২০২০ সালের মধ্যে ২ কোটি ৭৩ লাখ হতদরিদ্র মানুষের জীবন মানের উন্নয়ন ঘটবে

॥ একেএম কামাল উদ্দিন চৌধুরী ॥
ঢাকা, ২১ ডিসেম্বর, ২০১৮ (বাসস) : একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের আওতায় ২০২০ সালের জুন মাসের মধ্যে সারাদেশের প্রায় ২ কোটি ৭৩ লাখ দরিদ্র ও হতদরিদ্র মানুষের জীবন মানের উন্নয়ন ঘটবে। তাদের প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে সরকার।
এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকার ২০২০ সালের জুন মাসের মধ্যে ৯১ হাজার ৯২টির বেশি গ্রাম উন্নয়ন সমিতি (ভিডিএ) গঠন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। মোট ৫৪ লাখ ৬০ হাজার পরিবার এসব সমিতি থেকে সুবিধা পাবে।
একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের পরিচালক ড. আকবর হোসেন বাসসকে জানান ‘সরকার তহবিল সংগ্রহ ও খামার গড়ে তোলার মাধ্যমে দারিদ্র্য নিরসন এবং স্থায়ী উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জনের জন্য এই প্রকল্প গ্রহণ করেছে। প্রকল্পটি দরিদ্র মানুষকে আত্মনির্ভরশীল করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তিনি বলেন, প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে সারাদেশের মোট ৭৯ হাজার ৫৭৯ টি ভিডিএ গঠিত হয়েছে এবং এর মাধ্যমে প্রায় ৩৮ দশমিক ১০ লাখ পরিবার সুবিধা পাচ্ছে। প্রকল্পের সুবিধাভোগীরা ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত মোট ১৪৫০ কোটি ১৪ লাখ টাকা সঞ্চয় করেছে এবং সরকার এই সঞ্চয়ের সঙ্গে ১২২৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছে।
প্রকল্প পরিচালক বলেন, প্রকল্পের মাধ্যমে সরকার দরিদ্র পরিবারগুলোকে পুঁজি গঠনে সহায়তা করছে, প্রশিক্ষণ ও উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে তাদের দক্ষতা বাড়িয়ে তুলছে এবং উঠোন বৈঠকের মাধ্যমে তাদেরকে একত্রে বসার সুযোগ করে দিচ্ছে। এতে তারা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হয় এবং সেই সাথে চাহিদা ভিত্তিক ছোট-ছোট পরিবারিক খামার গড়ে তোলে। প্রকল্পের আওতায় এসব খামারে উৎপাদিত পণ্য বিপণনের সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে সমিতির সদস্যরা আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠেছে এবং তারা স্বাধীনভাবে ব্যবসাগুলো চালাতে সক্ষম।
একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পে সরকার নারী উন্নয়নের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছে। ফলে, ৬০ সদস্যের একটি গ্রাম উন্নয়ন সমিতির ৪০ জন সদস্যই নারী। প্রকল্পের অধীনে সমিতির প্রতিটি সদস্য প্রতি মাসে ২০০ টাকা করে সঞ্চয় করে এবং সরকার তাদের সমপরিমাণ অর্থ বোনাস দেয়। এসব টাকা প্রকল্পাধীন পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক-এর অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হয়।
ড. আকবর হোসেন জানান, সংশ্লিষ্ট সমিতির মাধ্যমে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক থেকে ঋণের টাকা পাওয়ার পর প্রতিটি গরীব পরিবারের সদস্যরা মৎস্য, গবাদি পশু, হাঁস-মুরগির খামার, নার্সারি ও উদ্ভিজ্জ বাগান হিসাবে ছোট খামার গড়ে তোলে। ফলে নিম্ন আয়ের মানুষের প্রতি ইঞ্চি ভূমি কৃষি উৎপাদনের জন্য দক্ষতার সাথে ব্যবহার করা হচ্ছে।
তাদের খামারের উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করে সেই আয় থেকে প্রতিটি সদস্য সমিতির ঋণ পরিশোধ করে। এভাবে এই দরিদ্রদের দ্বারা গড়ে তোলা তহবিল স্থায়ীভাবে দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।
ড. হোসেন বলেন, এভাবেই দারিদ্র্য বিমোচনের চক্র হিসাবে এটি দারিদ্র্যের চির অবসান ঘটায়।
নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জের রূপালী বেগম হাঁসের খামার করে জীবনধারার পরিবর্তন করেছেন। দেড় বছর আগে তিনি তার গ্রামের ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের সমিতি থেকে ১৫ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে এই খামার শুরু করেছিলেন।
তিন সন্তানের জননী রূপালী বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী গবাদি পশু ব্যবসায়ী। তিনি ভালভাবে পরিবারের খরচ চালাতে পারেন না। তাই, আমি আমার স্বামীর সহযোগিতা নিয়ে ব্যবসা করতে এসেছি।’
তিনি বলেন, স্বল্প সময়ের মধ্যে আমি আত্মনির্ভরশীল হয়েছি এবং আমার পরিবারকে আমার খামারের উৎপাদিত ডিম ও হাঁস বিক্রি থেকে আর্থিক সহযোগিতা করতে পারছি। এখন আমি আমার বাচ্চাদের শিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যয় বহন করতে পারব।’
রূপালী বেগম জানান, তার বড় ছেলে এসএসসি পরীক্ষার্থী এবং ছোট ছেলের বয়স ৮ বছর। তিনি বলেন, তার মেয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে।
বর্তমানে রূপালীর খামারের ৩০০ টি হাঁস আছে। এই খামার থেকে তিনি প্রতিদিন প্রায় ২০০ ডিম পান। রূপালী গাইবান্ধার হাঁসের খামারের হ্যাচারিতে ডিম বিক্রি করেন। তিনি ইতোমধ্যে ১৫ হাজার টাকা ঋণ পরিশোধ করেছেন এবং তার হাঁসের খামার সম্প্রসারণের জন্য তিনি ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের কাছে ৫০ হাজার টাকা ঋণের জন্য আবেদন করেছেন।

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।