টেকনাফে ৫০ ইয়াবা,পিস্তল ও কার্তুজ উদ্ধার; বন্দুকযুদ্ধে নিহত-২


১। গােপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় যে, ০৫ জুলাই ২০২০ তারিখ রাতে স্বীলা বিওপি’র দায়িত্বপূর্ণ অবরং
গ্রামের নানীরবাড়ি (স্থানীয় নাম) এলাকা দিয়ে ইয়াবার একটি বড় চালান মিয়ানমার হতে বাংলাদেশে পাচার হতে পারে।
উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) এর বিশেষ টহলদল বর্ণিত এলাকায় দ্রুত গমন করে হৃীলাস্থ
অবরাং গ্রামের নানীরবাড়ি (স্থানীয় নাম) এলাকায় নাফ নদীর তীরে অবস্থান গ্রহণ করে। আনুমানিক ২৩০৫ ঘটিকায়
টহলদল দূর হতে ০২-০৩ জন ব্যক্তিকে সারিয়ে নাফ নদী পার হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেখে। বর্ণিত ব্যক্তিরা
সাতরিয়ে নদীর কিনারায় উঠার সাথে সাথে টহলদল তাদের চ্যালেঞ্জ করলে বিজিবি’র উপস্থিতি লক্ষ্য করা মাত্রই তারা
নদীর কিনারা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তাৎক্ষণিকভাবে টহলদল তাদের ধাওয়া করলে সশস্ত্র ইয়াবা পাচারকারীরা
অতর্কিতভাবে গুলি বর্ষণ করতে থাকে। ফলে ০২ (দুই) জন বিজিবি সদস্য আহত হয়। এ সময় বিজিবি’র টহলদলটি
সরকারী সম্পদ ও নিজেদের জানমাল রক্ষার স্বার্থে কৌশলগত অবস্থান নিয়ে পাল্টা গুলি বর্ষণ করে। উভয় পক্ষের মধ্যে
প্রায় ০৪-০৫ মিনিট গুলি বিনিময় হয়। গােলাগুলির শব্দ থামার পর টহলদলের সদস্যরা উক্ত এলাকা হতে ০২ (দুই) জন
ব্যক্তিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে। গুরুতর আহত ব্যক্তিদের দ্রুত টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া
হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের জরুরী চিকিৎসা সেবা প্রদান করার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর
হাসপাতালে প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে আহত ব্যক্তিদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে অবস্থানরত
কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘােষনা করেন। উল্লেখ্য, বর্ণিত এলাকাটি তল্লাশী করে ১,৫০,০০,০০০/- (এক কোটি
পঞ্চাশ লক্ষ) টাকা মূল্যমানের ৫০,০০০ (পঞ্চাশ হাজার) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও গুলিবিদ্ধ
ব্যক্তিদের নিকট থেকে ০১ (এক) টি চায়না পিস্তল এবং ০২ (দুই) রাউন্ড চায়না পিস্তলের তাঁজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।
উল্লেখ থাকে যে, সাতরিয়ে আসা অবশিষ্ট ০১ জন ইয়াবা কারবারী গুলি করতে করতে উক্ত স্থানে অবস্থিত কেওড়া
বাগানের ভিতর দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি এবং তার সম্পর্কে কোন ধরণের তথ্যও পাওয়া
যায়নি। তবে আহত ব্যক্তিদের হাসপাতালে নেওয়ার সময় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের নিম্নেবর্ণিত পরিচয় পাওয়া যায় ?
মােঃ আলম (২৬), পিতা-মােঃ শফি, ব্লক নং জি ২/ই, শেল্টার নং-৪৫১২৮৪, ৫ নম্বর রােহিঙ্গা শরণার্থী
শিবির কুতুপালং, উখিয়া, কক্সবাজার।
মােঃ ইয়াসিন (২৪), মােঃ এরশাদ আলী, ক্যাম্প নং-১৮, ব্লক নং কে/৩, ২নং বালুখালী রােহিঙ্গা শরণার্থী
শিবির, উখিয়া, কক্সবাজার।
২। উক্ত ঘটনায় আহত বিজিবি সদস্যদের টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সা প্রদান করা হয়েছে। সরকারী
কর্তব্যে বাঁধা প্রদান এবং অবৈধ মাদক পাচারের দায়ে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়ােজনীয় আইনী কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
স্বাক্ষরিত
লেঃ কর্ণেল মােহাম্মদ ফয়সল হাসান খান, পিএসসি
অধিনায়ক, টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)

Print Friendly, PDF & Email
শর্টলিংকঃ