সাবরাং ‘এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্ট জোন’উদ্যোগেই সীমাবদ্ধ

rtert300x200জাফর আলম,টেকনাফ
অর্থায়নের উৎস না পাওয়ায় সাবরাং এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্ট জোন স্থাপন’ প্রকল্প গত ৫ বছর ধরে উদ্যোগেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। পর্যটন খাতের বড় এ প্রকল্পে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের (আইডিবি) সহায়তার কথা থাকলেও পরবর্তী সময়ে এ সিদ্ধান্ত থেকে তারা সরে আসে। প্রকল্পটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) আওতায় এনে অর্থায়নকারী খোঁজার চেষ্টা করছে সরকার।বৈদেশিক সহায়তা অনুসন্ধানের জন্য কক্সবাজারের মনখালীতে এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্ট জোন স্থাপনের প্রাথমিক প্রকল্প ছক প্রণয়ন করে তা অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনের কাছে পাঠানো হয়। ২০১০ সালের ২৮ মার্চ পরিকল্পনা কমিশন এটির নীতিগত অনুমোদন দেয়। তবে ২০১০-১২ সময়ে আইডিবি প্রকল্পটির অর্থায়নে অপারগতা প্রকাশ করে।২০১১ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যটন সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মনখালীর পরিবর্তে কক্সবাজারের টেকনাফের সাবরাং এলাকায় ট্যুরিস্ট জোনটি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।জানা গেছে, ইসলামী ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (আইডিবি) সহায়তায় আভাজা ন্যাশনাল ট্যুরিস্ট জোন গঠন করে তুর্কমিনিস্তান। আইডিবি’র ৩৪তম বোর্ড সভায় অংশগ্রহণ শেষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ২০০৯ সালের ৩০ জুন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়কে চিঠিতে জানান, এমন ট্যুরিস্ট জোন গঠনে বাংলাদেশকে সহায়তা দেবে আইডিবি।এরপরই সরকার এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্ট জোন স্থাপনের পরিকল্পনা নেয়। এ জন্য বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনকে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই করতে বলা হয়।পর্যটন করপোরেশন জানায়, আভাজার মতো বিশ্বমানের পর্যটন জোন গড়তে প্রচুর বিনিয়োগ প্রয়োজন। এ জন্য বৈদেশিক সহায়তা লাগবে।ট্যুরস অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) সভাপতি তৌফিক উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘কক্সবাজারে এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্ট জোন স্থাপনের কথা আমরা বহুদিন ধরে শুনে আসছি। কিন্তু বাস্তবে তো কোনো অগ্রগতি দেখতে পাচ্ছি না।’তিনি আরও বলেন, ‘জোন হলে দেশী-বিদেশী পর্যটকের সংখ্যা বাড়বে। এতে দেশের পর্যটন খাত সমৃদ্ধ হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে এখনই সরকারের মনোযোগ দেওয়া উচিৎ।’কক্সবাজারে এক্সক্লুসিভ ট্যুরিজম জোনে তারকামানের একাধিক হোটেল, কটেজ, বিচ ভিলা/ওয়াটার ভিলা, নাইট ক্লাব, কার পার্কিং, সুইমিং পুল, কনভেনশন হল, বার, অডিটরিয়াম, বিনোদন পার্ক, ক্র্যাফট মার্কেট ও ল্যান্ড স্কেপিংসহ বিভিন্ন পর্যটন সুবিধা থাকার কথা।প্রকল্পটির বিস্তারিত সম্ভাব্যতা যাচাই করার পর সময় আবদ্ধ কর্ম-পরিকল্পনা প্রণয়ন করার কথা জানিয়েছেন পর্যটন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা।প্রকল্পের জন্য চিহ্নিত করা হয় সাবরাং এলাকার ১১৬৪ দশমিক ৮৫ একর জমি। সংশ্লিষ্ট জমির বিষয়ে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের মতামত চাওয়া হয়। জেলা প্রশাসকের মতামতসহ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠানের (স্পারসো) স্যাটেলাইট ইমেজ পর্যটন মন্ত্রণালয়ের পাঠায় করপোরেশন।গত বছরের ৪ এপ্রিল কক্সবাজার জেলা প্রশাসন চিহ্নিত জমির পূর্ণাঙ্গ তফসিল পাঠায়। এর মধ্যে জোত জমির পরিমাণ ৯১ দশমিক ৬৮ একর, খাস জমির পরিমাণ ৯৩৭ দশমিক ৪৬ একর এবং সৈকত এলাকায় জমির পরিমাণ ১৩৫ দশমিক ৭১ একর।এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্ট জোন স্থাপনের জন্য গত ১৪ মে ভূমি সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৯৩৭ দশমিক ৪৬ একর খাস জমিতে সম্ভাবতা যাচাই ও সৈকত এলাকায় ১৩৫ দশমিক ৭১ একর বালুচর জমি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়।এর আগে গত ২০ এপ্রিল পিপিপি’র আওতায় বাস্তবায়নযোগ্য প্রকল্প সংক্রান্ত সভার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে ‘এস্টাবলিশমেন্ট অব এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্ট জোন অ্যাট সাবরাং, কক্সবাজার’ শীর্ষক প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে পিপিপি অফিসে পাঠানো হয়।এরপর প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির নীতিগত অনুমোদন নেওয়ার সুপারিশ করে পিপিপি অফিস। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব আগামী অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে অনুমোদনের জন্য উঠছে। সুত্র-রিপোর্ট

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।