উড়িষ্যায় ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের ব্যাপক তাণ্ডব


ঘূর্ণিঝড় ‘আম্ফান’ ভারতের উড়িষ্যার উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে। এতে বিদ্যুৎকেন্দ্র, স্থাপনা ও গাছপালার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দুপুর গড়ালে ও বিকেলের দিকে এই ঝড় আরো বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। খবর- দ্য হিন্দু।

এক প্রতিবেদনে দ্য হিন্দু জানায়, বুধবার সকাল থেকেই উড়িষ্যার পারাদ্বীপে সর্বোচ্চ ১০৬ কিলোমিটার বেগে ঝড় বয়ে যাচ্ছে। চান্দবালিতে ঘণ্টায় ৭৫ কিলোমিটার বেগে, বেলাশোরে ৫৭ কিলোমিটার বেগে, আর ভুবনেশ্বরে ৫৬ কিলোমিটার বেগে ঝড় বয়ে গেছে। পাশাপাশি মুষলধারে বৃষ্টিও হচ্ছে।

সেখানকার অনেক জায়গায় গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়েছে। কিছু কিছু জায়গায় গাছ পড়ে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বিদ্যুৎ সরবরাহের অবকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এদিকে ভারতের আবহাওয়া অফিস জানায়, সকাল থেকেই পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে ঝোড়ো বাতাস বইতে শুরু করেছে। ঘূর্ণিঝড় ‘আম্ফান’ উপকূলে বিকেল বা সন্ধ্যা নাগাদ আঘাত হানতে পারে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে দুই বাংলার সুন্দরবনের একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। তবে বাংলাদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষতির সম্ভাবনাই বেশি।

আবহাওয়া দফতর আরো জানায়, তিনটি স্তরে ‘আম্ফান’ স্থল ভাগে প্রবেশ করবে। মাথা, চোখ ও লেজ। ফলে স্থলভাগে দুইবার আচমকা ঝড় দেখা যেতে পারে। অর্থাৎ বিকেলে যখন ঝড়ের মাথা প্রবেশ করবে তখন একবার। এরপর ঝড়ের দাপট কমে গিয়ে স্বাভাবিক বৃষ্টি শুরু হবে।

এরপর ঝড়ের শেষ ভাগ অর্থাৎ লেজ যখন রাতের দিকে স্থলভাগে আছড়ে পড়বে তখন তার দাপট আবার দেখা যাবে। যে সময় লেজ পশ্চিমবঙ্গে থাকবে আর মাথা থাকবে বাংলাদেশে। ফলে স্বাভাবিকভাবে দুই বাংলা ক্ষতির মুখে পড়বে।

আবহাওয়াবিদদের ধারণা, পশ্চিমবাংলার নিরিখে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে তিন জেলা।  ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুর ছাড়াও কলকাতাতেও ঝড় বয়ে যাবে। কলকাতায় ১১০ থেকে ১২০ কিলোমিটার বেগে বইতে পারে ঝড়। ফলে কলকাতায়ও ‘আম্ফান’ তাণ্ডবলীলা চালাতে পারে।


Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ