সৌদি আরবে চলমান ধরপাকড়ে বিপাকে জেলার ২ সহস্রাধিক শ্রমিক

এম. বেদারুল আলম :
সৌদি আরবে সাধারণ ক্ষমার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এখন চলছে ব্যাপক ধরপাকড়। এক কপিলের শ্রমিক অন্য কপিলের কাছে পাওয়া গেলে এবং এক পেশার শ্রমিক অন্য পেশায় নিয়োজিত থাকার খবর পেলেই চলছে অভিযান। আগে অভিযান ছিল হঠাৎ করে তবে গত কয়েকদিন যাবৎ চলছে হরদম। ফলে অনেকে আতংকে এবং বেকার দিন যাপন করছে। সৌদি আরবে থাকা কক্সবাজারের অনেক শ্রমিক আত্মীয় স্বজনকে বারণ করছে ভিসা নিয়ে পর্যন্ত সেখানে না যাওয়ার। ফলে বৈধ কাগজপত্র এবং ভিসা থাকার পরও কক্সবাজারের অন্তত ২ হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে। যার প্রভাব পড়েছে জেলার প্রত্যন্ত এলাকার প্রবাসিদের পরিবারে।
সৌদি সরকারের নতুন শ্রমনীতি এবং ব্যাপক ধরপাকড়ের কারনে বিপাকে পড়েছে কক্সবাজারের প্রায় ২ হাজারের বেশি শ্রমিক। বৈধতা থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র পেশা পরিবর্তনের কারনে বৈধ হওয়ার পর ও কাজে যেতে পারছেনা জেলার সহ¯্রাধিক শ্রমিক। সৌদি আরবের আইন বিভাগের ঘোষনা অনুযায়ি অবৈধ শ্রমিকদের সাধারণ ক্ষমায় স্বদেশে ফেরার সুযোগ শেষ হয়েছে ৩১ জুলাই। নানা কারণে সাধারণ ক্ষমার সময় শেষ হওয়ার পর ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও দেশে ফিরতে পারছেনা কক্সবাজারের প্রায় ২ হাজার শ্রমিক। তারা পারছেনা কাজে যেতে , পারছেনা স্বদেশে ফিরে আসতে। ফলে চরম আতংকে এবং হতাশায় দিনাতিপাত করছে আটকে পড়া শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যরা। কক্সবাজারের কতজন শ্রমিক সম্প্রতি অভিযানে আটক এবং সাধারণ ক্ষমায় সৌদি আরব থেকে ফিরতে পারেনি তার পরিসংখ্যান সংশ্লিষ্ট দপ্তরে না থাকলেও সৌদি আরব অবস্থানরত কয়েকজন শ্রমিকের সাথে আলাপ করে জানা গেছে কক্সবাজারের বিভিন্ন উপজেলার ১৮ জন আটক হয়েছে এবং প্রায় ২ হাজারের অধিক শ্রমিক সাধারণ ক্ষমায় ফিরতে না পেরে মানবেতর জীবন যাপন করছে। তবে জেলা জনশক্তি ও কর্মসংস্থান কার্যালয় সূত্রে জানা য়ায়, যারা ফিরতে পারেনি তারা অবৈধ শ্রমিক। ওমরা ভিসা নিয়ে সেখানে গিয়ে তারা দেশে ফিরেনি। অনেকে হজ্ব কিংবা ওমরা করার নাম করে সেখানে গিয়ে আর ফিরে আসেনি । তাদের সঠিক সংখ্যা সরকার এখনো নির্নয় করেনি।
এদিকে সৌদি আরবের আবাসিক ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের ঘোষনা অনুযায়ি ৪ মাসের সাধারণ ক্ষমার মেয়াদের মধ্যে ৬ লাখ অবৈধ অভিবাসি সৌদি আরব ছেড়েছে। তাদের মধ্যে ৫০ হাজার বাংলাদেশি এর সুযোগ নিয়ে দেশে ফিরে এসেছে। যারা ফিরে এসেছে তারা ইচ্ছা করলে পুনরায় বৈধভাবে ভিসা নিয়ে সৌদি আরব যেতে পারবে বলে জানা গেছে। সাধারণ ক্ষমায় যারা ফিরে এসেছে তাদের কাছ থেকে ফিঙ্গার প্রিন্ট (বসামাত) গ্রহন করেনি সৌদি কর্তৃপক্ষ। যাদের ১০ আঙ্গুলের ফিঙ্গার প্রিন্ট গ্রহন করেছে তাদের সেখানে প্রবেশের সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন সদ্য সৌদি আরব ফেরত তোতকখালীর তমিজ উদ্দিন।
সৌদি আরবের মক্কায় অবস্থানরত পিএমখালীর ব্যবসায়ি নসিউল আলম রহমানি, আবদুল খালেক ও আক্তার কামাল জানান, চলমান অভিযানের কারনে শ্রমিকরা বের হচ্ছেনা, অনেক বৈধ শ্রমিককে পেশা অনুযায়ি কাজে না পাওয়ায় আটক করেছে। আগে (ঘোরপা) কক্ষ তল্লাশি করে আটক করতনা তবে গত কয়েকদিন যাবৎ বিভিন্ন বিভাগের পুলিশ অভিযান জোরদার করছে। যারা আছে তাদের চরম কষ্টে দিন যাচ্ছে। ৪ মাস আগে সাধারণ ক্ষমার মেয়াদ শেষ হলেও কক্সবাজারের প্রায় ২ হাজারের বেশি ওমরা ও হজ্ব ভিসা নিয়ে গিয়ে পালিয়ে থাকা শ্রমিক আটকা পড়েছেন। অনেকে কক্ষ থেকে বের হতে পারছেনা। কাজ করার সুযোগ তো নেই বললেই চলে। প্রতিদিনই সৌদি আরবে বিভিন্ন ধরনের পুলিশ দোকানে দোকানে অভিযান চালাচ্ছে। কাগজপত্র চেক করছে। এক কপিলের লোক অন্য কপিলের দোকানে পেলে বৈধ শ্রমিকদের পর্যন্ত রেহায় দিচ্ছেনা। আগের যে কর্ম পরিবেশ , সুযোগ সুবিধা ছিল তা এখন নেই বললেই চলে ।
সৌদি আরবের মিসফলায় দোকানে কাজ করা ঈদগাহের কলিম উল্লাহ এবং তোতকখালীর মোবারক হোসেন, মক্কায় বাংলাবাজারের আবদুল হাকিম জানান, ব্যাপক ধরপাকড় এবং সাধারণ ক্ষমার মেয়াদ শেষ হওয়ার কারনে দেশে ফিরতে পারছেনা সদরের ঈদগাও, পিএমখালী, ঝিলংজা, জালালাবাদ, পোকখালী, চৌফলদন্ডি, ভারুয়াখালী, রামুর রাজারকুল, ফতেখারকুল, চাকমারকুলসহ ২ উপজেলার সহ¯্রাধিক অবৈধ শ্রমিক।
অপরদিকে সাধারণ ক্ষমায় সোৗদিয়া থেকে ফিরে আসা সদরের বিভিন্ন ইউনিয়নের শ্রমিক তমিজ উদ্দীন, রশিদ আহমদ, আজিজুল হক, শাহাব উদ্দিন জানান, সৌদি আরবে আগের মত কাজের পরিবেশ নেই, তারা তাদের দেশের মানুষের বেকারত্ব দূর করতে কঠিন আইন করছে যা (আজনবি) বাইরের শ্রমিকদের কাজ করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। নতুন ভিসানীতি এবং বিভিন্ন করের হার বৃদ্ধির কারনে বিশেষ করে ভিসার নবায়ন ফি অতিমাত্রায় বাড়ার কারনে বৈধ শ্রমিকদের পর্যন্ত আগামি ১ বছরের মধ্যে সৌদিয়া ছাড়তে হবে। তাদের পাশ্ববর্তী দেশ ইয়েমেনের সাথে যুদ্ধ চলমান থাকার কারনে তারা অর্থকষ্টে আছে। ফলে বিভিন্ন সেক্টরে তারা করারোপ বৃদ্ধি করেছে। যারা আটকে আছে তাদের বিষয়ে সরকার কুটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে ফিরিয়ে না আনলে আগামি এক মাস পর থেকে তাদের পরিবার পরিজন অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাবে।
চলমান অভিযান এবং কুটনৈতিক তৎপরতা দূর্বল থাকার কারনে আগামি মাস থেকে জেলার রেমিটেন্সের উপর মারাত্মক প্রভাব পড়ার আশংকা রয়েছে। পাশাপাশি প্রবাসিদের পরিবারে চলছে উৎকন্ঠা।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।