উখিয়ায় ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেয়ায় ভূক্তভোগীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায়

teknafnews71.com -pic (309)
আবদুর রহিম সেলিম,
উখিয়ায় উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার অনিল কান্তি বড়–য়ার ভাড়াটে সন্ত্রাসী কর্তৃক বসতভিটা জবর দখল, হামলা, ভাংচুর ও মালামাল লুটের ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করায় ভূক্তভোগী পরিবারকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধমকি দিয়ে হয়রানী করে যাচ্ছে। এ নিয়ে ভূক্তভোগী পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে। এ ঘটনা নিয়ে গোটা উখিয়া উপজেলার সচেতন মহলের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, পূর্বরতœা গ্রামের মৃত বুচারাম বড়–য়ার পুত্র শিশু বড়–য়া রতœাপালং মৌজার বিএস ১৯১০নং খতিয়ানের ৩৮১৭ দাগের ১২ শতক জমিতে বসতবাড়ি ও বিএস ১২৩১নং খতিয়ানের বিএস ২৬৯৩ দাগের পূর্বাংশের ৪০ শতক জমি পিতা বুচারাম বড়–য়া খরিদ করে মৃত্যুবরণ করায় তৎস্বত্ব শিশু বড়–য়া গং পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত হয়ে চলাচলের পথ, সুপারী বাগান ও পুকুর হিসেবে দীর্ঘবছর ধরে শান্তিপূর্ণ ভোগ দখল করে আসছে। উক্ত দুর্নীতিবাজ মেডিকেল অফিসার অনিল কান্তি বড়–য়া ও তার সহোদর দুলাল বড়–য়া, হরেন্দ্র বড়–য়া একযোগে গত কয়েক মাস পূর্ব হইতে শিশু বড়–য়া গংয়ের জমিগুলো জবর দখলের অপচেষ্টা চালিয়ে আসছিল। তারই ধারাবাহিকতায় শিশু বড়–য়া গংয়ের প্রাপ্ত বিএস ২৬৯৩ দাগের পুর্বাংশের ৪০ শতক জমি হইতে ১৭ কড়া জমি স্থানীয় ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের নিয়ে অনিল কান্তি বড়–য়া গং জোরপূর্বক দখল করে কাঁটা তারের ঘেরা দেয়। তাছাড়া বিএস ২৬৯৩ দাগের অবশিষ্ট জমি অপর ভাই দুলাল বড়–য়ার নেতৃত্বে জোর দখল করার অপচেষ্টা চালায়। এ ব্যাপারে শিশু বড়–য়া বাদী হয়ে গত ৮ সেপ্টেম্বর উখিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার তদন্ত শেষে বিষয়টি মিমাংসায় উখিয়া থানা প্রশাসন চেষ্টা চালায়। কিন্তু দুলাল বড়–য়া থানার বিচার না মানায় উখিয়া থানা প্রশাসন গত ১৫ সেপ্টেম্বর উক্ত দুলাল বড়–য়া গংয়ের বিরুদ্ধে উখিয়া থানার সাধারণ ডাইরী নং- ৫৬৭, তারিখ- ১৪/০৯/১৫ইং, নন এফ,আই,আর নং-৩২/১৫, তাং- ১৫/০৯/১৫ইং, ধারা- ফৌঃ কাঃ বিঃ ১০৭/১১৭(সি) মোতাবেক কোর্টে প্রেরণ করেন। যা বর্তমানে বিচারাধিন রয়েছে। তাছাড়া শিশু বড়–য়া গং বাদী হয়ে বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট বরাবরে এম.আর মামলা নং- ৬৮৭/১৫ রুজু করা হলে বিজ্ঞ আদালত দুলাল বড়–য়া গংদের বিরোধীয় জমিতে প্রবেশে বারিত করলেও বিবাদীপক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমি জবর দখলের অপচেষ্টা চালায়। সম্প্রতি মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে বিশেষ সাময়িকী ‘কৃষকের বাংলা’ প্রকাশনা সংশি¬ষ্ট কাজে শিশু বড়–য়া গত ১৭ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে অবস্থান করায় তার অনুপস্থিতির সুযোগে অনিল কান্তি বড়–য়া’র নেতৃত্বে এলাকার সমস্ত কু-কর্মের হোতা তার সহোদর দুলাল বড়–য়া, হরেন্দ্র বড়–য়া সহ ৭/৮ জন অজ্ঞাত ভাড়াটে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা গত ১৮ ডিসেম্বর সকালে শিশু বড়–য়ার বসতভিটা আবারো জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালায়। এ সময় সন্ত্রাসীরা শিশু বড়ুয়ার বসতভিটার ঘেরা টেংরা ও দরজা ভাংচুর করে সন্ত্রাসীরা তান্ডব চালিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে। এ সময় সন্ত্রাসীরা শিশু বড়–য়ার বাড়ির মালামাল লুট সহ তার স্ত্রী মুন্নি বড়–য়া ও দুই শিশু পুত্রকে মারধর করে গুরুতর আহত করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অসহায় শিশু বড়–য়ার দীর্ঘদিনের পৈত্রিক সম্পত্তি দখলে নিতে এ ষড়যন্ত্রকারী মহলটি অপতৎপরতা চালিয়ে ব্যর্থ হয়ে এখন নানা ভাবে শিশু বড়–য়ার পরিবারকে হুমকি ধমকি দিয়ে হয়রানী করার চেষ্টা চালাচ্ছে। যা দেশের প্রচলিত আইনের পরিপন্থি হলেও প্রভাব আর প্রতিপত্তির ও ক্ষমতার কারণে বার বার অসহায় শিশু বড়–য়া ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দেশে স্বচ্ছ ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে পুলিশ প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদেরকে শিশু বড়–য়ার মত অসহায় লোকদের পাশে দাঁড়ানো উচিত। ন্যাক্কারজনক এ ঘটনার পরও উল্টো শিশু বড়–য়ার পরিবারের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। যা শাক দিয়ে মাছ ঢাকার মত অপচেষ্টার সামিল।
এ ব্যাপারে ভূক্তভোগী শিশু বড়–য়া বাদী হয়ে উক্ত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে গত ১৯ ডিসেম্বর উখিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন (যার নং- ১০২১, তারিখ- ১৯/১২/১৫ইং)। এ ঘটনা তদন্তে এসআই মোঃ আব্দুর রহিমকে নির্দেশ দেন ওসি। তদন্তকারী কর্মকর্তা আগামী ৫ জানুয়ারী ১৬ইং ঘটনার বিষয়ে কাগজপত্র প্রমাণাদি নিয়ে হাজির হতে উভয় পক্ষকে নোটিশ প্রদান করেন। ইত্যবসরে ভূমিদস্যু, দুর্নীতিবাজ কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার অনিল কান্তি বড়–য়া প্রকৃত ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে উল্টো শিশু বড়–য়ার পরিবারের বিরুদ্ধে গত ২৫ ডিসেম্বর উখিয়া থানায় একটি সাজানো মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ এ অভিযোগটি শাওন দাশ নামের একজন পুলিশ অফিসারকে তদন্তের দায়িত্বভার অর্পন করেন। পুলিশ কর্মকর্তা শাওন দাশ বিষয়টির সুরাহা করতে গতকাল ২৬ ডিসেম্বর উভয় পক্ষকে থানায় হাজির হতে নির্দেশ প্রদান করেন।
সূত্রে জানা যায়, অনিল কান্তি বড়–য়া গং এলাকার প্রভাবশালী ও খুনি প্রকৃতির হওয়ায় একের পর এক অপরের জমি জবর দখল ও সাধারণ লোকদের হয়রানী ও নির্যাতন চালিয়ে গেলেও এলাকার কেউ তাদের বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস পায় না। ফলে জোর জুলুম করা তাদের নিত্য নৈমত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাছাড়া উক্ত অনিল বড়–য়া গং ১৫/২০ বছর পূর্বে এলাকার একটি পরিবারের উপর অমানষিক হামলায় চালিয়ে একজনকে নির্মম ভাবে হত্যা করে। এ সময় বেশ কয়েকজনকে গুরুতর আহত হয়।
অপর একটি সূত্রে জানা যায়, অনিল কান্তি বড়–য়ার সহোদর হরেন্দ্র বড়–য়া গত এক বছর পূর্বে শিশু বড়–য়া গংয়ের অপর একটি জমি জবর দখল করার চেষ্টা চালায়। এতে শিশু বড়–য়ার বড় ভাই সুনিল বড়–য়া স্থানীয় গ্রাম্য আদালতে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। যার নং- ৯৩/১৪, তাং- ২৩/০৭/১৪ইং। জবরদখলকারী হরেন্দ্র বড়–য়া গ্রাম্য আদালতের সালিশ অমান্য করায় আদালত তার বিরুদ্ধে শালিশনামা প্রদান করেন। উক্ত সালিশনামা সহকারে উখিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলে তদন্তে জমি জোর দখল সহ স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এলাকার সমস্ত কুকর্মের নাটেরগুরু হরেন্দ্র বড়–য়াকে গ্রেফতার করে থানা পুলিশ। পরে স্থানীয় একটি রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলের তদবিরে মুচলেকা দিয়ে থানা থেকে ছাড়া পেয়ে যায় হরেন্দ্র। তাছাড়া স্থানীয় হেমন্দ্র মাষ্টার গংয়ের কিছু জমি উক্ত হরেন্দ্র বড়–য়া জবর দখল করলে স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের হস্তক্ষেপে তা রক্ষা পায়। এছাড়াও তার ভাই দুলাল বড়–য়ার বিরুদ্ধে কক্সবাজার জুড়িশিয়াল বন আদালতের বন মামলা নং- ১০১/১৫ সহ গ্রাম্য আদালত, থানা ও কোর্টে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।
সচেতন মহলের মতে, একটি ঘটনায় দুটি অভিযোগ নিয়ে পুলিশকে একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছতে হবে। দুটি অভিযোগের ঘটনায় একটি বৈঠকেই মিমাংসা করতে হবে। অন্যথায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির মত ঘটনার অবকাশ হতে পারে। তাছাড়া পুলিশ দুষ্টের দমন, শিষ্টের পালনের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে অসহায় শিশু বড়–য়ার অভিযোগ আমলে নিলে একটি ন্যায় ও সুষ্ঠ বিচার পাবে বলে আশাব্যক্ত করছেন সচেতন মহল।
এ ব্যাপারে উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হাবিবুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় এক সপ্তাহ আগে একটি অভিযোগ এসেছে। গত ২৫ ডিসেম্বর আরও একটি অভিযোগ পুলিশের কাছে আসার কারণে ঘটনার সুষ্ঠ তদন্তে নেমেছে পুলিশ। আশাকরি তদন্তে যারা দোষী প্রমাণিত হবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।