টেকনাফে ২১ ইয়াবা কারবারির আত্মসমপর্ণ,২১ হাজার ইয়াবা, ১০ টি আগ্নেয়াস্ত্র জমা

নুর হাকিম আনোয়ার,টেকনাফ
ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আশায় দীর্ঘ দিন ‘সেফহোমে’ থাকার পর টেকনাফে কয়েক হাজার মানুষের সামনে দ্বিতীয় দফায় ২৫ ইয়াবা কারবারি ও হুন্ডি ব্যবসায়ী আত্মসমপর্ণ করেছেন। এসময় তারা ২১ হাজার ইয়াবা, ১০ টি দেশীয় তৈরী আগ্নেয়াস্ত্র ও ৩০ রাউন্ড তাজা গুলি পুলিশের কাছে জমা দিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হবে।
সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকালে কক্সবাজারের টেকনাফ সরকারি ডিগ্রি কলেজ মাঠে জেলা পুলিশ আয়োজিত পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন সভাপতিত্বে আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠিত হয়।
আত্মসমপর্ণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন-মাদকসহ কোন অপরাধীকে ছাড় দেয়া হচ্ছে না, মাদকের কারণে আজ যুব সমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে এবং মাদকের কারণে আমাদের দেশের ৫০ কোটি টাকা দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে, মাদককারবারিদেরকে আত্মসমপর্ণ সুযোগ দিয়েও যারা আত্মসমপর্ণ করেছেন না তাদের আরো কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে, টেকনাফে যারা আত্মসমর্পণ করেছেন তাদের তিনি ধন্যবাদ জানান। তিনি আরো বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের কঠোর অবস্থান থাকায় ইয়াবা ব্যবসা কমে এসেছে। কোনও মাদক কারবারিকে ছাড় দেওয়া হবে না। শুধু টেকনাফ-কক্সবাজার নয় গোটা বিভাগে শিগগিরই ইয়াবামুক্ত হবে। মাদক ব্যবসায়ীদের বাঁচার কোনো পথ নেই। মাদকের ব্যাপারে কাউকে ছাড় নয়। আগে দেশ বাঁচাতে হবে।
অন্যন্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন- কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এড. সিরাজুল মোস্তফা, জেলা কমিউনিটি পুলিশিংয়ে সভাপতি এড. তোফায়েল আহমদ, সাধারণ সম্পাদক সোহেল আহমদ বাহাদুর, সহকারী পুলিশ সুপার মো: ইকবাল, টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দাস, টেকনাফ কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সভাপতি নুরুল হুদা, টেকনাফ বড় মাদ্রাসার মুহতামিম মোঃ কিফায়ত উল্লাহ শফিক, টেকনাফ পৌর মেয়র হাজী মোহাম্মদ ইসলাম প্রমূখ।
আত্মসমপর্ণ করেছেন যারা -টেকনাফ মৌলভী পাড়ার লাল মিয়ার ছেলে আবুল কালাম প্রকাশ কালা সওদাগর (৪৯), মৃত আমির হোসেনের ছেলে আব্দুল আমিন প্রকাশ আবুল (৩৯), সাবরাং লেজির পাড়ার মৃত হাজী মকতুল হোছনের ছেলে মোঃ ইদ্রিস (৫৭), টেকনাফ পৌর এলাকাস্থ চৌধুরী পাড়ার লামার বাজারের আব্দুল জলিলের ছেলে মোঃ ইসমাঈল (৩১), সাবরাং খয়রাতি পাড়ার আবুল কালামের পুত্র মোঃ সাদ্দাম (২৭), মৌলভী পাড়ার সোলতান আহমদের ছেলে বশির আহমদ (৪০), সাবরাং সিকদার পাড়ার মৃত ছৈয়দুর রহমানের ছেলে আব্দুল গফুর (২৬), মৌলভী পাড়ার হাজী ফজল আহমদের পুত্র মোঃ রিদুওয়ান (২২), উত্তর লম্বরীর জহির আহমদের ছেলে মোহাম্মদ তৈয়ব প্রকাশ মধু তৈয়ব (৩৮), হ্নীলা ফুলের ডেইলের ফকির আহমদের ছেলে নুর মোহাম্মদ (২৮), হ্নীলা সিকদার পাড়ার নুর কবিরের ছেলে ঈমান হোছন (৩০), কক্সবাজার ঝিলংজাস্থ লারপাড়ার মৃত আবুল হোছন সওদাগরের ছেলে ঈমান হোছন (৪৩), টেকনাফ মৌলভী পাড়ার হাজী ফজল আহমদের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক (৩০), হোয়াইক্যং পূর্ব মহেশখালীয়া পাড়ার মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে শাহাদাত হোসেন (২৮), টেকনাফ মৌলভী পাড়ার ছৈয়দ হোছনের ছেলে মোহাম্মদ রাসেল প্রকাশ হাজী রাসেল (২৯), রুহুল আমিনের পুত্র ফজল করিম (২৬), পুরান পল্লান পাড়ার মৃত কামাল হোছনের ছেলে আব্দুল নুর (৩৯), টেকনাফ বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন মাঠ পাড়ার ফজলুর রহমানের ছেলে মোঃ জাহেদ উল্লাহ (২৪), সাবরাং সিকদার পাড়ার হাজী আমির হোছনের ছেলে মোঃ হোসেন প্রকাশ কালু (২৮) ও হ্নীলা ঊলুচামরী কোনার পাড়ার আবুল কালামের ছেলে মিজানুর রহমান (২৩)।
যেসব শর্তে আত্মসমর্পণ :১. নিজের হেফাজতে থাকা সকল ইয়াবা ও অবৈধ অস্ত্র পুলিশের কাছে হস্তান্তর করতে হবে।২. আত্মসমর্পণের আগে দায়ের হওয়া মামলা ও বিচার কার্যক্রম স্বাভাবিক নিয়মে চলবে।৩. ইয়াবা ব্যবসায় নিজের/পরিবারের সদস্য বা আত্মীয়-স্বজনের নামে-বেনামে অর্জিত সকল সম্পদ দুদক, সিআইডির মানি লন্ডারিং শাখা ও এনবিআরের মাধ্যমে যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।৪. আত্মসমর্পণ পক্রিয়ায় দায়ের হওয়া মামলায় সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে সহায়তা প্রদান করা হবে।৫. যে সকল মাদক ব্যবসায়ী এখনো সক্রিয় তাদের ব্যাপারে তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে হবে।৬. আইনি পক্রিয়ায় মুক্ত হলে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পাশাপাশি নিজ নিজ এলাকায় মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ড করতে হবে।৭. ভবিষ্যতে কখনো মাদক ব্যবসা সংক্রান্ত অপরাধে জড়িত হওয়া যাবে না।৮. আত্মসমর্পণ প্রক্রিয়ায় তাদের বিরুদ্ধে যে মামলাটি রুজু হবে, সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে তাদেরকে আইনগত সুবিধা প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।৯. মাদক ব্যবসার মাধ্যমে নিজের পরিবারের আত্মীয় স্বজনের নামে ও বেনামে অর্জিত সকল স্থাবর, অস্থাবর সম্পত্তি যাচাইয়ের জন্য দুদক, (সিআইডিমানিলন্ডারিং শাখা) এনবিআরসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সকল সংস্থার নিকট তাদের তথ্যাদি প্রেরণ করা হবে। সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে তাদের অর্জিত সকল স্থাবর, অস্থাবর সম্পত্তি যাচাই সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।প্রসঙ্গত, কক্সবাজার জেলার পুলিশের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ীর ১১৫১ মাদক কারবারির মধ্যে ২০১৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ১০২ জন চিহ্নিত ইয়াবা কারবারি আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেছিল।
উল্লেখ্য-কক্সবাজারের প্রধানমন্ত্রীর মাদক বিরোধী জিরো ট্রলারেন্স ঘোষণার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ২৮০জন মাদক কারবারি বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ