টেকনাফে সরবরাহ নেই অজুহাতে মেয়াদোত্তীর্ণ ও অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে ঔষধ


নুর হাকিম আনোয়ার,টেকনাফ [] কক্সবাজারের টেকনাফে করোনার প্রাদুর্ভাবের সুযোগে ফামের্সীগুলোতে প্রয়োজনীয় ঔষধ অবৈধভাবে মজুদ করে নিয়মিত দামের চেয়ে ১০ গুণ বেশি দামে বিক্রি ও মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে প্যারাসিটামল, জিংক, ভিটামিন সি, ভিটামিন- ই, এন্টিঅক্সিডেন্ট ট্যাবলেট অতিরিক্ত দামে বিক্রি করা অভিযোগ উঠেছে।
সর্বশেষ সীমান্ত এলাকা হওয়ায় টেকনাফে প্রশাসনের কোন অভিযান না থাকার সুযোগে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে লাইন্সেসবিহীন ফার্মেসী। এসব ফার্মেসীতে মেয়াদোর্ত্তীণ স্যাম্পল ঔষধ বিক্রি, ফার্মেসীতে ফার্মাসিষ্ট না রাখা, ক্রেতাদের ঔষধ ভালো করে বুঝিয়ে না দেয়া, ডাক্তারী প্রেসক্রিপশন বিহীন ঔষধ বিক্রি, নিষিদ্ধ ও নকল ঔষধ বিক্রি, প্রশিক্ষণ বিহীন ফার্মেসীতে চিকিৎসা দেয়া ও ষ্টোরে যথাযথভাবে ঔষধ সংরক্ষণ না রাখা, দোকানে জীবানুমুক্ত করণ না রাখার তথ্য পাওয়া গেছে।
তথ্যনুসন্ধানে আরো জানা গেছে- টেকনাফ পৌর শহরের লামার বাজার, হাসপাতাল গেইট, বাসষ্টেশন, কুলালপাড়া অলিয়াবাদে ফার্মেসীগুলো এক এক দোকানে এক এক দামে বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি থেমে নেই বাহারছড়া শামলাপুর বাজার, হ্নীলা বাজার, হোয়াইক্যং বাজার, সাবরাং বাজার, শাহপরীরদ্বীপসহ বিভিন্ন এলাকায় ফার্মেসীগুলোতে ঔষধ কোম্পানীর ঔষধ সরবরাহ করা হচ্ছে না অজুহাতে অতিরিক্ত দামে ঔষধ বিক্রি করছেন।
টেকনাফ বাসষ্টেশনের খাজা ফার্মেসিতে ৫০ টাকার স্ক্যাবো ৬ মিলিগ্রাম নামের একটি ওষুধ প্রতি পাতা বিক্রি করছিল ৪০০ টাকায়, ২৭ টাকার জিঙ্ক ২০০ মিলিগ্রাম নামের একটি ওষুধ প্রতি পাতা বিক্রি করছিল ১০০ টাকা করে এবং ২০ টাকার সিভিট ২৫০ মিলিগ্রামের নামের একটি ওষুধ প্রতি পাতা বিক্রি করছিল ৪০ টাকা।
টেকনাফ হাসপাতালে গেইটের একটি ফার্মেসীতে ১৫ টাকার নাপা (এক্সটা) বিক্রি হচ্ছিল ৫০ টাকা, ৯০ টাকার রেকস বিক্রি করছে ৩০০ টাকা, ৬৫ টাকার ই-ক্যাপ ২৫০ টাকা, ৮০ টাকার ফেক্সো-৬০ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকায়।
কুলালপাড়ার ফয়সাল মেডিকেল হলে ৩৬০ টাকার রিকোনিল ২০০ মিলিগ্রাম নামে একটি ওষুধ প্রতি প্যাকেট (৩ পাতা) বিক্রি করছিল, ৪৮০ টাকার মোনাস ১০ মিলিগ্রাম নামের ওষুধের প্রতি প্যাকেট (২ পাতা) বিক্রি করছিল ১ হাজার ৫০ টাকা ও ৩১৫ টাকার অ্যাজিথ্রোসিন ৫০০ মিলিগ্রাম নামের একটি ওষুধের প্রতি প্যাকেট (৩ পাতা) বিক্রি করছিল ৬০০ টাকা।
জালিয়াপাড়ার বাসিন্দা মোজাম্মেল হক জানান- লাইসেন্সবিহীন ফার্মেসিতে অবৈধভাবে ওষুধ মজুদদারি ও অতিরিক্ত দামে ওষুধ বিক্রি করার ব্যাপারে কোন অভিযান বা মনিটরিং না থাকার সুযোগে যেমন ইচ্ছা তেমন করে যাচ্ছে। এটা একটি ভয়াবহ অন্যায় ও অসৎ চর্চা। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দাবী জানাচ্ছি।
হ্নীলার বাসিন্দা জাফর আলম গুরা জানান- ৯৩ শতাংশ ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ বিক্রি করা হয়, আর স্টোর ম্যানেজমেন্টে কোনো ধরণের ঔষধ কিভাবে রাখতে হবে। তা ও তারা জানে না। এসব ফামের্সীতে রেগুলার ফার্মাসিস্ট রাখার কথা থাকলেও তা রাখা হয় না। দাম বাড়ায় নেওয়ার ব্যাপারে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কোনো বোধোদয়ই নেই। আর এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
টেকনাফ বাস ষ্টেশনের এক ফামের্সীর দোকানদার বলেন, বাজারে এখন ৪০/৪৫ হাজার ঔষধের আইটেম আছে, দশটি ঔষধ চাইলে সেখানে মেয়াদোত্তীর্ণ ছাড়া ঔষধ পাওয়া কঠিনই হবে। এছাড়া চিকিৎসকদের জন্য উৎপাদিত ঔষধ কোম্পানীর প্রতিনিধিদের কাছ থেকে আমরা কমদামে নেয়। এগুলোর মেয়াদ থাকে না।
কক্সবাজার ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের কর্মকর্তারা বলছেন, সাধারণত চোরাইপথে বা লাগেজে করে অনেক ঔষধ এনে বাজারে বিক্রি করেন কম দামে। এগুলোতে মেয়াদ সম্পর্কিত তথ্যই থাকেনা। কারণ এগুলো বৈধ পথে আসেনা। এটি অনৈতিক, যদি কেউ ইচ্ছে করে স্যাম্পল ঔষধ রাখেন ও বিক্রি করেন আমরা তাদের বিরুদ্ধে লাইন্সেস বাতিলসহ আইনগত ব্যবস্থা নেব।

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ