সু চিকে কাঠগড়ায় তোলা কে এই আবুবাকার?

গাম্বিয়ান রাজনীতিবিদ এবং আইনজীবী হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি পাওয়া আবুবাকার মারি তামবাদু ২০১৭ সালে ৭ ফেব্রুয়ারী থেকে গাম্বিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট অ্যাডামা ব্যারোর মন্ত্রিসভায় বিচারমন্ত্রী ও অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে তিনি রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আইনজীবী হিসাবে কাজ করেছেন।

আবুবাকার মারি তামবাদুর জন্ম ১৯৭২ সালের ১২ ডিসেম্বর। তিনি মারি তামবাদু নামে পরিচিত। তার পিতার নাম আলহাজ মারি তামবাদু। গাম্বিয়ার রাজধানী বানজুলে তার পড়াশুনা শুরু করেন। পরবর্তীতে উচ্চ শিক্ষার জন্য ব্রিটেন যান। ব্রিটেনের ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি করেন। লিংকন’স ইন থেকে বার-এট-ল ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি ইউনিভার্সটি অব লন্ডন থেকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের উপর এলএলএম সম্পন্ন করেন।

তামবাদু গাম্বিয়ায় পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ২০০৩ সালে তিনি গাম্বিয়া ছেড়ে তানজানিয়ায় চলে যান। সেখানে রুয়ান্ডার জন্য গঠিত জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সহযোগী আইনী কর্মকর্তা হিসাবে ২০০৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত প্রসিকিউটরের বিশেষ সহকারী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এসময় তিনি রুয়ান্ডার সেনাবাহিনীর প্রাক্তন জেনারেল আগস্টিন বিজিমুঙ্গুসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিলেন। ২০১৬ সালে এই বিচার কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর তিনি নিজ দেশে ফিরে আসেন।

রোহিঙ্গা সমস্যার শুরু থেকেই এর সমাধানে ভূমিকা রাখতে গাম্বিয়া বিষয়টি ওআইসির বিভিন্ন ফোরামে তোলে। এরপর ওআইসি গাম্বিয়াকে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা করার দায়িত্ব দেওয়ার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেয়।

গত বছর ওআইসি সম্মেলনের আগে কক্সবাজার গিয়েছিলেন তামবাদু। সেখানে রোহিঙ্গাদের উপর মিয়ানমারের চালানো বর্বরতার কথা শুনেন। রুয়ান্ডার গণহত্যার বিষয়ে জাতিসংঘের আদালতে কাজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ওআইসির সম্মেলনে মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক আদালতে নেওয়ার বিষয়টিকে সামনে নিয়ে আসেন।

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচারের শুনানির প্রথম দিন মিয়ানমারকে কাণ্ডজ্ঞানহীন হত্যাকাণ্ড বন্ধের দাবি জানিয়েছেন তামবাদু।

উদ্বোধনী বক্তব্যে তামবাদু বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে চলতে থাকা গণহত্যা বন্ধে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারকদেরকে ব্যবস্থা নিতেই হবে।

‘গাম্বিয়া যা চায় তা হচ্ছে, আপনারা মিয়ানমারকে এই কাণ্ডজ্ঞানহীন হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে বলুন। যে বর্বরতা এবং নৃশংসতায় মানুষ স্তম্ভিত হয়ে যায়, মর্মাহত হয় গাম্বিয়া তার অবসান চায়। মিয়ানমারে নিজ দেশের মানুষের ওপর গণহত্যা বন্ধ হতে দেখতে চায়।

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ