টেকনাফে আগাম আমের মুকুল থেকে বেরিয়ে আসছে আম


নুর হাকিম আনোয়ার,টেকনাফ[] শীত এখনো শেষ হয়নি, ফাল্গুনও আসেনি, অথচ এরই মধ্যে টেকনাফ উপজেলার বেশ কিছু আম গাছে উঁকি দিচ্ছে আমের মুকুল, পাশাপাশি বেশ কিছু এলাকায় মুকুল থেকে বেরিয়ে আসছে আম।
বাতাসে বইছে, আমের মুকুলের মৌ মৌ সুবাস। টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় এখন শোভা পাচ্ছে আমের মুকুল। সেই মুকুলের পরিমাণ কম হলেও এর সৌরভ ছড়িয়ে পড়ছে বাতাসে। এসব আমের মুকুলে এখন মৌমাছির গুঞ্জন। মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণ যেন জাদুর মতো কাছে টানছে তাদের। গাছের প্রতিটি শাখা-প্রশাখায় তাই চলছে ভ্রমরের সুর ব্যঞ্জনা। শীতে স্নিগ্ধতার মধ্যেই শোভা ছড়াচ্ছে স্বর্ণালী মুকুল।
খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারী) টেকনাফে আম গাছের জরীপ ও আগা সংগ্রহ করেছেন চট্টগ্রাম পাহাড়তলি কৃষি গবেষণাগার সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. হারুন অর রশিদ ও কামরুল হাসান, এসময় সাথে ছিলেন-টেকনাফ উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শফিউল আলম।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে- আমের স্থানীয় জাত হিসেবে টেকনাফ উপজেলার সদর ইউনিয়ন, সাবরাং ইউনিয়ন ও বাহারছড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন আম গাছে আগাম মুকুল শোভা পাচ্ছে এবং কাঁচা আম পাওয়া যাচ্ছে।
কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই আবহাওয়াগত ও স্থানীয় জাতের কারণেই মূলত আমের মুকুল আসতে শুরু করেছে।
টেকনাফ বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালীয়াপাড়ার আমগাছের মালিক নুরুল হোসাইন বলেন, আগাম মুকুল দেখা পাওয়ায় মনটা ভালোই লাগছে। তবে এ মুকুল টিকে থাকলে এবার বাম্পার ফলন পাওয়া যাবে। তবে ঘন কুয়াশা দেখা দিলে আমের মুকুল পচে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
টেকনাফ সদর ইউনিয়নের হাবিবছড়া গ্রামের আবদুল গফুর বলেন, প্রতি বছরই কিছু আমগাছে আগাম মুকুল আসে। এবারও আসতে শুরু করেছে । ঘন কুয়াশার কবলে না পড়লে এসব গাছে আগাম ফলন পাওয়া যায়। আর আবহাওয়া বৈরী হলে ফলন মেলে না। তবে নিয়ম মেনে শেষ মাঘে যেসব গাছে মুকুল আসবে সেসব গাছে মুকুল স্থায়ী হবে।
মিঠাপানিরছড়া এলাকার আবদুল সমদ বলেন, আম গাছে আগাম মুকুল দেখে ভালো লাগছে বেশ। বাতাসে মিশে সৃষ্টি করছে মৌ মৌ গন্ধ। যে গন্ধ মানুষের মনকে বিমোহিত করছে
টেকনাফ কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মো. শফিউল আলম বলেন- টেকনাফের বেশ কিছু এলাকার গাছে গাছে ফুটছে ফুল, আমও ধরেছে বেশ। অনেক গাছে আগাম মুকুল এসেছে। কোনো কোনো গাছে আমের মুকুল থেকে বেরিয়ে এসেছে আম। আবহাওয়া পরিবর্তন অর্থাৎ যে আবহাওয়াটা মুকুল হওয়ার জন্য দরকার সেটা আগেই পেয়েছে সেজন্য আগাম মুকুল এসেছে। এছাড়া আগাম জাতের গাছে আগাম মুকুল আসে।
তিনি আরো বলেন-বর্তমানে দেশীয় আম গাছ প্রায় বিলুপ্তির পথে, তাই চট্টগ্রাম পাহাড়তলি কৃষি গবেষণাগার সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তারা জরীপ কাজ চালাচ্ছেন। জরীপ কাজ শেষ হলে আগা সংগ্রহ করে তা সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ করা হবে।

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।