১২ ফেব্রুয়ারী থেকে শুরু হচ্ছে রোহিঙ্গা শুমারীর প্রাথমিক কাজ অনিবন্ধিত রোহিঙ্গাদের সাথে জেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তার মতবিনিময়

Ruhinga Camp-Pic-2
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী থেকে কক্সবাজারে শুরু হচ্ছে অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা শুমারীর প্রাথমিক তালিকাভুক্তিকরণ কাজ। মার্চের শেষ সপ্তাহেই চলবে শুমারীর চূড়ান্ত কাজ। সরকার ঘোষিত এই শুমারী সফল করতে উখিয়ার কুতুপালং এলাকায় বসবাসরত অনিবন্ধিত আরাকানী রোহিঙ্গাদের সাথে মতবিনিময় সভা করেছে পরিসংখ্যান ব্যুরোর কক্সবাজার স্টাটিস্টিক অফিসের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ওয়াহিদুর রহমান। ৫ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার বিকালে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আরাকানী রোহিঙ্গা শরনার্থী কল্যাণ পরিষদের সভাপতি এ্যাডভোকেট নুরুল আমিনের সভাপতিত্বে সভায় পরিসংখ্যান কর্মকর্তা বলেন, সরকার দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অনিবন্ধিত রোহিঙ্গাদের নির্দিষ্ট নীতিমালার মধ্যে নিয়ে আসার জন্য পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। ইতিমধ্যে সরকার দেশব্যাপী অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা শুমারী করার ঘোষণা করেছে। যারা শুমারীর অন্তর্ভুক্ত হবে তারা সরকারীভাবে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা ভোগ করবে।
আরাকানী রোহিঙ্গা শরনার্থী কল্যাণ পরিষদের আয়োজনে সভায় তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী থেকে জেলায় শুমারীর প্রাথমিক কাজ শুরু করা হবে। শুমারী শেষে আইওএমএ’র পক্ষ থেকে সকলকে নির্দিষ্ট পরিচয়পত্র দেয়া হবে। যেটিতে প্রত্যেকের রোহিঙ্গা পরিচয় লিপিবদ্ধ থাকবে। এই পরিচয়পত্র বহনকারী ব্যক্তি শিক্ষা, সিকিৎসাসেবা, চলাফেরার নিরাপত্ত্বাসহ সব ধরণের মানবিক অধিকার ভোগ করবে। তাছাড়া যে কোন জায়গায় অনর্থক হয়রানী থেকে বাঁচাতেও পরিচয়পত্রটি সহায়ক ভুমিকা পালন করবে বলেও জানান তিনি।
রোহিঙ্গাদের প্রশ্নের জবাবে পরিসংখ্যান কর্মকর্তা ওয়াহিদুর রহমান বলেন, শুমারী কার্যক্রম জাতিসংঘের সার্বিক তত্বাবধানে হচ্ছে। তাতে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই। সকলকে শুমারীতে অন্তর্ভুক্ত হতে হবে। এ সময় তিনি যে যার অবস্থান থেকে সরকারের এ উদ্যোগকে সফল করার আহবান জানান।
সভায় বক্তব্য রাখেন আরাকানী রোহিঙ্গা শরনার্থী কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার শাহ, উখিয়া উপজেলা শুমারী সমন্বয়কারী রাসেল উদ্দিন, ক্যাম্প চেয়ারম্যান আবু ছিদ্দিক প্রমুখ।
মতবিনিময় সভায় মসজিদের খতিব মাওলানা মোহাম্মদ হোসাইন, সিরাজুল ইসলাম, নেজাম উদ্দিন, মনিরুজ্জামানসহ স্থানীয় মান্যগণ্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে আরাকানী রোহিঙ্গা শরনার্থী কল্যাণ পরিষদ এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, দীর্ঘদিন যাবৎ বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের নিয়ে একটি রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক-সাংস্কৃতিক এমনকি আন্তর্জাতিক জটিলতা অতিক্রম করছে। ‘রোহিঙ্গা’ ইস্যুটি দীর্ঘদিন অমীমাংসিত থাকায় বাংলাদেশ সরকারও বেকায়দায়। এটির সঠিক সুরাহা প্রয়োজন। এ জন্য সম্মিলিত উদ্যোগ ও আন্তরিকতা দরকার। Ruhinga Camp-Pic-1
বাংলাদেশে অবস্থানরত আরাকানি রোহিঙ্গাদের সংগঠন ‘আরাকান রোহিঙ্গা শরণার্থী কল্যাণ পরিষদ’ অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ রাখতে সহায়ত ভুমিকা পালন করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের প্রচলিত নিয়ম কানুন মেনে চলার তাগিদ, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের মনোভাব সৃষ্টি, মৌলবাদ জঙ্গীবাদ অসম্প্রদায়িক উজ্জীবিত একটি নিরাপদ রোহিঙ্গা সমাজ বিনির্মাণের চেষ্টা করছে তারা।
নিবন্ধিত শরণার্থীর বাইরে দুই লক্ষাধিক শরণার্থী অনিবন্ধিত অবস্থায় বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে মানবেতর ও নিয়ন্ত্রণহীন জীবনযাপনর করছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ আত্মপরিচয় লুকিয়ে নিজ বাসভূমিতে ফিরে যাওয়ার স্বপ্ন হারিয়ে বাংলাদেশে স্থিত হওয়া অর্থাৎ বাংলাদেশের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হওয়ার চেষ্টা করছে। কেউ সুবিধাবাদী গোষ্ঠীর ইন্ধনে বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়ছে, আবার কেউ কেউ উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠীর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে বিভ্রান্তির পথে পা বাড়াচ্ছে।
এ অবস্থায় বাংলাদেশ সরকার অত্যন্ত সঠিক ও সময়োপযোগী বাংলাদেশে অবস্থানরত মিয়ানমারের অনিবন্ধিত নাগরিকদের শুমারী বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেয়ায় তারা উৎসাহিত, আনন্দিত। এ শুমারীর ফলে তাদের প্রকৃত সংখ্যা এবং অবস্থা নির্মিত হবে আত্মপরিচয় লুকানোর মতো আত্মবিনাশী ষড়যন্ত্র বন্ধ হবে। যা রোহিঙ্গাদের ভাগ্য নির্ধারণে সমস্ত অস্পষ্টতা দূর করবে বলে তারা মনে করেন। এ রকম একটি কল্যাণকর মহতী উদ্যোগের জন্য বাঙালি জাতির জনকের কন্যা প্রশ্নাতীত মানব দরদী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পরিসংখ্যান ব্যুরোকে আন্তরিক অভিনন্দন জানায় তারা।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।