১১লাখ রোহিঙ্গাদের পদভারে টেকনাফ

মোঃ আশেকউল্লাহ ফারুকী, টেকনাফ :
রোহিঙ্গাদের পদভারে টেকনাফ কক্সবাজার সড়ক ও বনভূমি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। যেমন, অতিরিক্ত যানবাহন, পরিবহন, পাহাড়, বসবাস, সড়কের পাশ্বে ক্যাম্প স্থাপন, রোহিঙ্গাদের অবাধ যাতায়াত এবং সড়কের পাশ্বে বাজার ¯া’াপন ও গাড়ী পাকিং এর কারণে টেকনাফ কক্সবাজার আঞ্চলিক সড়ক এখন অতিব্যস্থ ও ঝুঁকিতে পরিনত হয়েছে। পাশ্ববর্তী দেশ মিয়ানমার আরাকান তথা রাখাইন রাজ্যে সস্ত্রাস দমনের নামে গোটা আরাকানে রাখাইন সামরিক জান্তা এবং উগ্রপন্থি রাখাইনেরা রোহিঙ্গাদের উপর দমন নিপীড়ন ও জাতীগত নির্ধন অব্যাহত রাখলে শেষ পর্যন্ত ২০১৭ সালে ২৫ মে মিয়ানমার থেকে প্রাণভয়ে দলে দলে নাফ নদী ও সাগর পাড়ি দিয়ে নির্যাতিত রোহিঙ্গারা সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ করে। বর্তমানে ১১ লাখ রোহিঙ্গা উখিয়া টেকনাফের ১৫টি আশ্রয় শিবিরে অবস্থান করছে। আজ রোহিঙ্গা জন বিস্পোরনে এ দুই সীমান্ত উপজেলা নানা সমস্যায় জ্জরিত। ১১ লাখ রোহিঙ্গাএবং উখিয়া টেকনাফের জনসংখ্যা ৬লাখসহ মোট ১৭লাখ মানুষের বসবাস, যাতায়াত পরিবেশের উপর বিরোপ প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের পদভারে পাহাড় ধ্বংস এবং সীমান্তের একমাত্র আঞ্চলিক সড়কটি অতিঝুঁকিতে পরিনত হওয়ায় নিত্যদিন যানজাট সৃষ্টি হয়। টেকনাফ থেকে কক্সবাজার লিংক রোড পর্যন্ত সড়কের দুরত্ব ৮৬ কিঃ মিটারের মধ্যে ছোট বড় রোহিঙ্গাদের আশ্রয় শিবির (ক্যাম্প) এবং বাজার প্রায় সড়কের পাশ্বে। বিকল্প সড়ক, সড়কের অপ্রশস্থতা রোহিঙ্গাদের যাতায়াত, বিচরণ যাতায়াত অতিরিক্ত যানবাহন ও পরিবহন চলাচলের কারণে টেকনাফ কক্সবাজার সড়ক এখন অতিব্যস্থ ও ঝুকিতে পরিনত হয়েছে। এমতাবস্থায় উখিয়া টেকনাফ সীমান্ত উপজেলার ৬ লাখ মানুষের দুর্বীসহ জীবন যাপন করছে। শ্রমবাজার রোহিঙ্গাদের দখলে চলে যাওয়ায় দেশীয় শ্রুমিকেরা আজ বেকারে পরিনত। কক্সবাজার দক্ষিণ প্রায় বনভূমির উপর বেঙের ছাতার ন্যায় গড়ে উঠেছে, রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন স্থাপনা ও ক্যাম্প। পাহাড়ের মাঠি কর্তন ও বৃক্ষ নীধনের প্রেক্ষিতে এখানকার পরিবেশ পরিস্থিতি এক নাজুক অবস্থা বিরাজ করছে। বলতে গেলে দক্ষিণ বনাঞ্চলটি একটি ন্যাড়া মাথায় ন্যায় পরিনত হয়েছে। পাহাড়ে রোহিঙ্গাদের বসবাস, স্থাপনা এবং ন্যড়া মাথায় প্রবল বর্ষন ও পাহাড়ী ঢলের সাথে পাহাড়ী মাঠি সরাসরী নাফ নদীতে চলে এসে ভরাট হয়ে যাচ্ছে। ফলে নাফ নদী নাব্যতা হারাচ্ছে। এছাড়া প্রবল বর্ষন ও পাহাড়ী ঢলে পাহাড়ে আকড়ে ধরামাঠি ¯্রােতে চলে এসে সড়ক ভরাট হয়ে যায়। ফলে যানচলাচল বাঁধাগ্রস্থ দেখা দিলে যাত্রীসকল দুর্ভোগের শিকার হয়। আজ উখিয়া টেকনাফ সীমান্ত উপজেলার ৬লাখ বাংলাদেশী নাগরিক ১১লাখ মিয়ানমারের নাগরিক অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের কাছে এক পর্যায়ে জিম্মি। ওদের কারণে এ দুই উপজেলার জনগণ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। ১৫টি ক্যাম্পে আশ্রিত রোহিঙ্গারা বিভিন্ন অনৈতিক ও অপকর্মে জড়িত হয়ে পড়েছে। মাদক চোরাচালান, নারী শিশু পাচার, মানব পাচারসহ বিভিন্ন অসমাজিক কার্যকলাপে জড়িত হয়ে পড়েছে। এছাড়া উখিয়া টেকনাফেল রোহিঙ্গার কারণে আইন শৃংখলা পরিস্থিতি অবনতি হচ্ছে। যার কারণে আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী অপরাধ দমনে ব্যস্থ জীবন কাটাচ্ছে। সড়কের যাতায়তকারী সচেতন যাত্রী ও সূশীল সমাজের পক্ষ থেকে দাবী উঠেছে যে, টেকনাফ কক্সবাজার লিংক লোড পর্যন্ত ৮৬ কিঃ মিটার সড়কটি রোহিঙ্গাদের যাতায়ত এবং এনজিও সংস্থার মালামাল সামগ্রী পরিবহণে সড়কটি জর্জরিত। প্রতিনিতয় এ সড়কে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানী ঘটনা ঘটছে। ভূক্তভোগী জনগণ এবং বিভিন্ন পেশাজীবি লোকেরা এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। টেকনাফ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক সাংসদ অধ্যাপক মোঃ আলী বলেন, জনসংখ্যার তুলনায় বর্তমানে সড়কটি সংকোচিত এবং পর্যটন নগরী এবং টেকনাফ একটি অর্থনীতি জোন ও সিংহভাগ রাজস্ব যোগানকারী হিসাবে দেশের দক্ষিণ সীমান্ত উপজেলার আঞ্চলীক সড়কটি সংস্কার ও প্রশস্থকরণের দাবী উঠেছে। তাই বিষয়টি অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন বলে অনেকেই মনে করেন।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।