সেই তিন আইনজীবী চার দিনের রিমান্ডে

চট্টগ্রাম : জঙ্গি সংগঠন ‘শহীদ হামজা ব্রিগেডকে’ অর্থ সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে রাজধানী থেকে গ্রেপ্তার এক নারীসহ সুপ্রিম কোর্টের তিন আইনজীবীকে চার দিন করে রিমান্ডে নেয়ার অনুমতি পেয়েছে র‌্যাব।

বুধবার সন্ধ্যায় বাঁশখালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাজ্জাদ হোসেনের আদালত এ আদেশ দেন। এরআগে চলতি বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি বাঁশখালীর লটমনি পাহাড়ের খামার বাড়ী থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে প্রত্যেকের সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বাঁশখালী থানার ওসি স্বপন কুমার বাংলামেইলকে বলেন, ‘বাঁশখালীর লটমনি পাহাড়ের অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনার র‌্যাবের তদন্ত কর্মকর্তা গ্রেপ্তার হওয়া তিন আইজীবিকে আদালতে হাজির করে সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আদালত আবেদনের শুনানি শেষে প্রত্যেককে চার দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।’

এরআগে বুধবার দুপুরে র‌্যাব-৭ এর পতেঙ্গা সদর দপ্তরে অয়োজিত সংবাদ সম্মেনে র‌্যাব অধিনায়ক লে.কর্ণেল মিফতাহ উদ্দিন জানান, মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডি থেকে বিএনপির কেন্দ্রিয় কমিটির তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে এবং জাতীয়তাবাদী আইনজীবি ফোরামের যুগ্ম সম্পাদিকা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা (৩৯), তার জুনিয়র অ্যাডভোকেট হাসানুজ্জামান লিটন (৩০) এবং অ্যাডভোকেট মাহফুজ চৌধুরী বাপনকে (২৫) গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৭ এর একটি দল।

ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানার রহমতগঞ্জ-২০৬ এলাকার বাসিন্দা মো. বাহার উদ্দিনের স্ত্রী। অ্যাডভোকেট লিটন কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামাড়া থানার কুচিয়ামোড়া গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। তিনি ঢাকায় মিরপুর ১০ এলাকায় বল্ক-সি, লাইন ১২’র ২ নম্বর বাসায় থাকতেন। বাপন ঢাকা জর্জকোর্ট মিরপুর ২ এর বড়বাগ এলাকায় ৩১/৩-বি এর বাসিন্দা মৃত মফিজ উদ্দিন চৌধুরীর ছেলে।

বুধবার দুপুর দেড়টায় র‌্যাব-৭ এর পতেঙ্গা সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন র‌্যাবের চট্টগ্রাম জোনের পরিচালক লে. কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নিয়মিত গোয়েন্দা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে চট্টগ্রামভিত্তিক নতুন জঙ্গি সংগঠন ‘শহীদ হামজা ব্রিগেডে’র সন্ধান পায় র‌্যাব। যারা দেশের অভ্যন্তরে ছাড়াও দেশের বাইরে ‘লাভ ফর রোহিঙ্গা’ নামে একটি এনজিওর মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের নিয়ে কার্যক্রম চালাতে সচেষ্ট ছিল।

র‌্যাব নতুন এই জঙ্গি সংগঠনটির উপর নজরদারি করতে গিয়ে অর্থ সহায়তাকারী হিসেবে এই তিন আইনজীবীকে সনাক্ত করে। এই বছরের বিভিন্ন সময়ে ‘শহীদ হামজা ব্রিগেডে’র বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ২৯ জন আসামির ২৮ জনই এই তিন আইনজীবীকে তাদের প্রধান অর্থদাতা হিসেবে ১৬৪ ধারায় ইতোমধ্যে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে।

পরে আদালত ও বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি নিয়ে ‘শহীদ হামজা ব্রিগেড’ নেতাদের অ্যাকাউন্ট পর্যালোচনা করে জানা যায়, ‘শহীদ হামজা ব্রিগেডে’র বিভিন্ন নেতাদের অ্যাকাউন্টে মোট ১ কোটি ৩৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা জমা হয়েছে। এর মধ্যে গ্রেপ্তার হওয়া তিন আইনজীবী দিয়েছেন ১ কোটি ৮ লাখ টাকা। এছাড়া আল্লামা লিবদি নামে দুবাইয়ের একজন নাগরিকও জঙ্গিদের অর্থ সহায়তা দিয়েছেন বলে র‌্যাবের তদন্তে উঠে এসেছে।

যার মধ্যে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা দিয়েছেন দুই দফায় ৫২ লাখ টাকা। প্রথম দফায় ২৫ লাখ ও দ্বিতীয় দফায় ২৭ লাখ টাকা। অ্যাডভোকেট লিটন ৩১ লাখ টাকা ও অ্যাডভোকেট বাপন দিয়েছেন ২৫ লাখ টাকা।

এসময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৭ এর অধিনায়ক জানান, তিন আইনজীবীকে বাঁশখালীর লটমণি পাহাড় থেকে অস্ত্র উদ্ধারের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাদের বাঁশখালী আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে লে. কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ আরো জানান, ‘শহীদ হামজা ব্রিগেডে’র তিনটি সামরিক উইং আছে। এগুলো হচ্ছে, গ্রিণ, ব্লু এবং হোয়াইট। প্রত্যেক উইংয়ে সাতজন করে সামরিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্য আছেন। এই উইং গুলোর প্রধান অস্্র সরবরাহকারী মোজাহের হোসেন মিঞা (৩৫) এবং বাঁশখালীতে জঙ্গি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সাব্বির আহমেদ ওরফে মুহিবকে (২৩) গত ১২ এপ্রিল রাতে নগরীর কোতয়ালি থানার মিডটাউন আবাসিক হোটেল থেকে গ্রেফতার করা হয়।

তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওইদিন রাতে আকবর শাহ থানার একে খান মোড়ে শ্যামলী বাস কাউন্টার থেকে মো.কামাল উদ্দিন ওরফে মোস্তফা (২৪) এবং আশরাফ আলীম ওরফে আদনানকে (২৫) আটক করা হয়।

এর আগে ১৯ ফেব্রুয়ারি হাটহাজারি উপজেলার আল মাদরাসাতুল আবু বকর থেকে ১২ জন, ২১ ফেব্রুয়ারি বাঁশখালীর লটমণি পাহাড় থেকে ৫ জন, ২৮ ফেব্রুয়ারি নগরীর হালিশহর থানার একটি আবাসিক এলাকা থেকে তিনজনসহ মোট ৮টি অভিযানে ২৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

পরে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৯ ফেব্রুয়ারি পাঁচলাইশ থানার কসমোপলিটন আবাসিক এলাকার গ্রীণ বাংলা জাহানারা অ্যাপার্টমেন্টের সপ্তম তলায় একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে বিপুল অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

অস্ত্রশস্ত্রের মধ্যে রয়েছে, ৮টি একে ২২, ১১ টি বিদেশি পিস্তল, ১টি রিভলবার, ১টি এলজি, ১টি এসবিবিএল, ৩ দেশীয় বন্দুক, ৪৪৪৩ রাউন্ড বিভিন্ন প্রকারের গুলি, ৭৬ টি তাজা গুলি, ১৫০ কেজি বিস্ফোরক, ৩০ প্রকারের বোমা তৈরীর সরঞ্জাম ও বিপুল পরিমান জিহাদী বই।

Ctg91rrr

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।