারুকী।

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।